JanaBD.ComLoginSign Up

সিরিয়ায় যাচ্ছে রাশিয়ার নৌবহর? ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা!

আন্তর্জাতিক 28th Oct 2016 at 9:28am 297
সিরিয়ায় যাচ্ছে রাশিয়ার নৌবহর? ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্প্রতি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিন্টন যদি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে তার সিরিয়ানীতি মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংঘাত অনিবার্য করে তুলবে এবং তার ফলে ঘনিয়ে আসবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

কিন্তু ট্রাম্পের সেই আশঙ্কা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল অবধি বোধহয় আর অপেক্ষা করল না৷ পশ্চিমের দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি কড়া অবস্থান নিতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই৷

গত বুধবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সামনের বছরেই পূর্ব ইউরোপের রুমানিয়াতে যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু করবে৷

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, পোল্যান্ডে বিপুল অস্ত্রসম্ভার পাঠানোর কথা৷ ন্যাটো-র অন্যান্য সদস্য দেশও জানিয়েছে, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সেনা মোতায়েনের কথা৷

সব মিলিয়ে, পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগেই গরম হয়ে উঠেছে পূর্ব-পশ্চিম সম্পর্ক৷ বলা হচ্ছে, ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর এটাই সর্ববৃহৎ সামরিক পদক্ষেপ৷
কিন্তু হঠাৎ এই ব্যস্ততা কেন?

ক্রুজ মিসাইল নিয়ে রাশিয়ার দু'টি যুদ্ধজাহাজ সুইডেন এবং ডেনমার্কের মধ্যবর্তী বল্টিক সাগরে প্রবেশ করার পরেই নড়েচড়ে বসে পশ্চিমি দেশগুলি৷

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ওই যুদ্ধজাহাজগুলিতে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের সিউটা বন্দরে জ্বালানি ভরার আবেদনও প্রত্যাহার করে নেয়৷

স্পেনের বন্দরে সাধারণত রাশিয়া তাদের জাহাজ নোঙ্গর করে কিনতু এবার তার অন্যথা হওয়াতেও উদ্বিগ্ন পশ্চিমি দেশগুলি৷

ন্যাটো-র আশঙ্কা, রাশিয়ার এই যুদ্ধজাহাজগুলি আসলে এগোচ্ছে সিরিয়ার অভিমুখে৷ সেখানে নির্দোষ মানুষকে প্রাণে মারার লক্ষ্যে৷

কূটনীতিবিদরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই রণতরীগুলি ছাড়াও সিরীয় উপকূলে ইতিমধ্যে দশটি রাশিয়ান জাহাজ পৌঁছে গেছে৷ অতএব, এয়ারক্র্যাফট কেরিয়ার এডমিরাল কুজনেৎসোভ-এর নেতৃত্বাধীন এই নৌবহরের উপস্থিতি যে সিরিয়াতে পরিবেশ আরো ঘোরালো করে তুলবে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই৷

ন্যাটো অবশ্য বলেছে, রাশিয়ার এই সামরিক পদক্ষেপের জবাব তারা মেপেই দিচ্ছে৷ ন্যাটো-র সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টোল্টেনবার্গ বলেন তাঁরা বল্টিক এবং পূর্ব ইউরোপে ৪,০০০ সেনা মোতায়েন করেছেন যেখানে পশ্চিম সীমান্তে নিযুক্ত রাশিয়ার সৈন্য সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি৷

২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল করা এবং তার ফলে ইউক্রেনে রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে৷

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের মতে ঠান্ডা যুদ্ধের পর রাশিয়া এবং পশ্চিমি দুনিয়ার মধ্যে সম্পর্কে অবনতি এই প্রথম৷ মাস খানেক আগে সিরিয়াতে শান্তিপ্রক্রিয়া চালু করতে মার্কিন-রাশিয়া চুক্তিও ব্যর্থ হয়৷ বেশ কিছু পরমাণু-বিষয়ক চুক্তিও লঙ্ঘন করে মস্কো৷

সিরিয়ার শাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার প্রশ্নে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর সংঘাতও চরমে উঠেছে৷ স্টোল্টেনবার্গ এও জানিয়েছেন, রাশিয়া তার পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চল কালিনিনগ্রাদে ইস্কান্দার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করেছে৷ যা নিয়ে স্বভাবতই ত্রস্ত পশ্চিমি দুনিয়া।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 2 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)