JanaBD.ComLoginSign Up
জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

ক্রিকেট ইতিহাসের ৫ চাঞ্চল্যকর ম্যাচের ঘটনা!

ক্রিকেট দুনিয়া 20th Sep 2016 at 6:30pm 1,028
ক্রিকেট ইতিহাসের ৫ চাঞ্চল্যকর ম্যাচের ঘটনা!

ক্রিকেটকে সবাই ভদ্রলোকের খেলা বললেও বানিজ্যিকীকরণের প্রভাব পড়েছে খেলোয়াড়দের মনোজগতে। অনেক কিছুর মতো ‘অর্থই অনর্থের মূল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেটেও। টাকার পেছনে ছুটতে থাকা বেশ কিছু ক্রিকেটার নীতি বিসর্জন দিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন ম্যাচ গড়াপেটার মতো ঘটনায়। টাকার বিনিময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ হেরেছেন অথবা নিজেদের দলের পরিকল্পনা ফাঁস করে দিয়েছেন বুকিদের কাছে। ক্রিকেটের এমনই পাঁচটি চাঞ্চল্যকর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন।

দ্য হ্যান্সি গেট :
এই শতককের ঠিক শুরুতে ফিক্সিংয়ের ঘটনায় প্রায় টলমল হয়ে পড়ে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্রিকেটের ইতিহাসের জঘন্যতম ম্যাচ ফিক্সিংয়ের এই ঘটনাকে বলা হয় ‘দ্য হ্যান্সি গেট’। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার একাধিক খেলোয়াড় জড়িয়ে পড়েন এই কেলেঙ্কারিতে। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে ২-০ তে সিরিজ জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সেই সিরিজেই দিল্লি পুলিশ ক্রোনিয়ের ফোন-কলে আড়ি পাতে। পুলিশ অভিযোগ আনে, ম্যাচের আগে সন্দেহজনক কাউকে ম্যাচ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। তবে ক্রনিয়ে তা অস্বীকার করেন। তবে কয়েক দিন বাদে ক্রোনিয়ে নিজেই বিষয়টি স্বীকার করে নেন।

সেই সফরের দ্বিতীয় টেস্টের আগে ক্যালিস, ক্লুজনার আর বাউচারকে টাকার বিনিময়ে ম্যাচ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন ক্রোনিয়ে। হ্যান্সি গেট কেলেঙ্কারিতে ক্রনিয়ে ছাড়াও ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা, মনোজ প্রভাকর এবং দক্ষিন আফ্রিকার হার্শেল গিবস, নিকি বোয়ে এবং হেনরি উইলিয়ামসের নামও উঠে আসে। এই ঘটনায় ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় ক্রোনিয়ে , আজহারউদ্দীন, মনোজ প্রভাকরদের। হার্শেল গিবস ও হেনরি উইলিয়ামসকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

কির্স কেয়ার্নস :

ব্যাটিং, বোলিং সবদিক দিয়েই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন ক্রিস কেয়ার্নস। ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী অলরাউন্ডার মনে করা হয় তাকে। কেয়ানর্সের বিপক্ষে অভিযোগটা আনেন সতীর্থ লু ভিনসেন্ট। তার অভিযোগ ২০০৮-এ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে খারাপ পারফরম্যান্স করার জন্য কেয়ার্নস তাকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন।

ওই বছরই প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যান লোলিত মোদী কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনেন। তারপর থেকেই ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে ৬২টি ওয়ানডে ও ২১৫টি টেস্ট খেলা কেয়ার্নস ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অন্যতম সেরা ‘নায়ক’ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনায় কেয়ার্নসের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম ও আন্দ্রে এডামস। তবে গত বছর ফিক্সিংয়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পান এই অলরাউন্ডার।

মোহাম্মদ আমির-সালমান বাট ও মোহাম্মাদ আসিফ (পাকিস্তান):

২০১০ সালে ম্যাচ পাতানোর আরেক অভিনব পদ্ধতি দেখান সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান বাট-বোলার মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। ৫ আগস্ট ২০১০। পাকিস্তানি জুয়াড়ি মাজেদ মাজহারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে খোদ ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে ম্যাচ গড়াপেটা করেন সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। এই তিনজনকে ফিক্সিংয়ের বিষয়টি বুঝিয়ে দেন মাজিদ।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি, নবম ওভারের তৃতীয় বল ও ১৯৩ম ওভারের তৃতীয় বলটি হবে ‘নো’ বল। পরিকল্পনামত মোহাম্মদ আমির তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে বিশাল বড় এক নো বল করেন। আর কমেন্ট্রিতে থাকা রমিজ রাজা,‘ইটস আ বিগ নো বল।’ ইনিংসের দ্বিতীয় ‘নো’ বলটি করেন আসিফ। তৃতীয় ও সর্বশেষ নো বলটি করেন আমির। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলটি আবারো ‘নো’ করেন তিনি। টিভি রিপ্লেতে যখন বলটি দেখানো হয় ধারাভাষ্যকার মাইকেল হোল্ডিং বলেন,‘হাও ফার উয়াজ দ্যাট, ওওও’।

তিনটি ‘নো’ বলের জন্যে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড নিয়েছিলেন বাট-আমের-আসিফ। এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সালমান বাট ১০ বছর, আসিফ সাত বছর ও আমির পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন।

শেন ওয়ার্ন-মার্ক ওয়াহ :
১৯৯৪ সালে সিঙ্গার কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে টাকার বিনিময়ে দল এবং পিচ সংক্রান্ত তথ্য পাচার করেন এই দুই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার। ১৯৯৮ সালে এই ঘটনা প্রকাশ পেলে তোলপাড় হয়ে যায় ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়ার্ন ও মার্ক ওয়াহ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটার সেলিম মালিক তাদের বাজে খেলার প্রস্তাব দেয়। এজন্য প্রায় দুই লাখ ডলারও পান তারা। তবে এই ঘটনায় তাদের নিষিদ্ধ করা হয়নি। ৮০০০ ডলার জরিমানা করা হয় যা তাদের ক্যারিয়ারে কালো দাগ হয়ে রয়েছে।

আইপিএল কেলেঙ্কারি:
আইপিএলের ষষ্ঠ আসরে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হন। সে আসরে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে পেসার শ্রীশান্ত, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে বোলার চান্ডিলা আর স্পিনার চাভান মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ গড়াপেটা করেছেন বলে অভিযোগ আনে আইপিএল কতৃপক্ষ ও পুলিশ।

এক ওভারে ১৪ বা তার বেশি রান দেয়ার জন্য শ্রীশান্ত পান ৪০ লাখ রুপি, চান্ডিলা ও চাভান পান ২০ লাখ রুপি! ৫ মে, পুনে-রাজস্থান ম্যাচে চান্ডিলা তার নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৪ রান। দ্বিতীয় ঘটনা ৯ মে, রাজস্থান-পাঞ্জাব ম্যাচে। সেই ম্যাচে শ্রীশান্ত তার দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৩ রান। এরপর স্পট ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করেন শ্রীশান্ত।

সূত্র: ইয়াহু ক্রিকেট, এনডিটিভি

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 33 - Rating 9.1 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)