JanaBD.ComLoginSign Up
৫০০০৳ নগদ পুরস্কার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে UC Browser নিয়ে এসেছে ! দেখে নিন আপনিও কিভাবে পেতে পারেন ।

ইইএফের ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ১৩ আইসিটি কোম্পানি

অর্থনীতি খবর 20th Dec 2016 at 8:12am 236
ইইএফের ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ১৩ আইসিটি কোম্পানি

ইইএফ নামে পরিচিত সরকারের ইক্যুইটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ড থেকে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ১৩টি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে বেসিসের সদস্য তিনটি কোম্পানিও রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পুন:অর্থায়ন তহবিল থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার পর আট বছর পেরিয়ে গেলেও এসব কোম্পানি এক টাকাও পরিশোধ করেনি। মেয়াদ শেষে ঋণের অর্থ উদ্ধারে কোম্পানিগুলোর ঠিকানা পরিদর্শনের সময় এগুলোর অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইইএফের আওতায় মোট ৬৭ তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক কোম্পানিকে প্রকল্পভিত্তিক ঋণ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ২৯টি কোম্পানি মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে ১৩টির কোনো অস্তিত্ব মিলছে না।



দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইইএফ তহবিলের আওতায় কয়েকটি খাতে বিনা সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এ ঋণ ব্যবস্থাপনার কাজ করে থাকে।

উধাও হযে যাওয়া এ ১৩টি কোম্পানির মধ্যে গত বিএনপি জোট সরকারের সময় ২০০৪ ও ২০০৫ সালে ১২টি ও ২০০৬ সালে একটি কোম্পানি ঋণ নিয়েছিল। কৃষি ও মৎস্য খাতের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পুন:অর্থায়ন তহবিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক খাতের প্রকল্পেও ঋণ প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ইইএফের নিয়ম অনুযায়ী বিনাসুদের এ ঋণ কোম্পানি ও উদ্যোক্তাদের কয়েকটি কিস্তিতে তিন বছরে প্রদান করা হয়। পঞ্চম বছর পর থেকে আইসিবির কাছে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কয়েক কিস্তিতে বাইব্যাক করার কথা। আর আট বছরে ঋণের পুরো অর্থ শেয়ার বাইব্যাক করে পরিশোধের কথা। কিন্তু ২৯টি কোম্পানি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।

এগুলোর মধ্যে ১৩টি সফটওয়্যার ও আইটি কোম্পানির এখন হদিস পাচ্ছে না আইসিবি। ইইএফ থেকে কোম্পানিগুলো মোট ১০ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে এ অর্থ আদায় করতে না পেরে অবশেষে নিরুপায় হয়ে বেসিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছে আইসিবি।

এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেসিসের সদস্য রয়েছে তিনটি। এগুলো হলো গুলশানের ঠিকানা ব্যবহার করে রাফায়েল কবীরের মালিকানাধীণ ডিএসএস স্যাটকম লিমিটেড (৩ কোটি ১৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা), কাওরানবাজারের কাজী মাহদী হাসানের ফরনিক্স সফট লিমিটেড (১ কোটি ৬৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা), অ্যালিফ্যান্ট রোডের মাহবুব আহমেদের ড্রিমস সফট লিমিটেড (৫০ লাখ টাকা)।

অন্য কোম্পানিগুলো হলো- কাওরান বাজারের ঠিকানায় মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন আলফা সফট সিস্টেমস (৪০ লাখ টাকা), উত্তরার ইঞ্জিনিয়ার জাকিরুল ইসলামের ক্রিস্টাল ইনফরমেটিকস লিমিটেড (৪০ লাখ),পান্থপথের মো. মহিউদ্দিন মাইনুর গ্যাংকি লিমিটেড (৪৭ লাখ টাকা), ধানমণ্ডির আশরাফুল আলমের ইনফরমেশন টেকনোলজি ম্যাট্রিক্স বাংলাদেশ লিমিটেড (৫০ লাখ টাকা), মিরপুরের আশরাফুল আলম দেওয়ানের ইন্টিগ্রেটেড সলিউশন লিমিটেড (৫০ লাখ টাকা), ধানমণ্ডির আসিফুর রহমানের ইন্টারস্যাট সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা), মিরপুর-২ এর নোমান এম চৌধুরীরর জুপিটার আইটি লিমিটেড (৫০ লাখ টাকা), ধানমণ্ডির সাঈদ কেনান ইব্রাহীমের মারফি ম্যাককান কনসালটেন্ড লিমিটেড (৪০ লাখ টাকা), শুধু ঢাকার ঠিকানা উল্লেখ করে ফারুক চৌধুরীর রিসোর্স টেকনোলজি লিমিটেডের (৫০ লাখ টাকা) এবং ফার্মগেটের আতাউল্লাহ খানের ইলেক্ট্রনিকস ডিজিটাল সিস্টেমস লিমিটেডের (৫০ লাখ টাকা)।

এ বিষয়ক আইসিবির এক নথির তথ্য অনুসারে, এই ১৩ প্রকল্পের প্রকল্পস্থল ও ঠিকানা পরিদর্শন করেও আইসিবির রিকভারি বিভাগ সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সন্ধাণ মেলেনি।

আইসিবির প্রতিবেদনে এসব কো্ম্পানিকে অস্থিত্বহীন প্রকল্প উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের দেওয়া ঠিকানাতেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে বাকি ১৬টি কোম্পানিও ঋণ পরিশোধের নিদিষ্ট মেয়াদের আট বছর মেয়াদ পরেও কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।

এ বিষয়ে আইসিবির উপ-মহাব্যবস্থাপক টিপু সুলতান ফারাজি টেকশহরডটকমকে বলেন, এসব অস্থিত্বহীন কোম্পানি ও প্রকল্পের খোঁজ পেতে আইসিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারের অর্থ উদ্ধারে সব রকম চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ অ্যাসেসিয়েশন অব ইনফরমেশন অ্যান্ড সফটওয়্যার সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান টেকশহরডটকমকে বলেন, কোম্পানিগুলো খুবই খারাপ কাজ করেছে। দেশের সফটওয়্যার ও আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যখন চেষ্টা চলছে, তখন একটি শ্রেণী এ সুযোগে লুটপাট ও দুর্নীতির চেষ্টা করছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি খারাপ উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান।

শামীম বলেন, এসব ভুইফোড়দের মধ্যে কেউ বেসিস সদস্য হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সেগুলোর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে কোনো

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 16 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)