JanaBD.ComLoginSign Up
জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

পরিসংখ্যানের বিচারে ‘ফ্লপ’ বিপিএল-ফোর

ক্রিকেট দুনিয়া 8th Dec 2016 at 1:32pm 374
পরিসংখ্যানের বিচারে ‘ফ্লপ’ বিপিএল-ফোর

চার-ছক্কার জমজমাট আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ব্যাটসম্যানদের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে বোলাররা পথ ভুলতে বসবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু বিপিএলের চতুর্থ আসরে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে খুব কম।

গত ৪ নভেম্বর বিপিএলের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠলেও ৮ নভেম্বর থেকে প্রথম বল মাঠে গড়ায়। ২০১২ সালে প্রথম আসরে বিপিএল হয়ছিল ছয় দলের। পরের বছর সাত দল নিয়ে বিপিএল আয়োজন করে বিসিবি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তৃতীয় আসলেও হয়েছিল ছয় দলের বিপিএল। বার সেই সংখ্যাটি আবারও সাতে গিয়ে পৌঁছে। তবে পরিসখ্যানের বিচারে এবারের বিপিএল ‘সুপার ফ্লপ’।

আগের তিন আসরের থেকে এবারের বিপিএল জমে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু আগের তিন আসরের ধারে কাছেও যেতে পারেনি এবারের বিপিএল। ব্যাটিং, বোলিং মিলিয়ে আগের কোনো রেকর্ডই ভাঙতে পারেনি। বরং অধঃপতন হয়েছে!

২০১২ সালে ছয় দলের বিপিএলে গ্রুপ পর্বে প্রত্যেক দল দশটি করে ম্যাচ খেলে। ৩০ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে রান আসে ৪ হাজার ৫৪২। গড় রান ১৫১.৪। ২০১৩ সালে দলের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। গ্রুপ পর্বে প্রত্যেক দল ম্যাচ খেলে ১২টি করে। ৪২ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে রান আসে ৬ হাজার ৬৪৯। গড় রান ১৫৮.৩।

গত আসরে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে কম রান হয়েছিল। ছয় দল দশটি করে ম্যাচ খেলে। ৩০ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে রান হয়েছিল মাত্র ৩ হাজার ৯৬২। গড় রান ১৩২! এবারের আসরে সাতটি দল বিপিএল অংশ নিয়েছে। ৪২ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে মোট রান ৬ হাজার ২৪০। গড় রান ১৪৮.৫ যা বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের থেকে অনেক কম।

এ ছাড়া যদি ৩০ ম্যাচের হিসাবও করা হয় তাহলে এবারের বিপিএলের প্রথম ৩০ ম্যাচে রান আসে ৪ হাজার ৪৬৮। গড় রান ১৪৯.৯। যা বিপিএলের প্রথম আসরের গড় রানের থেকেও কম। চতুর্থ আসর যে ‘ফ্লপ’ তা বলাই যায়। প্রথম আসরে দুই শ’ বা এর বেশি রানের দলীয় ইনিংস ছিল দুটি। সর্বোচ্চ রান ২০৮।

দ্বিতীয় আসরে দুই শ’ বা এর বেশি রানের ইনিংস বেড়ে গিয়ে হয় চারটি। সর্বোচ্চ রান ২১৭, যা বিপিএলে এখনো সর্বোচ্চ রান। তৃতীয় আসরে দুই শ’র কাছাকাছি কোনো দল যেতে পারেনি। সর্বোচ্চ রান ১৮৮। এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ রান ১৯৪। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ যথাক্রমে ১৯২ ও ১৯০। এর মধ্যে ঢাকা ডায়নামাইটস ১৯০-এর ওপরে দুবার রান করেছে।

ব্যক্তিগত ইনিংসেও ভাটা পড়েছে। ২০১২ সালে সেঞ্চুরির ইনিংস ছিল চারটি। ২০১৩ সালে তা কমে যায় তিনটিতে। তৃতীয় আসরে সেঞ্চুরি হয়েছে মাত্র একটি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র একটি সেঞ্চুরি। এ ছাড়া হাফ সেঞ্চুরিতেও পিছিয়ে এবারের আসর। প্রথম আসরে হাফ সেঞ্চুরি এসেছিল ৪৪টি। দ্বিতীয় আসরে এর পরিমাণ বেড়ে যায় ৬১টিতে। তৃতীয় আসরে হাফ সেঞ্চুরিও এসেছে সবচেয়ে কম। ৩০ ম্যাচে এসেছে মাত্র ২৬ হাফ সেঞ্চুরি। এবার এখন পর্যন্ত ৪৯টি।

ক্রিকেট শুধু ব্যাটসম্যানদের খেলা না। বোলারদের দাপটের কথা এখানে না বললে ভুল হবে। দলগতভাবে ব্যাটসম্যানরা সাফল্য না পাওয়ায় বোলাররা ভালো ফল পেয়েছে। প্রথম আসরে ফাইনাল নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার ইলিয়াস সানী। ১২ ম্যাচে নেন ১৭ উইকেট। দ্বিতীয় আসরে আলফানসো থমাস ১২ ম্যাচে নেন ২০ উইকেট। তৃতীয় আসরে কেভন কুপার ৯ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২২ উইকেট। এবার ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো, ১৪ ম্যাচে সমানসংখ্যক উইকেট নিয়েছেন জুনায়েদ খান।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য ক্রিকেট পিপাসুদের বিনোদন দেওয়া। চার-ছক্কার এ ফরম্যাটকে অনেকেই টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের থেকেও এগিয়ে রাখেন। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের থেকে সময় কম প্রয়োজন হয় বলে ক্রিকেট বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। বলাবাহুল্য এবারের টুর্নামেন্ট কিছুটা হলেও বিবর্ণ। এর প্রথম কারণ ‘উইকেট’।

এরকম বেরসিক উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলা হয় না, তা অনেক আগেই বলে দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব মাঠের দর্শকদের উপস্থিতি দেখলেও বোঝা যায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ৫ হাজার দর্শকও হয় না! বিপিএলের চতুর্থ আসরের পর্দা নামতে এখান আর কেবল ফাইনাল ম্যাচ বাকি আছে। উৎসবের মঞ্চে শেষটায় কী অপেক্ষা করছে তা বলা মুশকিল। তবে শেষটায় ক্রীড়ামোদীরা হাইস্কোরিং ম্যাচের দাবি রাখতেই পারেন।

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 12 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)