JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ফ্রিতে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট :) Search করুন , "জানাবিডি ডট কম" পেয়ে যাবেন ।

হৃৎপিন্ড ছাড়া বেঁচে ছিল ৫৫৫ দিন

ভয়ানক অন্যরকম খবর 11th Jun 2016 at 12:58pm 524
হৃৎপিন্ড ছাড়া বেঁচে ছিল ৫৫৫ দিন

নাম স্টার লারকিন। জেনেটিকালই তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। একবার বাস্কেটবল খেলতে গিয়ে তার এই সমস্যাটি আরো বড় আকারে দেখা দেয়। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক জানায়, তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপন তো আর চারটি খানি কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডোনার এবং প্রাসঙ্গিক অনেক কিছু। কিন্তু এতদিন তো লারকিনের হৃদযন্ত্র অকেজা হয়ে স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দশা। তাই লারকিনের জীবন বাঁচানোর কার্ডিও ভাস্কুলার অব মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা নিলেন একটি সাহসী পদক্ষেপ।

২০১৪ সালের নভেম্বর মাস। চিকিৎসকরা লারকিনের হৃৎপিন্ড দেহ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন। হৃৎপিন্ডের বদলে সেখানে সংযোগ করে দিলেন একটি কৃত্রিম হার্ট ডিভাইস। যা কৃত্রিম হৃৎপিন্ড হিসেবে লারকিনের দেহে কাজ করবে। চিকিৎসকরা হৃৎপিন্ডের বিকল্প এই কৃত্রিম ডিভাইসের নাম দিলেন ফ্রিডম ডিভাইস। ডিভাইসটিকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় একটি ব্যাগের ভেতর যা সবসময় কাধে বহন করতে হতো তাকে।

ডিভাইস থেকে একটি পাইপ সংযুক্ত করা হয়েছিল তার বুকে। যা কিনা লারকিনের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন স্থিতিশীল রেখে হৃদয়ের স্পন্দন ক্রিয়া ঠিক রাখে।

আর এভাবেই তাকে কাধে করে নিজের জীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে ৫৫৫ দিন। তবে লারকিনের ভাষ্যমতে, ‘কাধে ব্যাগ নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে আমার কোন সমস্যা হতো না। কারণ আমি জানতাম এটাই আমার জীবন যার কারণে আমি বেঁচে আছি। আমি ব্যাগ কাধে নিয়ে বাস্কেট বল খেলতে পারতাম। তবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আমার জন্য নিষেধ ছিল।’ এবছরই মে মাসে অবশেষে লারকিনের জন্য খুঁজে পাওয়াগেলো কাঙ্খিত ডোনার। যদিও মানবদেহে কোন কিছু প্রতিস্থাপন করা একপ্রকার ঝুঁকির কাজ, তার উপর তা যদি হয় হৃৎপিন্ড তা হলেতো কথাই নেই।

তবে যতই জটিলই হোক না কেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় অব কার্ডিওভাস্কুলার সেন্টারের চিকিৎসকরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তা করে দেখিয়েছে।

হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপনের এক সপ্তাহের মাথায় লারকিন ফিরেগেছে তার পরিবারের কাছে। পরিবারের তার স্ত্রীসহ তিনজন সন্তান রয়েছে। টেক্সাস হার্ট ইনস্টিটিউটের একজন সার্জন বিলি কোনের মতে, ‘ বিশ্বে এমন অনেক রোগী আছে যারা জন্মগত হৃৎপিন্ডের সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে ডোনারের অভাবে হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

তাদের কৃত্রিম হার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।’ আর এটাকে বিজ্ঞানের একটি মহৎ উদ্ভাবন বলে মনে করছেন হার্ট বিশেষজ্ঞরা। যার সাহায্যে আর দশ জন সাধারণ মানুষের মতো জীবন ধারণ করা সম্ভব।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 6 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)