JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

তিন মাসেই তার সব দাঁত ওঠে

সাধারন অন্যরকম খবর 6th Aug 2016 at 5:12pm 534
তিন মাসেই তার সব দাঁত ওঠে

মায়া জড়ানো হাসিমাখা মুখ বায়েজিদের। তবে কেউ দেখলে চমকে উঠবে। কারণ, চার বছরের এই শিশু দেখতে বৃদ্ধের মতো। মুখ, চোখ, পেটসহ শরীরের চামড়া বয়স্ক ব্যক্তিদের মতো ঝুলে পড়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, তার শারীরিক এই দুরবস্থার কারণ বিরল রোগ ‘প্রোজেরিয়া’।

বায়েজিদের দাদা হাসেম আলী শিকদার বলেন, জন্মের পর বায়েজিদের চেহারা ভয়ংকর দেখাত। ভয়ে কেউ বাড়িতে আসতে চাইত না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধ মানুষের চেহারা ও ভাব ফুটে ওঠে।

ভয়ংকর চেহারা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও মায়ের যত্নে বড় হতে থাকে বায়েজিদ। তবে ওর বৃদ্ধি আর ১০টা স্বাভাবিক শিশুর মতো ছিল না।

মা তৃপ্তি খাতুন বলেন, ‘শিশুরা সাধারণত ১০ মাসের মধ্যে হাঁটা শেখে। কিন্তু বায়েজিদের হাঁটা শিখতে লেগেছিল সাড়ে তিন বছর। আট মাস বয়স পর্যন্ত ও হামাগুড়ি দিতেও পারত না। অথচ তিন মাসের মধ্যেই ওর সব দাঁত ওঠে। মনি (মায়ের আদরের ডাক) স্বাভাবিক চলাফেলা, খাওয়াদাওয়া, বায়না, এমনকি খেলাধুলা সবই করে। কিছু প্রয়োজন হলে চায়।’

বাবা লাভলু শিকদার জানালেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করেছেন ছেলের। ‘২০১২ সালের ১৪ মে মাগুরা মাতৃসদন হাসপাতালে বায়েজিদের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসার পেছনে তিন-চার লাখ টাকা খরচ করেছি। আমি ক্ষুদ্র ব্যবসা আর চাষাবাদ করি। তাই আর পারছি না। কিন্তু ছেলের মুখে দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।’

মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোগটিকে ‘হাতিনসন গিলফোর্ড প্রোজেরিয়া সিনড্রোম’ বা ‘কমনালি প্রোজেরিয়া’ বলা হয়। এটি বিরল জেনেটিক অসংগতি। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের ওই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত ১০০টির মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃদ্ধি ও চোখের আলো স্বাভাবিক থাকলেও ওই রোগে আক্রান্ত শিশু বুড়ো মানুষের মতো চামড়া কুঁচকানো হয়। মাথায় চুল কম হয় বা থাকে না। দুঃখজনক হলো, এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা ১৩-১৪ বছর বয়সের বেশি জীবিত থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালিতে চর্বি জমে। পরে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে মারা যায়।

মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল শিশুটির। ওই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোগটি বিরল। রোগের কোনো প্রতিষেধক বা চিকিৎসাও নেই। জানতে পেরে আমরা তার চিকিৎসা এবং পরামর্শের জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করি। এই টিম উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।’

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 14 - Rating 3.6 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)