JanaBD.ComLoginSign Up
জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

ফযীলত ও মর্যাদাপুর্ন জুম্মার দিনে মোমিনগণের জন্যে কি কি করনীয়?

ইসলামিক শিক্ষা 7th Oct 16 at 12:33pm 666
ফযীলত ও মর্যাদাপুর্ন জুম্মার দিনে মোমিনগণের জন্যে কি কি করনীয়?

আপনি প্রতিদিন জামাতে সব সালাত আদায় করছেন তো ?? আজ জুম্মাবার মনে রাখবেন।

”হে ইমানদারগণ, জুমুআর নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্বরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।” (সূরা জুমুআ: ৯)

সুপ্রিয় ভাই, আমরা জানি জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য বহন করে। এর রয়েছে অনেক ফযীলত ও মর্যাদা। রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ করেন “{মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও” সুরাহ জুম্মাহ শরিফঃ আয়াত শরিফ ৯-১০}

এখন দেখি হাদীস শরিফে কি বলা হয়েছেঃ জুম্মার ‍দিনের মর্যাদা: হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বলেছেন, জুম’আর দিন সকল দিনের সর্দার। আল্লাহর নিকট সকল ‍দিনের চেয়ে মর্যাদাবান। কোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান।

আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবো। যদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর জেনে রাখো এই (জুম্মার) দিনটি আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আমাদের দান করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছে। ইহুদীরা জুম্মার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম)



জুম্মার দিন মুসল্মানদের জন্যে কি কি করনীয়ঃ

আসুন আমরা সবাই জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে যাই, আমি আপনি যদি একটু আগে ভাগে মসজিদে যাই তবে এর জন্য অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদিস শরিফ উনার মধ্যে আছে জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বলেছেন, “যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম্মার সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সমান সওয়াব লিখা হয়। আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “জুম্মার দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) সে নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)।

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমরা যখন মসজিদে যাই তখন সেখানে তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাই, যা হুজুর পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়ঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়।

(ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না।
(খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না।
(গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুম্মার হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়াল মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)

যে সকল মুসলমান জুম্মার নামাজ অত্যন্ত আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে আদায় করে, সেই সকল আদায়কারীদের জন্য দুই জুম্মার মধ্যবর্তী সময় গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম্মার থেকে পরবর্তী জুম্মার, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

জুমু’আর দিনে কিছু করণীয় কাজ নিচে দেয়া হলোঃ

ফজরের আগে গোসল করা।
ফজরের ফরজ নামাজ়ে সূরা সাজদা [সিজদা] ও সূরা দাহর/ইনসান তিলাওয়াত করা।
উত্তম পোষাক পরিধান করা।
সুগন্ধি লাগানো।
প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়া।
সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা।
মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকা’আত সুন্নত আদায় করা।
ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা।
মনযোগ দিয়ে খুৎবাহ শোনা। খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের কোন কথা না বলা; এমনকি কাউকে কথা বলতে দেখলে তাকে কথা বলতে বারণ করাও কথা বলার শামিল।
দুই খুৎবাহর মাঝের সময়ে দু’আ করা।
অন্য সময়ে দু’আ করা। কারণ এদিন দু’আ কবুল হয়।
রসূলের উপর সারাদিন বেশী বেশী দরূদ পাঠানো।

জুমু’আর দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ

এই দিনে আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে।
এই দিনে আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আ:)-কে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন।
এই দিনে আদম (আ:) মৃত্যুবরণ করেছেন।
এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে হারাম ছাড়া যে কোন জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা প্রদান করেন।
এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই আসমান, যমীন ও আল্লাহর সকল নৈকট্যশীল ফেরেশতা জুমু’আর দিনকে ভয় করে।
(ইবনে মাজাহ্, মুসনাদে আহমদ)

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 7 - Rating 5.7 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান- কথাটা কি ঠিক? আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান- কথাটা কি ঠিক?
Yesterday at 1:35pm 216
মসজিদের নিচতলায় দোকান করা কি জায়েজ? মসজিদের নিচতলায় দোকান করা কি জায়েজ?
Tue at 10:33pm 275
যৌতুক নেওয়া কি হারাম? যৌতুক নেওয়া কি হারাম?
Tue at 9:05pm 290
আকিকার মাংসের কোনো বণ্টন পদ্ধতি কি আছে? আকিকার মাংসের কোনো বণ্টন পদ্ধতি কি আছে?
Sun at 10:07pm 262
স্বামী খুশি হয়ে স্ত্রীর নামে জমি লিখে দিতে পারবে কি? স্বামী খুশি হয়ে স্ত্রীর নামে জমি লিখে দিতে পারবে কি?
Sun at 2:55pm 307
প্রতিষ্ঠানের কর্তা অমুসলিম হলে কি সালাম দেওয়া যাবে? প্রতিষ্ঠানের কর্তা অমুসলিম হলে কি সালাম দেওয়া যাবে?
Sun at 12:37pm 402
নারীরা কি মাজারে যেতে পারবে? নারীরা কি মাজারে যেতে পারবে?
Sat at 10:45pm 332
নিজের মৃত্যুর জন্য কি দোয়া করা যাবে? নিজের মৃত্যুর জন্য কি দোয়া করা যাবে?
Fri at 2:43pm 508

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন

টিভিতে আজকের খেলা : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
টিভিতে আজকের চলচ্চিত্র : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
মুক্তি পেল ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ এর প্রথম গান
ভুল সম্পর্কে জড়িয়েছেন কিনা বুঝবেন যে ৬টি লক্ষণ দেখে
বাইশ গজে আবার শোয়েব-সেবাগ লড়াই
স্বামী, সন্তান আঁকড়ে বাঁচতে চাই : অপু
বলিউডের সবচেয়ে ধনী ৫ অভিনেতা
ডিম কাদের জন্য উপকারী, কাদের জন্য ক্ষতিকারক?