JanaBD.ComLoginSign Up

মাহি ও তাপুর আকুতি আম্মুর জন্য ইফতারি পাঠাও

দেশের খবর 12th Jun 2016 at 12:18pm 243
মাহি ও তাপুর আকুতি আম্মুর জন্য ইফতারি পাঠাও

আম্মুর জন্য ইফতার পাঠাও।’ প্রতিদিনের ইফতারে বসে এমন আকুতি জানায় ছোট্ট আক্তার মাহমুদ মাহি (৭) ও তাবাসসুম তাজনীন তাপুর (৪)। তারা এখনো জানে তাদের মা মাহমুদা খানম মিতু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শীঘ্রই বাসায় ফিরবেন।’ তাই প্রতিটি মুহূর্তেই মাকে খুঁজে ফিরছে অবুঝ দুই শিশু।

তারা এখনো জানে না, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরতার প্রতীক ‘মা’ পাড়ি জমিয়েছেন না-ফেরার দেশে। আর কখনো মায়ের মমতামাখা হাত পরশ বুলাবে না তাদের। সদ্য মাকে হারানো শিশুদুটিকে এখন দেখভাল করছেন নানা-নানি, দাদি, ছোট খালা, ছোট চাচ্চু। আর বাবা পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে ছাড়া তো এক মুহূর্ত থাকতে পারছে না অবুঝ দুই ভাই- বোন।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর রামপুরার ভূইয়াপাড়ায় মাহমুদা খানম মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসার নিচে পুলিশের একটি দল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার দরজার কাছে এসে হাত এগিয়ে দিয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে গেলেন। জঙ্গিদের আতঙ্ক সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে একটু অন্যরকম লাগছিল। মুখে সোভা পাচ্ছে খোঁচা-খোঁচা দাড়ি। ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসতেই ছুটে এলো ছেলে মাহি। বাবার কাঁধে চেপে বসল মুহূর্তেই। পাশে বসে খেলছিল মেয়ে তাবাসসুুম। কিছুক্ষণ পরই বাবার কাঁধ থেকে নেমে বোনের সঙ্গে খেলায় যোগ দিল মাহিও। বাবা বাবুল আক্তার চেয়ে রইলেন ছোট্ট ছেলেমেয়ের দিকে। অপলক চোখে। সেই চোখের ভাষায় হয়তো ভিড় করছে হাজারও প্রশ্ন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রিয়তম স্ত্রীকে হারিয়েছেন যিনি।

পুলিশের ধারণা, বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণেই হয়তো তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। তাই মনে-মনে হয়তো নিজেকেই অপরাধী ভাবছেন সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তা!
মাহমুদা মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ পরিবার হওয়ায় মামলা নিয়ে কেউই সরাসরি কথা বলতে চাইলেন না। এরই মধ্যে ওই বাসায় এলেন বেশ কয়েকজন স্বজন। এরপরও ঘুরেফিরে মামলায় কাদের ধরা হয়েছে, প্রকৃত খুনিকে ধরা গেছে কি না এসব নিয়ে, কবে নাগাদ মামলার জট খুলতে পারে এসব কথাবার্তা চলত লাগল।

আলোচনায় উঠে এলো হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পুলিশি কার্যক্রমের নানা দিক। এক পর্যায়ে

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বললেন, এ ধরনের ঘটনায় সন্দেহভাজন অনেক ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা উচিত। অনেকের কাছ থেকেই ছোট-ছোট তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা মূল অপরাধীকে ধরতে কাজে লাগতে পারে। সেটি পুলিশ করছে কিনা কে জানে!
বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ এক স্বজন এই প্রতিবেদককে বললেন, হত্যাকাণ্ডেরর পর তো বেশ কিছুদিন পার হলো। খুনিরা গ্রেপ্তার হলে নিশ্চয় এক ধরনের স্বস্তি পেতাম। সেটি তো হচ্ছে না।

স্কুলে একঘণ্টা আগে মাহিকে পৌঁছে দিতে মেসেজ এসেছিল মাহমুদার মোবাইল ফোনে এর আগে এমনটি জানিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। কিন্তু পুলিশ এটির সত্যতা খুঁজে পাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই মেসেজটি নিয়ে মাহমুদা তার পাশের বাসার এক দারোগার স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছিল। আরও দু-একজন প্রতিবেশীকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারি। এখন পুলিশ খুঁজে দেখুক। এরই মধ্যে আত্মীয়-বন্ধুদের কেউ-কেউ এসে বাবুল আক্তারকে সান্ত¡না দিতে চেষ্টা করলেন।

এরই মধ্যে মাহি-তাবাসসুমের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে ড্রয়িং রুমে এলেন ছোট খালা শায়লা মোশাররফ। কিন্তু ভাইবোন বায়না ধরে বসল, চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে গেলেই তারা খাবে। বাবুল আক্তার বললেন, ঠিক আছে বাবা খাও। বিকালে বেড়াতে নিয়ে যাব।

এরই মধ্যে দুপুরের খাবার শেষ করে বেড়াতে যাওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুত করে দিলেন খালা। তার আগে মাহিকে গোসল করিয়ে দিলেন বাবা। বাবুল আক্তার দুপুরের নামাজ শেষ করে ফোন করলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তাকে। স্ত্রী হত্যা মামলার সর্বশেষ খবররাখবরও নিলেন তিনি। বাবুল আক্তার নিজেও ডাক্তার দেখাতে বের হবেন। ডাক্তার দেখিয়ে বের হবেন দুই সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে। বাসা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে বের হলেন বাবুল আক্তার। বেড়াতে যাচ্ছে তাই খুব খুশি ভাইবোন। সন্তানদের খুশি দেখে মলিন মুখে হাসি ফোটানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করলেন বাবুল আক্তারও। সেটি কেমন হাসি? নাকি হাসির আড়ালের কান্না তা বোঝা গেল না।

উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে চট্টগ্রাম শহরে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)