JanaBD.ComLoginSign Up

ভারতে গরুর মাংস খাওয়ায় বাবা-মাকে হত্যা করে দু’বোনকে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় !

আন্তর্জাতিক 12th Sep 2016 at 11:24am 1,196
ভারতে গরুর মাংস খাওয়ায় বাবা-মাকে হত্যা করে দু’বোনকে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় !

ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার অজুহাতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বর্বরতার খবরে বিভিন্ন রাজ্যে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে প্রায়শই। প্রকাশ্যে নির্যাতন, হত্যা, হুমকির মধ্যে এবার ভয়াবহ অভিযোগ এক উঠেছে উগ্রবাদী হিন্দু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

হারিয়ানার মুসলিম অধ্যুষিত জেলা মেওয়াটে এবার গরুর মাংস খেয়েছে এমন সন্দেহে একদল ধর্মীয় উগ্রবাদী এক নারী (২০) ও তার তার চাচাতো বোনকে গণধর্ষণ করেছে। শুধু তাই নয়, এসময় অশায় ঐ দুই তরুনীর অভিভাবকদের বেঁধে রেখে তাদের সামনেই ধর্ষণ করা হয় ঐ দুই তরুনীকে। এরপর বীরদর্পে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয় ঐ তাদের অভিভাবকদের। মধ্যযুগীয় এমন বর্বরতার ঘটনায় মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও আতংক। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রোববার প্রকাশ করেছে ভারতীয় গনমাধ্যম এনডিটিভি।

ধর্ষণের পর প্রকাশিত সংবাদের সুত্রে, ঘটনার শিকার ঐ দুই তরুনী জানায়, ” এটা শুধুই গরুর মাংস খাওয়ার শাস্তি! কল্পনাও করতে পারিনি এমন ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছিলো আমাদের জন্য” ।

দিল্লীতে মানবাধিকার কর্মী শবনম হাসমির উপস্থিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই দুই নারী তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা দেন।

তারা জানান, গত ২৪ আগস্ট একদল লোক তাদের বাড়িতে ঢুকে তার চাচা-চাচিকে বেঁধে ফেলে। এরপর তাদের সামনেই দু’বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করতে থাকে। এ বর্বতার প্রতিবাদ করায় তার চাচা-চাচিকে পিটিয়ে হত্যা করে ধর্ষকের দল। এ ঘটনার পর ওই ধর্মীয় উগ্রবাদীদের ভয়ে মুখ খোলেননি।

পরে দিল্লীতে মানবাধিকার কর্মী শবনম হাসমির সহায়তায় সংবাদ সম্মেলনে তাদের উপর চালানো বর্বরতার বর্ননা দেন। এরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওই এলাকা থেকে চার বখাটেকে গ্রেফতার করেছে। পরে পুলিশ জানতে পারে আসলে তারা গো-রক্ষক কমিটির কেউ না। এলাকার চিহ্নিত পাণ্ডা তারা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধর্ষণের দিন সকালে তারা মদ্যপান করে গোমাংস খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে ওই বাড়িতে হানা দেয়। গোমাংস খাওয়া হারিয়ানায় সরকারীভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রায়ই সংখ্যালঘুদের উপর মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে ক্ষমতাসীনদের নির্যাতন করতে দেখা যায়।

হারিয়ানা রাজ্য পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্যাতিতারা আগে কোনো অভিযোগ না করায় এতোদিন অপরাধীদের গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ প্রথমে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আরোপ করে, পরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল করলে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, হারিয়ানায় গরু জবাই, মাংস বিক্রি বা সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। এ আইন ভঙ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা এবং এক থেকে পাঁচ লাখ রুপি অর্থদণ্ড। এদিকে, কুরবানির ঈদের আগে হারিয়ানার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা মেওয়াটে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

কথিত বিরিয়ানি পুলিশদের সংগ্রহ করা ৭টি নমুনায় ল্যাবরেটারি টেস্টে গরুর মাংশের অস্তিত্ব পাওয়ায় এ আতংক দেখা দিয়েছে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)