JanaBD.ComLoginSign Up

ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস 25th Jul 2016 at 7:17pm 251
ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

সর্দি-হাঁচি-কাশি যেকোন কারণেই হতে পারে। তার মানে এই নয় যে এসবকে অবহেলা করবেন। কারণ হতে পারে এটি হয়তো ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ। কীভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা যেতে পারে সে ব্যাপারে কলকাতার লিখেছেন ডা. সমুদ্র গুপ্ত।

বেশ কিছুদিন ধরে সর্দিকাশি সারছে না। হালকা জ্বরও আছে। এ তো সিজ়ন চেঞ্জের কুফল বলে অনেকেই ব্যাপারটাকে বিশেষ পাত্তা দেন না। এরকম সাধারণ লক্ষণগুলো যে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাথমিক কারণ হতে পারে, সেটা অনেকেই ভেবে দেখেন না। ফলে, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসাও অবহেলিত হয় অনেকটাই। আরও একটা ব্যাপার অনেকেই ভাবেন না! সেটি হল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বিশেষত বাচ্চা ও বয়স্ক সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশিই। তাই, ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ যতই সাধারণ হোক না কেন, ফেলে না রেখে ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার। তাহলে সেরে উঠতে মোটেও বেশি সময় লাগবে না!

• সমস্যা ও সমাধান
আর পাঁচটা কমন কোল্ড ইনফেকশনের থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জাকে আলাদা করা কঠিন। জ্বর, গলায় ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পরা, প্রবল গা-হাত-পা ব্যথা ইত্যাদিই এর প্রধান লক্ষণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা আসলে একটি ভাইরাল ইনফেকশন। তিন চাররকমের ইনফ্লুয়েঞ্জার কথা সাধারণত আমরা বলে থাকি। গুরুতর অবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিশু ও বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে একটু বেশিই সাবধান থাকা প্রয়োজন। এদের জ্বর, গায়ে প্রবল ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। হতে পারে, ইনফ্লুয়েঞ্জার বদলে নিউমোনিয়ার শিকার হয়েছেন আপনি। এদের বুকে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জার সাধারণ লক্ষণ কিন্তু জ্বর, সর্দিকাশির মতো উপসর্গ। ইনফ্লুয়েঞ্জা সন্দেহে সাধারণত ক্লিনিকাল ডায়াগনোসিস করা হয়। তবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র মতো অসুখের কারণও তো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। সেক্ষেত্রে ল্যাব টেস্ট করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, এরকম সম্ভাবনা তুলনায় বেশ কম। বাচ্চা বা ৬৫ বছরের উপরে বয়স হলে, টেস্ট ইনফেকশন, ডায়াবিটিস, অ্যাজ়মার মতো সমস্যা থাকলে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ, এক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এধরনের জটিলতা হলে তবেই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করার কথা ভাবা হয়। সেকেন্ডারি ইনফেকশন হলে ডাক্তারেরা প্রোফাইলেকটিক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

মনে রাখবেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় সবসময় অ্যান্টিবায়োটিক দিতেই হয়, এমনটা নয়। এমনিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসা প্যারাসিটামল দিয়ে করা হয়। ওষুধের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে বলা হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে ভাইরাল নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে নানারকম সিস্টেমিক সিম্পটম দেখা দিতে পারে। খুব গুরুতর অবস্থায় মাল্টি অর্গান ফেলিওরও হতে পারে। তবে, এরকম সম্ভাবনা খুবই কম। সাধারণ ক্ষেত্রে, ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে সেরে উঠতে সাত-দশ দিন সময় লাগে। তবে মাথাব্যথা, দুর্বলতা, খিদে না থাকা, জ্বরজ্বর ভাব ইত্যাদি লক্ষণগুলো আরও কিছুদিন থাকতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবস্থা আছে। শিশু ও বয়স্ক মানুষরা এই ভ্যাক্সিন নিলে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। বয়স্কদের বছরে একবার করে ভ্যাক্সিন নিতে হয়। এছাড়া ডায়াবিটিকদের জন্যও আলাদা ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা আছে।

পাশাপাশি কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। ধুলোবালি যতটা পারবেন এড়িয়ে চলুন। পার্সোনাল হাইজিনের দিকেও খেয়াল রাখুন। খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে খাবেন। এছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলাও খুব জরুরি। কাশি হলে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে কাশবেন সবসময়। আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জার ইনফেকশন হল ড্রপলেট ইনফেকশন। রোগীর হাঁচি, থুতু ইত্যাদির অংশ রুমাল বা জামায় লেগে থাকলে, তা থেকে বাড়ির অন্য লোকেদের এই ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে খাওয়াদাওয়ার উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় না। তবে রোগীরা বেশিরভাগই কিছু খেতে পারেন না। ফলে সহজপাচ্য খাবার দেওয়াই সবচেয়ে ভাল। আর প্রচুর পরিমাণে ফ্লুইড অবশ্যই খাবেন।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 5 - Rating 4 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)