JanaBD.ComLoginSign Up

বিবাহবিচ্ছেদের জন্য এই ২টি কারণই যথেষ্ট

লাইফ স্টাইল 14th Nov 2016 at 9:42pm 566
বিবাহবিচ্ছেদের জন্য এই ২টি কারণই যথেষ্ট

মনোবিজ্ঞানকে মানুষের মানসিক অবস্থার নানান পর্যায়ের ব্যাখ্যা দিতে হয়। বিশ্লেষণ করতে হয় তার প্রতিটি সম্পর্ককে এবং এর পেছনে তার মনস্তত্বকে। মানুষের গড়ে তোলা সম্পর্কের মাঝে সবচেয়ে বেশী আলোচিত সম্পর্ক বিয়ে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস এ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় যার অনেক কিছুর সাথেই আপনি নিজের জীবনের মিল পাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত মানুষেরা বেশী সুখী হন এবং বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হিসেবে তারা অনেক কিছুই খুঁজে পান।

বিয়েকে মনে করা হয় জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে উত্তম পন্থা। কিন্তু এই বিয়েই অনেক সময় মানুষের জীবনে নিয়ে আসে জটিলতা। বিয়ের কারণেই জীবন হয়ে ওঠে বিষাক্ত, নরকসম। অসংখ্য নতুন দায়িত্ব চলে আসে কাঁধে যা পালন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। নতুন একটি সম্পর্ক তৈরি করে আরও অনেক নতুন সম্পর্ক। পরস্পরকে বুঝতে না পারা, অনধিকারচর্চা, শ্রদ্ধার অভাব- এই সব কিছুই কারণ হতে পারে আপনার বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটবার।

এভাবে কারণ খুঁজলে অসংখ্য কারণ পাওয়া যাবে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, যে কারণে আপনি সংসার ছাড়ছেন সেই একই কারণ থাকার পরও অন্যরা ঠিকই সংসার করে যাচ্ছেন। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মৌলিক কিছু শর্ত থাকে সম্পর্ক টিকে থাকার পেছনে। এই মৌলিক শর্ত পূরণে ব্যাঘাত ঘটায় মানুষের ২টি মনঃস্তত্ত্ব। যার ফলেই ঘটে বিচ্ছেদ।

ঝগড়া এড়িয়ে যাওয়ার মনঃস্তত্ব
মনোবিজ্ঞানীরা বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে ঝগড়া করাকে নয়, ঝগড়া এড়িয়ে যাওয়াকেই দায়ী করছেন। আপনাদের দুজনের মাঝে নানান বিষয়ে মতের পার্থক্য হতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। মতপার্থক্য নিয়ে কথা না বলা মানে হল আপনি অপরপক্ষের মত মেনে নিলেন বা নিজের মনমত কাজটা করে ফেললেন। এমন বিষয় যখন একের পর এক বার বার ঘটতে থাকে তখনই পরিবারে একজন কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে যান এবং অন্যজন অনুবর্তী অবস্থানে চলে আসেন। যিনি অনুবর্তী অর্থাৎ সব কথা মেনে নিচ্ছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে নিজের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, চিন্তা এইসব কিছুর সাথে সমঝোতা করে চলেছেন।

যিনি কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থায় আছেন তিনি সবসময় সঙ্গীর জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন এমন নাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে প্রত্যেকের নিজস্ব মূল্যবোধের উপরে। অনেকে মনে করেন, মানিয়ে নেওয়াই ভাল। কোন ঝামেলা নেই। কিন্তু তিনি বোঝেন না, মুখ বুঝে মানিয়ে নিতে গিয়ে তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন। মনের অভ্যন্তরে তার কষ্ট জমতে থাকে। জমতে থাকে ক্ষোভ, হতাশা, অভিযোগ। যার কোনটাই তিনি কাউকে বলতে পারেন না।

এধরণের দম্পত্তির মাঝে তৈরি হয় বিশাল দূরত্ব। একসাথে থাকার পরও তারা জীবনসঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন না। অনুবর্তী সঙ্গীটির অভিযোগের বিস্ফোরণ ঘটলেই বাজে বিদায় ঘন্টা। আবার বিপরীত দিক থেকে কর্তৃত্বপরায়ণ সঙ্গীর মাঝেও জাগতে পারে অপর সঙ্গীর কাছ থেকে সমপর্যায়ের মতামত পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নিজের সময়গুলো ভাগ করতে চাওয়ার ইচ্ছা। সেক্ষেত্রেও ফলাফল হতে পারে নেতিবাচক।

অতিমাত্রায় কর্তৃত্বপরায়ণতা
একটি সম্পর্কে উভয়ই যদি কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকেন তাহলে সেটিও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিবাহবিচ্ছেদের অসংখ্য কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, একটি যুগলের উভয়পক্ষ যখন অতিমাত্রায় কর্তৃত্বপরায়ণ হয় তখন একসাথে সংসার করা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য। কারণ, এক্ষেত্রে উভয়েই নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টায় মত্ত থাকেন এবং একজন আরেকজনের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা কেউ কারও কথা শোনেন না বা বোঝার চেষ্টা করেন না।

সবচেয়ে বাজে দিক হল, এধরণের জুটি সারাক্ষণ একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন। পরস্পরের দিকে আঙ্গুল তুলে তারা নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান। তাই তাদের মধ্যে সারাক্ষণই ঝগড়া হতে থাকে। তারা কেউই সমস্যা বুঝতে পারেন না এবং সমাধানও করতে পারেন না। অহম, নেতিবাচক চিন্তকা, বিশ্বাসের অভাব দ্বারা প্রতিনিয়ত পরিচালিত হতে থাকেন তারা।

শেষ কথা....
সম্পর্কের মূল বিষয় হল ভারসাম্য। কেউই পুরোপুরি নিখুঁত নয়। সারাজীবন স্বপ্নে দেখে আসা রাজকুমার বা রাজকুমারী আমাদের জীবনসঙ্গী হয়ে আসেন না। আসেন একজন মানুষ। তার কাছে যেমন সব কিছু পাওয়ার আশা করা যায় না, তেমনি তার পায়ে নিজের স্বত্ত্বা লুটিয়ে দেওয়াও বোকামি। পারস্পরিক বোঝাপড়া, আত্মমর্যাদা বজায় রেখে চলাই সম্পর্কের চাকাকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)