JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

৩০ সেকেন্ড মানে সাড়ে ২৫ মিনিটের ব্যাঘাত

বিবিধ টেক 30th Sep 2016 at 7:39am 362
৩০ সেকেন্ড মানে সাড়ে ২৫ মিনিটের ব্যাঘাত

মনে করুন আলবার্ট আইনস্টাইন জটিল সব গাণিতিক সমস্যা সমাধানে গভীর চিন্তামগ্ন। এমন সময় টুট টুট শব্দে তাঁর মুঠোফোন জানান দিল ফেসবুকে কেউ তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কী করতেন? বিরক্ত হতেন, মনোযোগ ছুটে যেত। মোটকথা, কাজে বাধা পড়ত। গভীর মনোযোগের সঙ্গে কাজ করলে যুগান্তকারী কোনো উদ্ভাবন সম্ভব হতে পারে, মনোযোগে বাধা পড়লে তা সম্ভব হয় না।

একসঙ্গে একাধিক কাজ করা বা মাল্টি-টাস্কিংয়ের ক্ষমতা মানুষের থাকলেও তাতে কোনো কাজই ঠিকঠাক হয়ে ওঠে না। এ নিয়ে গবেষণাও কম হয়নি। কোনো গবেষণার ফলই ইতিবাচক নয়। প্রথমে ছিল রেডিও, পরে টিভি, বর্তমান সময়ের গবেষণাগুলো বলছে, মূল সমস্যা হলো স্মার্টফোনের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীলতা।

একে তো সহজে বহনযোগ্য—সব সময় আপনার সঙ্গে থাকছে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার প্রধান উপায়ে পরিণত হয়েছে স্মার্টফোন। ফেসবুক হোক, টুইটার কিংবা ই-মেইল—সব সময় কেউ না কেউ যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মুঠোফোন আসক্তির একটা ফল হলো, আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। সেটা পড়াশোনা থেকে হোক, কাজ থেকে হোক কিংবা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে। সে মনোযোগ ফিরে পেতেও সময় লাগছে। এক গবেষণা বলছে, কাজের ফাঁকে ফেসবুকে ৩০ সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে নেওয়া মানে শুধু ৩০ সেকেন্ড না, প্রায় ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের কর্মবিরতি। এই সমস্যাকে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশন’। বিভিন্ন গবেষণার ফল এতে তুলে ধরা হলো।

* কাজে বাধা পড়লে গড়ে ২৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড লাগে পুনরায় মনোযোগ ফিরে পেতে।
* উচ্চ মানসিক চাপ, খারাপ মেজাজ এবং কম উৎপাদনশীলতার কারণ এই মনোযোগে বাধা।
* যুক্তরাষ্ট্রে মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হয় ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশনের জন্য।
* শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কাটানো সময়ের এক-পঞ্চমাংশ তাঁদের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে ব্যয় করে যা তাঁদের শ্রেণিকক্ষের কাজের সঙ্গে জড়িত না।
* ইন্টারনেটের যুগে জন্মগ্রহণকারীদের ডিজিটাল নেটিভ বলা হয়। এরা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৭ বার কাজ পরিবর্তন করে!
* যদি কোনো শিক্ষার্থী প্রতি ১৫ মিনিটে একবার ফেসবুকে ঢুঁ মারে তবে তার পরীক্ষার ফল খারাপ হয়।
* কাজের সময় ই-মেইল বা টিভি দেখলে মস্তিষ্কের ভুল অংশে তথ্য জমা হয়। প্রয়োজনের সময় সে তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হয়।
* আসক্তি থেকে অনেক সময় ‘ফ্যানটম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’ নামের মানসিক রোগ দেখা দেয়। এতে মোবাইল ফোনে কল না এলেও মনে হতে থাকে যেন রিং বা ভাইব্রেশন হচ্ছে।
- প্রথম আলো

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 10 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)