JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

৫০ বছর ধরে গর্ভবতী থাকার পরে গর্ভের ভ্রূণ পরিণত হল পাথরে

সাধারন অন্যরকম খবর 26th Sep 2016 at 9:59am 528
৫০ বছর ধরে গর্ভবতী থাকার পরে গর্ভের ভ্রূণ পরিণত হল পাথরে

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় অর্ধ শতক আগে। ১৯৭৮ সালে চিলির এস্টা মেলেন্ডেজ গর্ভধারণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই ডাক্তাররা জানান লা বোকার এই বাসিন্দার গর্ভ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। যার পরিণামে এস্টার গর্ভের সন্তান গর্ভেই মারা যায়। এস্টা দুঃখ পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এ নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন বোধ করেননি।

ঘটনার দ্বিতীয় পর্ব সাম্প্রতিক কালের। এস্টার বয়স এখন ৯২ বছর। পেটের ব্যথায় ডাক্তারের দ্বারস্থ হন এস্টা। ডাক্তাররা পেটের ব্যথার কারণ অনু‌সন্ধান করতে গিয়ে এস্টার স্ক্যান এবং এক্স-রে করেন। সেইসব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখতে গিয়ে ডাক্তারদের চোখ কপালে ওঠে। কারণ তাঁরা দেখেন, এস্টার গর্ভে এখনও রয়ে গিয়েছে তাঁর সেই মৃত সন্তানের ভ্রূণ। কিন্তু ভ্রূণটি পরিণত হয়েছে এক দলা পাথরে।

ডাক্তারি পরিভাষায় এই ধরনের ভ্রূণকে বলা হয় লিথোপেডিয়ন। এক্ষেত্রে গর্ভে মৃত সন্তান গর্ভের ভিতরেই রয়ে যায়। কিন্তু মায়ের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ওই ভ্রূণের চারপাশে গড়ে তোলে ক্যালসিয়ামের একটি আবরণ, যাতে মৃত ভ্রূণের দেহাংশ পচে গিয়ে বা মায়ের শরীরের সঙ্গে মিশে গিয়ে মাতৃশরীরের কোনওভাবে ক্ষতি করতে না পারে। এস্টার শরীরেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। ফলে তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণটি পাথরের দলার আকার নিয়েছে। সেই প্রস্তরীভূত ভ্রূণের ওজন দাঁড়িয়েছে ৪.৪ পাউন্ড। অর্থাৎ প্রায় ২ কেজি।

কিন্তু এতদিন এমন দু’ কেজির একটি ভ্রূণকে কীভাবে গর্ভে বয়ে বেড়ালেন এস্টা। বর্তমানে বৃদ্ধা এস্টা জানিয়েছেন, তিনি কোনওদিন কোনও সমস্যাই অনুভব করেননি। তবে হ্যাঁ, প্রথমবার গর্ভধারণের সময় থেকেই অল্প ফুলে থাকত তাঁর পেটটি। তাছা়ড়া জীবনে আর দ্বিতীয়বার গর্ভসঞ্চার হয়নি তাঁর। কিন্তু তার নেপথ্যে যে এমন একটি আশ্চর্য কারণ ক্রিয়াশীল রয়েছে তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

সান আন্তোনিওর যে হাসপাতালের ডাক্তাররা এস্টার এই গর্ভরহস্য ভেদ করেছেন, তাঁদের মুখপাত্র হিসেবে ডাক্তার মার্কো ভার্গাস লাজো জানান, লিথোপেডিয়ন ভ্রূণ অতি বিরল একটি বিষয়। জার্নাল অফ দি রয়্যাল সোশ্যাইটি অফ মেডিসিন থেকে জানা যায়, এস্টার আগে লিথোপেডিয়ন ভ্রূণের দৃষ্টান্ত পাওয়া গিয়েছে মাত্র ২৯০ জন মহিলার শরীরে। তবে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, প্রস্তরীভূত ভ্রূণটি এস্টার শরীর থেকে সরানো হবে না। কারণ সেটা করতে গেলে যে জটিল অপারেশন প্রয়োজন, তার ধকল ৯২ বছরের এস্টা সইতে পারবেন না বলেই তাঁদের ধারণা। তবে এতদিন যখন এই ভ্রূণের জন্য কোনও সমস্যা দেখা দেয়নি এস্টার, তখন বাকি জীবনটুকুও নির্বিঘ্নেই কাটবে তাঁর— এমনটাই মনে করছেন ডাক্তাররা।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 2 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)