JanaBD.ComLoginSign Up
জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "JanaBD.Com"

এ তো সেই শাহরিয়ার নাফীস!

ক্রিকেট দুনিয়া 15th Nov 2016 at 5:24pm 599
এ তো সেই শাহরিয়ার নাফীস!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেন ওয়ার্নদের পিটুনি দিয়ে দুরন্ত সেঞ্চুরি, এক পঞ্জিকাবর্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক হাজার রান, দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন- অঙ্কুরেই অমিয় সম্ভাবনায় ভাস্বর ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস।

ক্রমেই যখন অনন্য উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আইসিএল-ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড! ইন্ডিয়ার নিষিদ্ধ এই ক্রিকেট লিগে খেলতে গিয়েই দিক হারিয়ে ফেললেন শাহরিয়ার। জাতীয় দলে নিষিদ্ধ তো হলেনই, হারিয়ে ফেললেন ফর্মও।

শাহরিয়ার নাফীস ফুরিয়ে গেছেন, তাকে দিয়ে আর হবে না- এমন কথাও জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। কিন্তু সেই শাহরিয়ার নিজের সঙ্গে লড়ে ফিরে পেয়েছেন দিশা, দ্যুতি ছড়াচ্ছে তার ব্যাট; আবার কড়া নাড়ছেন জাতীয় দলের দরজায়, জোরেশোরেই!

চলমান বিপিএলে আরেকবার যেন জাতীয় দলে ফেরার দাবির কথা জানান দিচ্ছেন শাহরিয়ার। চার ম্যাচের তিনটিতেই ফিফটি, আরেকটিতে অপরাজিত। এখন পর্যন্ত বিপিএলের এ আসরে ১৮৪ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি! ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৩৬ বলে ৫৫, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১, রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৪৪ বলে ৬৩ এবং চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৫৯ বলে ৬৩।

শাহরিয়ার নাফীস যে কতটা ছন্দে আছেন, সেটা বলছে জাতীয় লিগের সর্বশেষ চারটি ইনিংসও- ৭২, ৭৬, ৪৮ ও ৪০*। এরপর বিসিবি একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ৫১ রানের আরেকটি ঝলমলে ইনিংস তো আছেই।

২০০৫-এর ২১ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক শাহরিয়ার নাফীসের। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলার প্রথম বছরে ৭ ওয়ানডেতে ৩৬.২৯ গড়ে করেন ২৫৪ রান। তবে টেস্টে ছিলেন কিছুটা নিষ্প্রভ, দুই টেস্টে মাত্র ৫১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

২০০৬ সালে অন্য এক শাহরিয়ার নাফীসকে দেখে ক্রিকেটবিশ্ব। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হইচই ফেলে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। সে বছর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে হাজার রান করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২৮ ম্যাচে ৩ শতক ও ৪ অর্ধশতকে ৪১.৩২ গড়ে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৩৩ রান! ওই বছর টেস্টেও ছিলেন দারুণ ফর্মে। অজিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেই সেঞ্চুরি আসে সে বছরেই। ৪ টেস্টে ৪১.২৫ গড়ে করেন ৩৩০ রান।

২০০৭-এ ওয়ানডেতে ১৪ ম্যাচে ২১.৩৮ গড়ে ২৭৮ রান; ৫ টেস্টে ২০.৫০ গড়ে ২০৫ রান। ২০০৮ সালে ১১ ওয়ানডেতে ২৯.২০ গড়ে ২৯২ রান আর ৪ টেস্টে ২৫.৩৮ গড়ে ২০৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

২০০৮ সালেই বিতর্কিত আইসিএল-এ হাবিবুল বাশারদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে অমিয় সম্ভাবনাকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে দেন শাহরিয়ার। তবে সেই ‘ভুল পথ’ থেকে দ্রুতই ফিরে এসে আবার মনোযোগী হন ‘সঠিক পথের’ ক্রিকেটে। কিন্ত নিষেধাজ্ঞার খড়গ বইতেই হয়। প্রায় ১৮ মাস পর আবারও ফিরেন জাতীয় দলে।

২০১০-এ ৪টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়ে ২৯.৭৫ গড়ে করেন ১১৯ রান; একমাত্র টেস্টে করেন ২৫ রান। পরের বছর ১১টি ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে ২০.৪৫ গড়ে আসে ২২৫ রান; ৫ টেস্টে ২৯.১০ গড়ে ২৯১ রান।

২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর আর রঙিন পোশাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি শাহরিয়ারকে! প্রায় পাঁচ বছর ধরে দলে ব্রাত্য হয়ে আছেন তিনি। তবে টেস্টে আরো প্রায় দুই বছর সুযোগ পান। ২০১২ তে দুই টেস্টে ২৫.২৫ গড়ে করেন ১০১ রান। এর পরের বছর একটি মাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে করেন ৪০ রান। ২০ এপ্রিল, ২০১৩-এর পর থেকে সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও জাতীয় দলের আশপাশে নেই শাহরিয়ার।

সেই পুরোনো দিনের মতো ফের দ্যুতি ছড়াচ্ছে শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাট। যেন নিজের অতীতের অমিয় সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন! সেই সম্ভাবনা এবার কি পরিস্ফূটিত হবে পুরোমাত্রায়? প্রশ্নটা সহজ, উত্তর কঠিন!

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 3 - Rating 3.3 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)