JanaBD.ComLoginSign Up

ইসলামের দৃষ্টিতে হাস্য-রসিকতার সীমারেখা!

ইসলামিক শিক্ষা 22nd Jul 16 at 2:30pm 1,180
ইসলামের দৃষ্টিতে হাস্য-রসিকতার সীমারেখা!

টেনশন, হতাশা, বিষাদগ্রস্ততা দূর করার জন্যে হাসি-রসিকতা একটি ভালো উপাদান। মানসিক প্রফুল্লতার জন্যেও হাস্যরসের যথেষ্ট উপযোগিতা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো রসিকতার সীমা মেনে চলা।

সীমা লঙ্ঘন হয়ে গেলে অনেকের মনেই আঘাত লাগতে পারে। তাই সীমারেখাটি আগে জানতে হবে এবং পরে তা মানতে হবে। মানসিক স্বস্তি ও সতেজতা আল্লাহর একটি অনুগ্রহ। যার ভেতরে এই সতেজতা বিদ্যমান সে নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান।

সতেজ মানুষেরা আনন্দ ও প্রশান্তিময়য জীবন যাপন করে। তাঁরা আল্লাহ এবং তাঁর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁরা তাঁদের দুঃখ-কষ্টগুলোকে সৌভাগ্যের সোপান বলে মনে করে।

ইসলামের মতো একটি মুক্তিদাতা দ্বীন আনন্দময় ও আশাবাদী মনের ব্যাপারে উৎসাহিত করে। রাসূলে খোদা (সা.) এর পুরো জীবনটাই ছিল চমৎকার এইসব গুণাবলিতে সমৃদ্ধ। ইসলাম স্বল্প-ধৈর্য, অলসতা, বিমর্ষতা, বিষন্নতাপূর্ণ মানুষ বিশেষ করে আশাহীন ব্যক্তিকে পছন্দ করে না।

পক্ষান্তরে সক্রিয়, সচেষ্ট, আশাবাদী এবং হাসিখুশিময় লোকজনকে পছন্দ করে। ইসলাম সুন্দর এবং হাসিখুশি আচরণকে স্বাগত জানায় যাতে মুসলমানদের মাঝে আত্মিক প্রশান্তি বিরাজ করে। অপরদিকে বিষাদ-বিষন্নতা এবং হতাশার মতো বাজে বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মাঝ থেকে দূরে সরে যায়।

সুন্দর আচার ব্যবহারের একটি প্রকাশ হলো রসিকতা বা কৌতুক প্রবণতা। তবে সেই রসিকতা বা কৌতুক করতে হবে অবশ্যই সীমারেখা মেনে। কোনোভাবেই অপরকে উত্যক্ত করা বা খোঁচা দেয়ার জন্যে কৌতুক করা যাবে না।

ইমাম সাদেক (আ.) এর একটি বর্ণনার উদ্ধৃতি দেয়া যায়।
তিনি একবার ইউনূস শিবাণীকে জিজ্ঞোসা করেছিলেন, ‘লোকজনের সাথে কী পরিমাণ কৌতুক মজা করো? ঐ লোক জবাবে বলেছিল, কম। ইমাম সাদেক (আ.) তখন তিরস্কারের সুরে বলেছিলেন, কেন লোকজনের সাথে হাসি-মজা করো না? হাসি-কৌতুক সুন্দর আচার-ব্যবহার আর সচ্চরিত্রের অংশ।'

ইসলামের দৃষ্টিতে মুমিনদের একটি দায়িত্ব হলো দ্বীনী ভাইদেরকে আনন্দ দেয়া। হযরত আলী (আ.) বলেছেন, রাসূল (সা.) যখনই তাঁর কোনো সহচরকে বিষন্ন বা মনমরা অবস্থায় দেখতেন, তখনই কৌতুক মজা করে তাকে প্রফুল্ল করে তুলতেন এবং বলতেন, নামাযের পর সবচেয়ে
উত্তম আমল হলো মুমিনদের অন্তরকে প্রফুল্ল করা। অবশ্য এমনভাবে হতে হবে যেন তাতে গুনাহের লেশমাত্র না থাকে।

অনেকেই মনে করেন যে হাস্য-রসিকতা ছাড়া জীবন একেবারেই অসহ্য, এটা এক ধরনের নিরাময় শক্তি। স্ট্রেস নিরাময়ে বা টেনশন দূর করার ক্ষেত্রে হাষ্য-রসিকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে বলে মনোবিজ্ঞানীগণও মনে করেন।

তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে হাসি আনন্দ ব্যক্তির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জীবনমান উন্নয়ন আর সমস্যা হ্রাস করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অ্যালেন ক্লেইন ‘কৌতুকের নিরাময় শক্তি' নামক গ্রন্থে লিখেছেনঃ ‘হাসি-আনন্দ-রসিকতা বিষাদগ্রস্ততা, অবসাদ, টেনশন ইত্যাদি থেকে মানুষকে মুক্ত রেখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে, আরো সাহায্য করে নিজের অবস্থা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হতে।

কেননা রসিকতা এমন একটি অস্ত্র যা মানসিক চাপ সৃষ্টির কারণগুলোকে অকার্যকর করে দেয় এবং পরিবেশের ওপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।'

হাস্য রসিকতা বা কৌতুক পরস্পরকে ঘনিষ্ঠ করে তোলে। এ কারণে পরিপূর্ণ জীবন বিধান ইসলামে কৌতুককে বিশেষ করে মুমিনদের জন্যে জরুরি একটি বিষয় বলে মনে করা হয়। অপরদিকে ইসলাম রসিকতার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করাকে ভীষণভাবে নিষেধ করেছে।

ইসলাম কাজ, বিশ্রাম, ইবাদাত ইত্যাদির ব্যাপারে যেমন ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বাস করে তেমনি সর্বক্ষেত্রেই চরমপন্থাকে নিষিদ্ধ করে। ইমাম হাসান (আ.) কে ইমাম আলী (আ.) এক উপদেশ বাণীতে বলেছেন, হে সন্তান আমার! সে-ই ঈমানদার যে তার দিনরাতের সময়গুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেয়।

একটি অংশকে কাজে লাগায় আধ্যাত্মিকতার চর্চা এবং আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার মধ্য দিয়ে। অপর একটি অংশকে কাজে লাগায় পার্থিব জগতের প্রয়োজনীয়তা ও জীবন জীবিকার চাহিদা মেটাতে। আর তৃতীয় অংশটিকে নির্দিষ্ট করে বৈধ এবং হালাল বিনোদন উপভোগ করার জন্যে।

ইসলামের মনীষীগণ উৎফুল্ল হৃদয়ের হওয়া সত্ত্বেও চাতুর্যপূর্ণ রঙ্গ-রসিকতার মাঝে ডুবে গিয়ে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে কখনোই বিসর্জন দেন নি। হাসি আনন্দ করার ক্ষেত্রে কখনোই তাঁরা ভারসাম্য রেখা অতিক্রম করে হারাম বা গুণাহের কাজের দিকে অগ্রসর হন নি।

রাসূল কিন্তু কখনোই নিজে রসিকতাপূর্ণ কথাবার্তা শুরু করতেন না, তবে তিনি তাঁর সঙ্গী সাথীদের জন্যে হাসি-আনন্দের পটভূমি তৈরিতে সহযোগিতা করতেন।

সাহাবিগণও রাসূলে আকরাম (সা.) এর অনুসরণে অপছন্দনীয় রসিকতা পরিহার করে চলতেন। কিন্তু পছন্দনীয় মজা-কৌতুক প্রত্যাখ্যান করতেন না।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,
এক যাযাবর আরব রাসূলে খোদার কাছে আসতেন এবং নবীজীকে উপহার উপঢৌকন দিতেন। কিছুক্ষণ যাবার পর যাযাবর আরব লোকটি বলত, ‘এবার উপহার উপঢৌকনের টাকাটা দিন'। তখন রাসূলে খোদা (সা.) নিজেও হাসতেন। ঐ ঘটনার পর রাসূলে খোদা (সা) যখনই বিষন্নতা বোধ করতেন তখনই বলতেন, ঐ যাযাবর আরব লোকটি কোথায়? ও আসতো যদি...।'

রাসূলে খোদা (সা.) এবং আমিরুল মুমেনিন আলী (আ.) এর খুরমা খাওয়া নিয়েও চমৎকার একটি কৌতুক আছে।

কৌতুকটি হলো একদিন এই দুই মহান মনীষী একসাথে বসে খুরমা খাচ্ছিলেন। রাসূলে খোদা (সা.) খুরমা খেয়ে বিচিগুলো আলী (আ.) এর সামনে রাখতেন। খাওয়া শেষে রাসূল বললেন, যার সামনে বীচি বেশি সে অতিভোজী।

আমিরুল মুমেনিন দেখলেন রাসূলের সামনে কোনো বীচিই নেই, তাই জবাব দিলেন, যে বীচিশুদ্ধ খুরমা খেয়েছে সে-ই বেশি পেটুক!

অপর এক বর্ণনায় এসেছে, একবার আব্দুল মোত্তালেবের মেয়ে রাসূলে খোদার বৃদ্ধা ফুফু সফিইয়্যাহ্ নবীজীর কাছে এলেন। রাসূলকে তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জন্যে একটু দোয়া করো যেন বেহেশ্তবাসী হতে পারি।‘

নবীজী একথা শুনে হাসতে হাসতে মজা করে বললেন, ‘বৃদ্ধ মহিলারা বেহেশতে যাবে না।' সফিইয়্যাহ্ ভীষণ বিষন্ন হয়ে পড়লেন এবং ফিরে গেলেন। নবীজী তখন মুচকি হেসে বললেন, সফিইয়্যাকে বলো বৃদ্ধ মহিলারা আগে তরুণী হবে তারপর বেহেশতে যাবে।

যাই হোক। এই ছিল রাসূলে খোদার কৌতুকের নমুনা। আমরা আমাদের মানসিক প্রশান্তির স্বার্থে অবশ্যই মজা করব, কৌতুক করব, কিন্তু কখনোই অপরকে ঘায়েল করার জন্যে নয়। তা করা হলে সীমালঙ্ঘন করা হবে। আর সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। আমরা যেন কেউ আল্লাহর অপছন্দনীয় বলে গণ্য না হই-সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।-প্যারিস টুডে

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 10 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
স্বপ্নে রোজা রাখা ও ঈদ পালন করতে দেখলে কী হয়? স্বপ্নে রোজা রাখা ও ঈদ পালন করতে দেখলে কী হয়?
Thu at 9:28pm 525
প্রতিবন্ধী শিশুরা কি জান্নাতে যাবে? প্রতিবন্ধী শিশুরা কি জান্নাতে যাবে?
Wed at 2:35pm 597
রাসুল (সা.)-এর পছন্দনীয় খাবার খাওয়া কি সুন্নত? রাসুল (সা.)-এর পছন্দনীয় খাবার খাওয়া কি সুন্নত?
Tue at 10:36am 515
কাঁকড়া খাওয়া কি জায়েজ? কাঁকড়া খাওয়া কি জায়েজ?
Mon at 8:29pm 928
আকিকা দেওয়া কি জরুরি? আকিকা দেওয়া কি জরুরি?
Mon at 11:18am 456
সৌদি আরবে মারা গেলে কি কবরের আজাব হয়? সৌদি আরবে মারা গেলে কি কবরের আজাব হয়?
Sun at 1:30pm 880
অমুসলিমদের দান করা জমিতে কি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে? অমুসলিমদের দান করা জমিতে কি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে?
Sat at 12:48pm 737
ইমাম আংটি পরলে তাঁর পেছনে নামাজ হবে কি? ইমাম আংটি পরলে তাঁর পেছনে নামাজ হবে কি?
Oct 13 at 3:37pm 758

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন

টিভিতে আজকের খেলা : ২১ অক্টোবর, ২০১৭
টিভিতে আজকের চলচ্চিত্র : ২১ অক্টোবর, ২০১৭
হৃত্বিক-কঙ্গনা বিতর্কে মুখ খুললেন সুজান খান
শ্রীলঙ্কাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিলো না পাকিস্তান
বৃষ্টির দিনে প্রেম করার ৭ সুবিধা
ছেলেকে নিয়ে কারিনা, মেয়েকে নিয়ে শহিদ
সাকিবদের দলে দুই চাইনিজ ক্রিকেটার
ইতিহাস গড়লেন ক্রিস লিন