JanaBD.ComLoginSign Up
জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

‘১৫০ সন্তানের বাবা’ এক সাধারন সরকারী কর্মচারীর অনন্য উদারতার গল্প !

সাধারন অন্যরকম খবর 30th Oct 2016 at 10:24am 407
‘১৫০ সন্তানের বাবা’ এক সাধারন সরকারী কর্মচারীর অনন্য উদারতার গল্প !


হাজারো প্রতিকুলতা আর দারীদ্রতার সাথে লড়াই তো ছিলোই তার। কিন্তু স্বপ্নটাও ছিলো আকাশছোয়া! সেই স্বপ্নপুরনে শুধুমাত্র ইচ্ছের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত অন্ধকার জীবন থেকে আলোর জীবন পেয়েছে তার দেড়শ’ সন্তান।

এদের মধ্যে অনেকেই এখন জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত। কেউ বিজ্ঞানী, কেউ আবার উঁচু পদে সরকারি চাকরি করছেন!
শরৎ নিজে ভারতীয় রেলের একজন কেরানি ছিলেন। পুরো নাম জে রামচন্দ্র শরৎ। লোকে অবশ্য তাকে শরৎ বলেই ডাকতে পছন্দ করেন। আর তার দেড়শ’ সন্তান তাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত এই রেলকর্মী ১৫০ জন সন্তানেরই পিতা। তবে তিনি তাদের নিজের বাবা না হলেও প্রকৃত বাবার মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর স্টেশনে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি দেখতেন, বহু শিশুই প্ল্যাটফর্মের ওপরে ভিক্ষা, চুরি কিংবা পকেটমারির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল। অনেক সময়েই তাদেরকে ধরে রেলযাত্রী এবং সাধারণ মানুষ মারধর করত। এদের জন্য কিছু করার কথা ভাবেন শরৎ । কিন্তু তখন তার সেই আর্থিক ছিল না। এরপর ১৯৯৪ সালে ১৪ বছর চাকরি করার পরে কিছু অর্থ জমাতে সক্ষম হন তিনি। তখন নেল্লোরের গোল্লাপাল্লেমে নিজের গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে প্ল্যাটফর্মের শিশুদের জন্য কিছু করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে শরৎকে ছোট্ট একটি জমি দেওয়া হয়। সেই জমিতেই একটি কুড়ে ঘর তৈরি করে নিজের আশ্রম শুরু করেন এই রেলকর্মী। আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে যে শিশুরা ভিক্ষা করত, তাদের নিয়ে এসে আশ্রমে রাখতে শুরু করেন তিনি। সেই শুরু, এখন শরৎতের আশ্রম আয়তনে অনেক বেড়েছে। এখন আশ্রমে আবাসিকের সংখ্যা ১৫০ ওপরে।



২০১১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে আশ্রমেই পুরো সময় ব্যয় করতে শুরু করেন শরৎ। তার এই মহান উদ্যোগে বন্ধু এবং গ্রামবাসীদের অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া নিজের পেনশনও রয়েছে। এখন তো শরৎতের আশ্রমের মধ্যে থাকা স্কুলটি ওই এলাকার অন্যতম সেরা স্কুল হিসেবে স্বীকৃত। শুধু তাই নয়, যাদের একদিন প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এখন জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত। কেউ বিজ্ঞানী, কেউ আবার উঁচু পদে সরকারি চাকরি করছেন।

যদিও, এই সাফল্য একদিনে আসেনি। চুরি, ভিক্ষা করতে অভ্যস্ত শিশুগুলো শরৎতের আশ্রমে এসেও একই কাজ করত। কেউ আশ্রমের জিনিস সরাত, কেউ আবার শরৎতেরই পকেট থেকে চোখের নিমেষে টাকা সরিয়ে ফেলত। কিন্তু শরৎ ধৈর্য হারাননি। আর সেই কারণেই আজ তিনি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। যদিও এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি নিতে চান না। ভারতীয় একটা ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার কাছে থাকা শিশুরা মেধাবী ছিল বলেই আজ তারা জীবনে এতটা সফল হয়েছে!

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 11 - Rating 8.2 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)