JanaBD.ComLoginSign Up

ক্রিকেটে নাইট ওয়াচম্যানদের ১০টি রেকর্ড (প্রথম পর্ব)

ক্রিকেট দুনিয়া 22nd Oct 2016 at 9:18pm 626
ক্রিকেটে নাইট ওয়াচম্যানদের ১০টি রেকর্ড (প্রথম পর্ব)

চলতি চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলায় তখন ১৪ বল বাকি। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং করছে। মুশফিকুর রহিম আউট হয়ে যান বেন স্টোকসের বলে। তখন সাকিবকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন বোলার শফিউল।

টেস্ট ক্রিকেটে কখনো কখনো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান না নামিয়ে, আনকোরা ব্যাটসম্যান নামানো হয়। দলের প্রয়োজনে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে দিনের শেষ দিকে এসে হারাতে না চাইলে এই কাজ করা হয়। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় একেই বলা হয় নাইট ওয়াচম্যান। শফিউলকে গতকাল বিকেলে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়। এই ভাবে পরের দিনের জন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে রক্ষা করা হয়।

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কয়েকটি রেকর্ড আছে যেখানে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে লম্বা ইনিংস খেলেছেন। স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের মতো রান করেছেন, তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি।

• নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে উল্লেখযোগ্য রান করে দলকে সাপোর্ট করেছেন এমন ১০ ইনিংসের আজ দেখুন প্রথম পর্ব.....

১. জ্যাক রাসেল (ইংল্যান্ড) : ১৯৮৮ সালে লডর্স টেস্টে শ্রীলংকা প্রথম ইনিংসের প্রথমে দিনে ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। দিনের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শুরু হয়।

কিন্তু প্রথম উইকেট পড়ে গেলে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রাসেল নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে তিনে ব্যাট করতে নামেন। পড়ে তিনি ৯৪ রান করেন। আর এই রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের টোটাল সংগ্রহ হয় ৪২৯ রান। যা ইংল্যান্ডকে ওই টেস্টে ৭ উইকেটে জিততে সাহায্য করেছিল।

২. ইডি হেমিংস (ইংল্যান্ড) : ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্ট ছিল এটি। নিজেদের দখলে থাকা অ্যাশেজ ধরে রাখতে হলে এই টেস্ট ইংল্যান্ডকে জিততে হবে। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ৪৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ে নামে। প্রথম ওভারে তিন রানের মাথায় জিওফ কোকের উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড বিপদে পড়ে যায়।

পরে হেমিংসকে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হয়। হেমিংস ওই দিন বিকেল থেকে পরের দিন খেলে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জেতানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড পঞ্চম দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৪ রান করে এবং ম্যাচ ড্র হয়। হেমিংস ৯৫ রানে আউট হন। এই ম্যাচ ড্রয়ের পর পাঁচ টেস্টের সিরিজ ২-১ হেরে যায় ইংল্যান্ড। আর এই ড্রয়ের কারণে ১৯৭৭ সালে পাওয়া অ্যাশেজ হারায় ইংল্যান্ড।

৩. হ্যারল্ড লারউড (ইংল্যান্ড) : হ্যারল্ড লারউড ১৯৩২-৩৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বডিলাইন সিরিজের জন্য ব্যাপক পরিচিতি। পাঁচ টেস্টের সিরিজের শেষটিতে সিডনিতে বোলার লারউডকে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে পাঠানো হয়। তিনি আড়াই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ৯৮ রান করেন। লেগ স্টাম্পের উপরে ব্যাটসম্যানের শরীর বরাবর বল করার জন্য তিনি খুব বিতর্কিত হন ওই সিরিজে।

যা বডিলাইন সিরিজ নামেও পরিচিত। ওই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস লারউড একাই ধ্বসিয়ে দেন। ফলে বিতকির্ত ওই সিরিজ ৪-১ জিতে ইংল্যান্ড। আর বিতর্কের জন্য লারউড আর কোনোদিন ইংল্যান্ড দলে খেলতে পারেননি। এমনকি এই বিতর্ক নিয়ে ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সম্পর্কের অবণতি হয়।

৪. অ্যালেক্স টুডর (ইংল্যান্ড) : ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নামেন অ্যালেক্স। অভিষেক হয়েছিল আগেই। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত ৪ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে দারুণ খেলেন অ্যালেক্স। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড যখন ৪৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা, তখন ক্রিজে আসেন অ্যালেক্স। সেদিন ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

পরে নিউজিল্যান্ড ২০৮ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ডকে। তিন দিনে শেষ হওয়া এ টেস্টের দ্বিতীয় ‍দিনে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই এক উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায়। তখন অ্যালেক্স নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন এবং অপরাজিত ৯৯ রান করে ইংল্যান্ডের জয়কে সহজ করে দেন। এতে ইংল্যান্ড ৪ ম্যাচ সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে যায়।

৫. নাসিম-উল-গনি (পাকিস্তান) : ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয় নাসিমের। ১৬ বছর বয়সে তার টেস্ট অভিষেক হয়। যা তখনকার সময়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক। নাসিম প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকান।

১৯৬২ সালে লডর্সে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১০১ রান করেন নাসিম। টেস্টে এটা তার একমাত্র সেঞ্চুরি এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো পাকিস্তানির প্রথম সেঞ্চুরি ছিল এটা। যদিও স্বাগতিকরা ওই টেস্ট জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে এগিয়ে গিয়েছিল।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 5 - Rating 4 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)