JanaBD.ComLoginSign Up

ghhhggffd

আমিরের ‘অভিশপ্ত’ দুই বল

ক্রিকেট দুনিয়া 14th Jul 2016 at 5:38pm 614
আমিরের ‘অভিশপ্ত’ দুই বল

২৫ আগস্ট ২০১০। ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের লর্ডস টেস্টের আগের দিন। পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটারের এজেন্ট মাজহার মাজিদ বাজিকরদের ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান।

অবশ্য আগেই মৌখিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন মাজিদ। সে অনুযায়ী সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফকে ফিক্সিংয়ের বিষয়টি বুঝিয়ে দেন মাজিদ। কিন্তু সেদিন ছিল প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিকতা, অর্থ লেনদেনের দিনক্ষণ এবং পুরো পরিকল্পনা হাতে-কলমে ঠিক করার প্রক্রিয়া।

ঠিক করা হয় ইংল্যান্ডের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি হবে ‘নো’। বাজিকর প্রস্তাব দেয় আমির কিংবা আসিফ যেকোনো একজন তৃতীয় ওভার করবে। কিন্তু মাজিদ ঠিক করে দেন আমিরই তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি ‘নো’ করবেন। পরিকল্পনামত মোহাম্মদ আমির কাজটি করেন।

তৃতীয় ওভারের প্রথম বল : ইংলিশ বর্তমান অধিনায়ক অ্যালেস্টার কুক ব্যাটিংয়ে। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল কুক ছেড়ে দেন। বিলি বাউডেন ‘নো’ বল কল করেন। কমেন্ট্রিতে থাকা রমিজ রাজা,‘ইটস আ বিগ নো বল।’ কেউ যেন সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য পপিং ক্রিজে শুকনো করে দেন ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকা সালমান বাট। কিন্তু বাজিকরের পাতানো ফাঁদ থেকে বাঁচতে পারেননি তারা!

অবশ্য একই ইনিংসে দ্বিতীয় ফিক্সিংটি করেন মোহাম্মদ আসিফ। দশম ওভারের শেষ বল আসিফ ‘নো’ বল করবেন। আসিফও হতাশ করেননি।

দশম ওভারের শেষ বল : ইংলিশ প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যান্ড্র স্ট্রস ব্যাটিংয়ে। আসিফের বল অফ সাইডে ঠেলে দিয়ে এক রান নেন স্ট্রস। ততক্ষণে আম্পায়ার টনি হিল ‘নো’ বল কল করেন। এবার খলনায়ক বাট পপিং ক্রিজে এসে ভেজা জায়গাটা শুকনো করে দেন।

তৃতীয় ও সর্বশেষ ফিক্সিংটি করেন আমির। আবারো ‘নো’ বল। বাজিকর তার পরিকল্পনামত ঠিক করে দেন ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলটি আবারো ‘নো’ হবে। অল্পবয়সি আমির অর্থের লোভে নিজেকে ‘বিক্রি’ করে দেন।

১৯তম ওভারের তৃতীয় বল : ট্রট ব্যাটিংয়ে। দৌড়ে এসে আমির শর্ট বল করলেন। মাথার উপর থেকে ব্যাট নামিয়ে কোনোমতে অন সাইডে ঠেলে দিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ট্রট। আম্পায়ার বিলি বাউডেন নো বল কল করলেন। টিভি রিপ্লেতে যখন বলটি দেখায় তখন কমেন্ট্রিতে মাইকেল হোল্ডিং বলেছিলেন,‘হাও ফার উয়াজ দ্যাট, ওওও’।

তিনটি ‘নো’ বলের জন্যে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড নিয়েছিলেন মাজিদ। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে মৌখিক বৈঠকে ১০ হাজার পাউন্ড অগ্রিম নেন মাজিদ। লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনই তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আইসিসি সালমান বাটকে ১০ বছর (পাঁচ বছর স্থগিত), আসিফকে সাত বছর (দুই বছর স্থগিত) এবং আমিরকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। বাটকে আড়াই বছর, আসিফকে ১২ মাস এবং আমিরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এজেন্ট মাজহার মাজিদকে দেওয়া হয় দুই বছর আট মাসের শাস্তি। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেন আমির। খেলেছেন এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার টেস্টেও ফিরেছেন সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাও আবার লর্ডসে। বিধাতা আমিরের চিত্রনাট্য নিজেই হয়ত এভাবে লিখে রেখেছেন!

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 5 - Rating 4 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)