JanaBD.ComLoginSign Up

Bangla Love Sms

ছুঁয়ে জোছনার ছায়া

জীবনের গল্প 19th Aug 16 at 10:35pm 2,050
ছুঁয়ে জোছনার ছায়া

মরিয়ম বেগম পান খাচ্ছেন | এসময়টা তার দিনের মধ্যে একটা অমূল্য সময় বলা যায় | যে পরিমাণে পান খায়,তাতে যা মনেহয় মাসে ১০০০ টাকা খরচই হয় তার পানসামগ্রীর পিছনে | যদিও তার টাকার কোন চিন্তা নেই |
দরজা ঠেলে অর্নবের উকি দেয়া মাথাটা দেখে একটু বিরক্তিস্বরে বললেন,কিছু চাও?
- আম্মা আমি কি ভিতরে আসব?
- বাইরে দাড়াইয়া কথা বলা আমার অপছন্দ,জানোনা?
অর্নব দরজাটা আগের মত চাপা দিয়ে এসে মায়ের পায়ে কয়েকবার সালাম করে হেসে দিল |
- হাসো কেন,কি ঘটনা?
- আম্মা আমার একটা চাকরি হইছে,তবে ততটা সুবিধার না | যেকোন সময় ছেড়ে দিতে পারি |
- শুরুর আগেই ছাড়াছাড়ির কথা বলতেছ কেন,গাধা কোথাকার ! বাপের মত হইছ !
অর্নব হাসিটা এখনো থামায়নি,ভালই লাগছে হাসতে |
- বোকা ছেলে,খালি হাসে | আমার এইপাশে পা উঠাইয়া ভালমত বস |
কথামত অর্নব তাইই করল | মায়ের গা ঘেষে একটু আদুরে ভঙ্গিতে |
- পান খাবা আব্বা? নতুন এক মশলা আনাইছি,খুব মজা | দাড়াও একবার খাও,তাইলেই মজা বুঝবা |
অর্নব কেবল মাথা দুলিয়ে চলেছে |
ওর খুব জানতে ইচ্ছে করছে,কতদিন পর মা ওকে 'আব্বা' বলে ডেকেছে | ডাকটা শুনলেনা গলা কেমন ভার হয়ে আসে | অতি আবেগেই হয়ত |
- অর্নব,তোমার দু'ভাইদের খবর কি,তারা কেমন আছে?
- আম্মা আপনি সারাদিন বাসায় থেকে আমাকে এই প্রশ্ন করতেছেন কেন |
- তারা তো আমার সামনেই আসে না | চাকরি বাকরি,বউ পোলাপান নিয়ে ভারি ব্যস্ত | আমার কাছে আসার সময় কই? তুমিও কি বাসায় থাকো না?
- আগামী ৭ দিন মানে ১ সপ্তাহ ধরে আমি বাসায় আসি নাই | কারণ এইরকম বাজারের মত বাসায় থাকতে একদম ভাল্লাগেনা |
- ও,ভাল বলছ |
- আম্মা আমার টিউশনি আছে,গেলাম |
- পানটা খাবা না?
- জ্বি দেন,খেতে খেতে যাই |

শুধুমাত্র বসার ঘরটাই এত্ত সুন্দর করে কেউ সাজাতে পারে বিশ্বাস করাই কষ্টকর | বাব্বাহ্,এইনা হল বড়লোকি বাসা |
টানা কয়েক মাসেও এই রুমের উপর একটুও বিস্ময় কমেনি অর্নবের | পড়াতে এলেই মনে ওলটপালট লেগে যায় রুমের প্রতিটা বস্তু দেখে |
তবে টাশকি খাওয়া কথা হল,বড়লোক সাহেবের একমাত্র সন্তান এবং মেয়ে মানে তাশফি | এই মেয়ের কথাবার্তা,চালচলন তো পুরাই উল্টা |
ক্লাস টেন পড়ুয়া এই মেয়ের সাথে চললে কে বুঝবে,এযে বিরাট রাজার একমাত্র রাজকন্যা | তবে অর্নবের অতটা টাশকি খেতে হয়নি |
কারণটা ওর স্বভাবের | ওর খালি ঐ জড় চাকচিক্যের প্রতিই মনোযোগ অত্যধিক | চাকচিক্যের ভেতরের জীবদের নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই |

"স্যার বসে আছেন কেন,রুমে আসেন"
তাশফির ডাকে ঘোর ভাঙল অর্নবের,হ্যা আসছি |
তাশফিকে দেখে অর্নব এক নিরব ঝামেলায় পড়ে গেছে |
ঝামেলার কথাটা তো আর সরাসরি বলা যাবেনা,চুপ করে থাকাই নিরাপদ | তাই একে নিরব ঝামেলাই আখ্যা দিয়ে ফেলল অর্নব |
আজ হঠাৎ এরকম কেন হয়ে গেল কে জানে | আসোলেই চোখ সামাল দেয়ার মত কঠিন কাজ,পৃথিবীতে খুব কমই আছে | ধ্যত্তরি যত্তসব !
- স্যার আপনার কি কিছু হয়েছে?
একটু চমকে অর্নব বলল,নাহ্ কি হবে? কিছু না |
ইচ্ছেকৃত হাসিটা দিতে গিয়েই ভালই ধরা খেল বেচারা |
- স্যার মিথ্যা বলা মহাপাপ জানেন না? আচ্ছা,আমি বলি আপনার কি হয়েছে? - বল
- আমি আজ শাড়ি পড়েছি,আপনার প্রিয় রঙের | চোখে কাজল দিয়েছি খুব যত্ন করে,এটাও আপনার পছন্দমত | আর এতে আমাকে খুব সুন্দর লাগছে তাই আপনি চোখ নামাতে পারছেন না |
অর্নবের মুখ মিডিয়াম হা হয়ে গেছে | এত নরম ভাবে চরম ধরা জীবনে এই ফাস্ট | ও খোদা,এইটা কি মেয়ে না মহিলা ফেরেশতা !

২.
হামিদ সাহেব রুমে ঘুরেঘুরে কথা বলছেন | একা একা,নিজের সাথে | যখন ভীষন একা মনেহয় এই পৃথিবীতে,তখনি তিনি এরকম করতে থাকেন |
ফলাফল,তিনি একটু একাকিত্বের মাঝেও সান্ত্বনা খুজে পান |
দরজায় খটখট শব্দ হতেই কথা থামিয়ে দিলেন | তিনি মোটামুটি অবাক আর কি |
আমার কাছে কি কারো আসার কথা ছিল,কে আসবে?
আরেকবার শব্দ হল,খট খট খট ! হামিদ সাহেব তড়িঘড়ি করে দরজার ছিটকিনি খুলে ফেললেন |
- আব্বা কেমন আছেন?
হামিদ সাহেব যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না অর্নব এসেছে |
- এতদিন পর বাপের কথা মনে হল তোর |
অর্নব টুপ করে ঘরের মধ্যে ঢুকে একদম সটাং হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় | খুব ঘুম পাচ্ছে ওর |
- কিরে বেটা অসুস্থ নাকি?
- নাহ্
- তবে শুয়ে পড়লি যে? আচ্ছা শুয়ে থাক,তোর জন্য লেবু চা করে নিয়ে আসি | আজ সকালে বাজার থেকে কিনেছি,একদম টাটকা লেবু |
হামিদ সাহেবের ভীষন আনন্দ লাগছে | বাড়ি ছাড়ার পর একমাত্র এই ছোট ছেলেটাই তার খোজখবর রাখে | একদম ভালমত রাখে,কি লক্ষী একটা |

চায়ের কাপে টানা দু'চুমুক দিয়ে অর্নব বলল,আব্বা আপনি না একা থেকে ভালই আছেন | আমিও আর থাকব না ভাবতেছি |
- তাইলে থাকবি কই?
- খালিদের বাসায় | কয়েকদিন ধরে তো ওর বাসাতেই আছি | আমার বন্ধুরা তো আর আমার মত বোকা না আব্বা | ওরা সবাই যে যার মত টাকা পয়সা কামিয়ে একদম পেটফোলা বড়লোক |
- বাদ দে ! তুই যেমন আছিস খুব ভাল আছিস | সততাই সবকিছুর আগে |
তারপরের কয়েকমিনিট কেটে গেল অস্বাভাবিক নিরবতায় | হামিদ সাহেব গভীর মনোযোগে ছেলেকে দেখছেন | চেহারায় কার যেন ছায়া আছে |
কার হতে পারে? মরিয়মের নাকি ওর দাদির?
যার মতই হোক,অর্নবটা দেখতে খুব সুন্দর হয়েছে | দেখলেই সুপুরুষত্বের তৃপ্তি এসে যায় |

৩.
বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল অর্নবের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি সব একখানে |
মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে দিল সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো বাবাজি বাইরে বাইরে কি কর সারাদিন? মদ জুয়া আর কত !
অর্নব খেপলো না,একদমই না | একটুতেই খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে |
- তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে না দুপুর থেকে |
- হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান মশলার খোজ করতে | এসে পড়বে সময়মত |
- তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে গেছে একটা !
- কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি,আর আসব না | এই টাইপের?
- হুম
-ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না | আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান খেতে | হরেক মশলা দিয়ে পান,খুব খেতে ইচ্ছে করছিল | থাক,যাই |
মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি ! বাড়ির সবগুলা একেকটা আস্ত আহাম্মক !

সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা অর্নবকে দেখছে তাশফি,অনেকক্ষন ধরে | অর্নব মাথা নামিয়ে আছে, তাশফিকে দেখতে পায়নি |
তাশফির খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে এই বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক আদর করতে,ইচ্ছেমত |
হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও নিজেই জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না |
সামনে দাড়িয়ে থাকা তাশফিকে দেখে একটু ঘাবড়ে অর্নব বলল,শাড়িটা এখনো পড়ে আছো?
- হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে?
- তোমার আব্বু কোথায়?
- আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো বিদেশ |
- ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু...
- আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে রিলিজ পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে আম্মু তার বাসায় গেছে | আজ রাতে ফিরবে না বলেছে |
- তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা?
- হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো |
- ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না |
- বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার?
- তাশফি আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায় আম্মা নেই তো তাই খেতে পারিনি....আর আমার ঐ বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা | কোথায় গেছে কে জানে | দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে জানো |
- এক্ষুনি আনছি |
এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল তাশফি | আর এক সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার চোখের পানি দেখে ফেলত | একটা মানুষ এত সরল হয় কি করে?
অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে পানি এসে ভরে যায়,তা আজ প্রথম জানলো মেয়েটা |

রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিকশার এদিক ওদিক ছুটে চলা |
পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা !

সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে একটা বোকাসোকা চেহারার ছেলে | ছেলেটানা একটু একটু করে ঘামছে | কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া মেয়েটা তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে আছে | যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে শুভ্র এক মায়াপাখি

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 81 - Rating 5.2 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
আমার দ্বিতীয় বাচ্চা আমার দ্বিতীয় বাচ্চা
24th Dec 17 at 3:03pm 1,720
দ্য লিটিল বয় অ্যান্ড দ্য ওল্ড ম্যান দ্য লিটিল বয় অ্যান্ড দ্য ওল্ড ম্যান
5th May 17 at 5:45pm 3,690
এ.পি.জে আব্দুল কালামের জীবন থেকে নেয়া একটি অসাধারন গল্প এ.পি.জে আব্দুল কালামের জীবন থেকে নেয়া একটি অসাধারন গল্প
17th Mar 17 at 12:13am 4,689
বসন্ত - জীবনের গল্প বসন্ত - জীবনের গল্প
18th Oct 16 at 5:34pm 3,207
নক্ষত্রের গল্প নক্ষত্রের গল্প
9th Sep 16 at 9:37am 3,118
তুই ফেলে এসেছিস কারে মন তুই ফেলে এসেছিস কারে মন
1st Sep 16 at 8:35am 3,336
দুইবোনের আবদার দুইবোনের আবদার
12th Jun 16 at 12:37pm 3,214
ছোট গল্পঃ জীবনে কিছু কিছু স্বপ্ন থেকে যায় । ছোট গল্পঃ জীবনে কিছু কিছু স্বপ্ন থেকে যায় ।
30th May 16 at 1:21am 5,100

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন
সালমানের বিতর্কিত ৬ ঘটনাসালমানের বিতর্কিত ৬ ঘটনা
ঝড় বৃষ্টিতে যে দোয়া পড়তে হয়ঝড় বৃষ্টিতে যে দোয়া পড়তে হয়
ভুল করে শাহরুখের অফিসে জ্যাকুলিন!ভুল করে শাহরুখের অফিসে জ্যাকুলিন!
লেবুর খোসা নিয়মিত খেলে যে উপকার হয়লেবুর খোসা নিয়মিত খেলে যে উপকার হয়
ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে জয় পেলো কোহলিরাডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে জয় পেলো কোহলিরা
সেভিয়াকে বিধ্বস্ত করে ৩০তম শিরোপা জিতলো বার্সাসেভিয়াকে বিধ্বস্ত করে ৩০তম শিরোপা জিতলো বার্সা
টিভিতে আজকের খেলা : ২২ এপ্রিল, ২০১৮টিভিতে আজকের খেলা : ২২ এপ্রিল, ২০১৮
স্নাতক পাশেই আবুল খায়েরে চাকরি সুযোগস্নাতক পাশেই আবুল খায়েরে চাকরি সুযোগ