JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

নানির বাড়ি রাত কাটানোয় সালিশি-কঞ্চিপ্রহার, অতঃপর...

দেশের খবর 13th Nov 2016 at 12:51pm 699
নানির বাড়ি রাত কাটানোয় সালিশি-কঞ্চিপ্রহার, অতঃপর...

গ্রামের প্রান্তে স্কুল আর বিকেলে সেই স্কুল ছুটি হলেই সোজা বাড়ি। গ্রাম্য এই চেনা রুটিনে ‘হাঁফিয়ে’ উঠেছিল বয়ঃসন্ধির দুই মুসলিম কিশোরী। তাইতো বাড়ির কাউকে না জানিয়ে চুপিচুপি ২২ কিলোমিটার দূরে বহরমপুর শহরে নানির বাড়ি পাড়ি দিয়েছিল তারা। কিন্তু চারদিন পর গ্রামে ফিরে সর্বসমক্ষে তাদের যে এমন শাস্তি পেতে হবে, তা কে জানতো!

জানা গেছে, সালিশি ডেকে গ্রামের মাতব্বরেরা ওই দুই কন্যার বাবাকে গালমন্দ করেই ক্ষান্ত হয়নি। সবার সামনেই বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল নবম শ্রেণির ওই দুই মুসলিম ছাত্রীকে। তবে খবরটা কানে যেতেই নড়েচড়ে বসেছিলেন স্থানীয় বিডিও সুশান্ত বালা।

হরিহরপাড়া থানার উপরে তিনি নির্দেশ দেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার। শনিবার হরিহরপাড়ার হরিশপুর গ্রামে গিয়ে সালিশির ঘটনায় জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কিন্তু তাতে কি ‘লজ্জা’ নিবারন হয়? বাড়ির উঠোনে ওড়নার আড়ালে মুখ গুঁজে শাস্তি পাওয়া এক কিশোরী বলেছে, ‘গ্রামে কিচ্ছুটি করার নেই। বাবাকে বললেও নানির বাড়ি নিয়ে যায় না। হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, তাই টিফিনের জমানো টাকায় বাসের ভাড়া মিটিয়ে নানির বাড়ি গিয়েছিলাম।’

মেয়ের বাবা পেশায় আয়ুবের্দ চিকিৎসক রমজান মীর বলেছেন, ‘মেয়ে যে তার নানির কাছেই গিয়েছিল তা তো জানতাম আমরা। কিন্তু সালিশিতে সে কথা শুনতেই চাইলো না মাতব্বরেরা।’

‘ঘর ছাড়া’ আরেক ছাত্রীর বাবা আবু বক্কর বলছেন, ‘মেয়ে আমার যেখানেই যাক, তাকে শাসন করার জন্য তো আমরা রয়েছি। সবার সামনে একটা কিশোরী মেয়েকে সে জন্য মারধর করার অধিকার মাতব্বরদের কে দিলো?’

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, আশপাশের পাঁচ গাঁয়ের মাথা, স্থানীয় তৃণমূল নেতা সামশের আলিই ছিলেন ওই সালিশির হোতা। তার সঙ্গে জুটে গিয়েছিলেন গ্রামের আরো বারোজন মাতব্বর। শুক্রবার সালিশি ডেকে তাঁরা রমজান এবং আবু বক্করকে এই বলে গালমন্দ করেন— ‘মেয়েদের শিক্ষা দিতে পারনি। স্কুলে-কলেজে পড়লেই কি মেয়েরা স্বাধীন হয়ে যাবে, গ্রামের বাইরে রাত কাটিয়ে আসবে?’

করিম শেখ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ‘আমি আপত্তি তুলেছিলাম। সবার সামনে বয়স্ক লোকেদের এভাবে বকাঝকা করার তোমরা কে! কিন্তু আমাকে রে রে করে তাড়িয়ে দেয়া হলো। এর পরেই শুরু হয়েছিল কঞ্চি-প্রহার।

রফিক শেখের কথায়, ‘আমি বলার চেষ্টা করেছিলাম, মেয়েরা দোষ করলে ওদের বাপ-মা শাস্তি দেবে, আমরা তো বাইরের লোক। কিন্তু ওরা আমাকেও ‘বেশি কথা বলিস না’ বলে শাসালো!’

তবে হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ অবশ্য মেনে নিয়ে বলছেন, ‘যা হয়েছে তা এলাকার মুখ পুড়িয়েছে।

আমরা সালিশির বিরোধী। যেই এ কাজ করুন, তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হরিহরপাড়ার বিডিও সুশান্ত বালা, যিনি সক্রিয় হওয়াতেই মাতব্বরদের গ্রেফতারে নেমেছে পুলিশ, তিনি বলছেন, ‘শুনেই চমকে উঠেছিলাম। আমি পুলিশকে বলেছি, প্রত্যেককে ধরতে হবে।’

এদিকে ফুঁপিয়ে কান্নার মাঝে নবম শ্রেণির সেই ছাত্রীটি বলছে, ‘আমাকে তো ঘর-ছাড়া মেয়ে বলে গালি দিল, কঞ্চি দিয়ে পেটালো, সে লজ্জা কে মুছবে, বলুন তো!’

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)