JanaBD.ComLoginSign Up

ধর্ষণের শিকার শিশুর লাশ ফেলে পালাল মা

দেশের খবর 25th Jun 2016 at 11:23pm 308
ধর্ষণের শিকার শিশুর লাশ ফেলে পালাল মা

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার রূপসী খাতুন নামের সাড়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর লাশ ফেলে পালিয়ে গেছেন মা। পুলিশ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের গরমবেড়িয়া গ্রাম থেকে গতকাল শুক্রবার রাতে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। আজ শনিবার সাতক্ষীরা জেলা সদর হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

শিশুটির মা মোসলেমা খাতুন পলাতক। গরমবেড়িয়ায় তাঁর বাবার বাড়ি। মোসলেমার বিয়ে হয় সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের ফজলুল হক জমাদারের সঙ্গে।

এসব তথ্য জানিয়ে দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউপির সদস্য আবুল কাসেম সরদার বলেন, ‘ফজলু কাজের জন্য বর্তমানে সিলেটে রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মোসলেমা তাঁর শিশুসন্তানটির লাশ নিয়ে বাবার বাড়ি আসেন। আমি বিষয়টি দেবহাটা থানার পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ আসার আগেই মোসলেমা বাবার বাড়ি থেকে সরে পড়েন।’

ইউপি সদস্য আবুল কাসেম সরদার আরো জানান, ফজলু সিলেটে থাকা অবস্থায় মোসলেমা তাঁর স্বামীর বাড়ির পাশের আমবাগানের পাহারাদার সাদ্দাম হোসেন ওরফে খোকনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর মোসলেমা মেয়ে রূপসীকে নিয়ে স্বামী ফজলুর ঘর ত্যাগ করেন। এতদিন তাঁরা অজ্ঞাতবাসে ছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে মোসলেমা মেয়ে রূপসীকে মৃত অবস্থায় বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। লাশ দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা দেবহাটা থানার পুলিশ ও মোসলেমার শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন। রাতে পুলিশ আসে। তার আগেই মোসলেমা পালিয়ে যান। পরে রাতেই পুলিশ মোসলেমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এদিকে লাশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাতে সদর থানা পুলিশ চালককে আটক করে। সারা রাত তাঁকে আটকে রাখে। পরে দেবহাটা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ শনিবার তাঁকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে মোসলেমার শ্বশুরবাড়ি ছনকা গ্রামের ইউপি সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, আজ শনিবার সদর হাসপাতাল মর্গে লাশটির ময়নাতদন্ত হয়েছে। পুলিশ ও চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটিকে আগে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।

এদিকে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রূপসীকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে তার মা মোসলেমা জড়িত রয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিশুটির লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 6 - Rating 6.7 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)