JanaBD.ComLoginSign Up

বাগদাদে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫

আন্তর্জাতিক 4th Jul 2016 at 7:40pm 282
বাগদাদে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গতকাল রোববারের ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ জন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২৫ জন।

এ ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। প্রাণহানির বিচারে চলতি বছর বাগদাদে এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। ইরাকের সরকারি বাহিনী আইএসের কাছ থেকে ফালুজা শহরটি পুনর্দখল করার এক সপ্তাহ পর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

রোববার বাগদাদের কারাদার বিপণিবিতান এলাকার এক রেস্তোরাঁর কাছে ওই আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। পবিত্র রমজান মাসের শেষের দিক হওয়ায় শনিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই এলাকাটি কেনাকাটা করতে আসা লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি ঘাতকদের সাজা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

হামলার সময় এলাকার ভবন ও দোকানগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএস তার ‘চলমান নিরাপত্তা অভিযান’-এর অংশ হিসেবে হামলাটি চালিয়েছে। এই হামলায় একজন ইরাকি অংশ নেন।

আইএস বলেছে, শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে লক্ষ্য করে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলাটি চালানো হয়েছে। উগ্রপন্থী সুন্নিরা শিয়াদের বিপথগামী বলে বিবেচনা করে থাকে। তারা প্রায়ই বাগদাদসহ ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় শিয়াদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।

এদিকে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় গতকাল সকালে আরেকটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

২০১৪ সালের জুনে বাগদাদের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আইএস আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। এরপর বাগদাদে বোমা হামলার মাত্রা কমে যায়। কারণ, স্পষ্টতই আইএস অন্য এলাকাগুলোতে অভিযানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ফালুজায় সামরিক পরাজয়ের পর প্রতিশোধ হিসেবে আইএস সাধারণ নাগরিকদের ওপর আঘাত হানল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মে মাসে বাগদাদে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়।

প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি বাগদাদ শহরে ঢোকে এবং বের হয়। কাজেই এ ধরনের আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রতিরোধ করা কঠিন। তবে দেশটির নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপেও ত্রুটি রয়েছে। তল্লাশি চৌকিগুলোতে নকল বোমা শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত শহর ফালুজা আইএসের কাছ থেকে পুনর্দখল করে ইরাকের বাহিনী। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে দেশটির সরকারবিরোধী যোদ্ধারা শহরটির দখল নেয়। পরবর্তী সময়ে ফালুজা ইরাকে আইএসের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ফালুজা পুনর্দখলের পর ইরাকের বাহিনী এখন আইএসের দখলে থাকা জনবহুল দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল পুনর্দখলের পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালাচ্ছে।

২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বড় অংশ দখলে নিয়ে ইসলামি ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে। এরপর থেকে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শহরগুলোতে বেশ কিছু ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 7 - Rating 4.3 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)