JanaBD.ComLoginSign Up

যে কারণে হিন্দু নারীরা সিঁদুর পরেন?

জানা অজানা 21st Nov 16 at 3:11pm 1,260
যে কারণে হিন্দু নারীরা সিঁদুর পরেন?

হিন্দু বিবাহিত নারীদের কপালে সিঁদুর পরা আবশ্যক। সনাতন ধর্ম মতে এটি বাধ্যতামূলক প্রথা। কিন্তু, তারা কেন এ সিঁদুর পরেন? এর নেপথ্য কারণই বা কী? তা কি আমরা কেউ জানি? সিন্দুর বা কুঙ্কুমচর্চা প্রাচীন ভারতে কেবল নারীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেযুগে এ বিশেষ প্রসাধানটি করতেন।

কালক্রমে পুরষের প্রসাধন-তালিকা থেকে কুঙ্কুম বাদ পড়ে। তবে আজও বেশ কিছু পুরুষ কপালে সিঁদুরের তিলক পরেন। বিশেষ করে শাক্ত মতাবলম্বীদের মধ্যে সিঁদুরের তিলকসেবার রেওয়াজ পুরোপুরি রয়েছে। পুরুষদের আঙিনায় বিরল হয়ে পড়লেও বিপুলসংখ্যক বিবাহিতা হিন্দু নারী সিঁদুরবিহীন অবস্থার কথা ভাবতেই পারেন না।

অনেকেই বলে থাকেন, সিঁদুর একান্তভাবে বন্ধনের চিহ্ন। বিবাহিতা নারীকে সিন্দুর চিহ্নিত করে সমাজকে জানিয়ে দেওয়া হয়— এই নারী অন্যের সম্পত্তি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে ব্যাপারটা মোটেই এতটা সহজ-সরল নয়।

হিন্দু নারীর সিঁদুর পরা নিয়ে সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব ভিন্ন কথা বলে। সেই বিদ্যার বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল বর্ণের সিঁদুর কপালে ধারণ করার অর্থ জড়িয়ে রয়েছে আদিম উর্বরাশক্তির উপাসনার মধ্যে। হিন্দু ধর্ম বলে আজ যা পরিচিত, তার উৎস এক টোটেমবাহী কৌম সমাজে। সেখানে গাছ, পাথর, মাটি ইত্যাদিকে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক বলে মনে করত।

আর তাদের কাছে লাল রংটি ছিল সৃষ্টির প্রতীক। সেই আদিম কাল থেকেই লাল সিঁদুরকে ভারতীয়রা বেছে নেন তাঁদের একান্ত প্রসাধন হিসেবে। বিবাহিতা মহিলাদের ললাটে কুঙ্কুম তাঁদের সন্তানধারণক্ষম হিসেবেই বর্ণনা করে। তার বেশি কিছু নয়।

কিন্তু নৃতাত্ত্বিকদের এই বক্তব্যের সঙ্গে শাস্ত্রবচনের কোনও মিলই নেই। শাস্ত্র অনুযায়ী, লাল কুঙ্কুম শক্তির প্রতীক। মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। ললাটে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া, কপালের ঠিক মধ্যভাগে সূর্যালোক পড়ার ব্যাপারটাকে আটকাতেও সিঁদুর ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করা যায়।

কপালে সিঁদুর প্রয়োগেরও কিছু বিধি ও ফলনির্দেশ শাস্ত্র প্রদান করে। জানা যায়, তর্জনি দিয়ে সিঁদুর পরলে শান্তি পাওয়া যায়। মধ্যমা দিয়ে ধারণ করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়।

প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল কালি মিশিয়ে রাঙিয়ে তোলা হত। কুঙ্কুমচর্চার কেন্দ্রবিন্দুটি হল আজ্ঞাচক্র। এখানে সিঁদুর প্রয়োগে আত্মশক্তি বাড়ে। নারীকে ‘শক্তি’ হিসেবেই জ্ঞান করে হিন্দু পরম্পরা। কুঙ্কুম বা সিঁদুর তাঁদের আজ্ঞাচক্রে প্রদানের বিষয়টি সেই কথাটিকেই মনে করিয়ে দেয়।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 13 - Rating 3.8 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
ডিম নিয়ে জেনে নিন কিছু মজাদার তথ্য ডিম নিয়ে জেনে নিন কিছু মজাদার তথ্য
Oct 13 at 7:59am 1,495
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল দশটি হোটেল বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল দশটি হোটেল
Oct 12 at 9:09pm 998
জন্মের পরে শিশুরা কেঁদে ওঠে কেন? জন্মের পরে শিশুরা কেঁদে ওঠে কেন?
Oct 11 at 2:38pm 946
ব্লু হোয়েল গেম থেকে বাঁচতে কি করা যায়? ব্লু হোয়েল গেম থেকে বাঁচতে কি করা যায়?
Oct 09 at 8:53am 2,388
জেনে নিন নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন ও নির্বাচন পদ্ধতি জেনে নিন নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন ও নির্বাচন পদ্ধতি
Oct 08 at 2:55pm 607
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়
Oct 07 at 3:32pm 1,200
নোবেল পুরস্কারের মূল্য কত? নোবেল পুরস্কারের মূল্য কত?
Oct 06 at 9:41pm 1,322
কি আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ হারমনি অব দ্য সিস-এ কি আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ হারমনি অব দ্য সিস-এ
Oct 06 at 5:06pm 900

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন

জমলো না আমির খানের সিক্রেট সুপারস্টার
সুস্বাদু মুরগির টেংরি কাবাব
চুল ধোয়ার পরে করণীয়
শেষ ওয়ানডেতেও অসহায় বাংলাদেশের আত্মসমর্পণ
দশজনের এভারটনকে উড়িয়ে দিল আর্সেনাল
ল্যাথাম-টেলরের ব্যাটে উড়ে গেল ভারত
১০ মাসের শিশুর ৩০ কেজি ওজন
আজকের এই দিনে : ২৩ অক্টোবর, ২০১৭