JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ফ্রিতে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট :) Search করুন , "জানাবিডি ডট কম" পেয়ে যাবেন ।

ভয়াবহ ঘটনা, পুত্রবধূর প্রেমিকের কবরে ৬ মাস শুয়ে শাশুড়ি!

ভয়ানক অন্যরকম খবর 28th Dec 2016 at 11:58pm 1,317
ভয়াবহ ঘটনা, পুত্রবধূর প্রেমিকের কবরে ৬ মাস শুয়ে শাশুড়ি!

কথায় বলে, বাস্তব নাকি কল্পকাহিনির থেকেও বিচিত্র হতে পারে সময় বিশেষে। কথাটা যে নির্জলা মিথ্যে নয়, এবং কখনও কখনও বাস্তব ঘটনার ভয়াবহতা যে ভূতের ফিল্মের থেকেও মারাত্মক হয়ে ওঠে, তা প্রমাণ করল সম্প্রতি ভারতের বিহারে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। যে ঘটনায় নিজের পুত্রবধূর প্রেমিকের কবরে শুয়ে টানা ছ’মাস যাপন করেছেন এক শাশুড়ি।

ঘটনাস্থল বিহারের বেগুসরাই জেলার বাখারি অঞ্চল। দীপক যাদবের সঙ্গে বছর দু’য়েক আগে বিয়ে হয় মণীষা কুমারীর।

সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছিল দু’জনের। দীপক-মণীষার দাম্পত্য জীবন প্রথম কয়েক মাস ঠিকঠাক কাটলেও, তার পরেই শুরু হয় অশান্তি। অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় মণীষার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। দীপক জানতে পারেন, সোনু নামের একটি ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মেলামেশা করছেন তার স্ত্রী।

তিনি অনেক বার বারণ করেন, কিন্তু মণীষা শোনেননি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই নিয়ে নিত্য অশান্তি লেগে থাকলেও, সোনু‌র সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করেননি মণীষা।

দীপকের ধারণা হয়, সোনুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়াই সমস্যা সমাধানের এক মাত্র রাস্তা। ৫ জুন ২০১৬ তারিখে তিনি সোনুকে ফোন করে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। রাত ১১টা নাগাদ সোনুকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন দীপক।

নিজের ঘরে সোনুকে নিয়ে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। মণীষা তখন সেই ঘরেই ছিলেন।

পাশের ঘরে শুয়ে ঘুমোচ্ছিলেন দীপকের মা মালতী দেবী। মাঝ রাত্রে মালতী দেবী ছেলে-বউয়ের ঘর থেকে ধস্তাধস্তি এবং ভারি কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। তিনি বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিয়ে জানতে চান, কীসের শব্দ হচ্ছে। ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে আবার নিজের ঘরে এসে শুয়ে পড়েন।

মালতী দেবী জানতেও পারেননি, কী মারাত্মক ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটিয়ে ফেলেছেন তার ছেলে। ৫ জুন রাত্রেই কিঞ্চিৎ হাতাহাতির পরে সোনুকে খুন করেন দীপক। সারা রাত্রি লাশ লুকিয়ে রাখেন নিজের ঘরে। পরের দিন সকালে কোনও কাজে যখন বাইরে গিয়েছেন মালতী দেবী, তখন সোনুর মৃতদেহটি দীপক নিয়ে আসেন মায়ের ঘরে।

মায়ের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে তার ভিতরে রেখে দেন সোনুর প্রাণহীন দেহ। মাটি চাপা দেওয়ার আগে লাশের উপর ছড়িয়ে দেন অ্যাসিড, যাতে মৃতদেহ দ্রুত গলে যায়। তার পর মাটি চাপা দিয়ে কবরের উপরে বিছিয়ে দেন একটি কার্পেট, যাতে বাইরে থেকে কিছু বোঝা না যায়।

ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে ছ’মাস। এই ছ’মাসে মালতী দেবী কিছু টেরও পাননি। তিনি অভ্যাস মতো নিজের ঘরে মাটিতে বিছানা করেই শুচ্ছিলেন। কার্যত সোনুর কবরের উপরেই বিছানা করে রাত্রে ঘুমিয়েছেন তিনি।

ও দিকে সোনু বাড়ি না ফেরায় থানায় নিরুদ্দেশ ডায়েরি করেন তার পরিবারের লোকজন। পুলিশ তদন্ত শুরু করার কয়েক দিনের মাথাতেই মণীষার সঙ্গে সোনুর সম্পর্কের কথা জানতে পারে। সেই সূত্র ধরে গত ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ পৌঁছায় দীপকের বাড়িতে। জেরার মুখে ভেঙে পড়েন দীপক, এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

আবিষ্কার হয় সোনুর কবরটিও। মাটি খুঁড়তেই হাড়গোড় এবং চুলের টুকরো পায় পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত দেহাবশিষ্ট সোনুরই কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নেবে তারা। কিন্তু দীপকের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তারা প্রায় নিঃসন্দেহ যে, ওটা সোনুরই দেহাংশ।

দীপক ও মালতী দেবীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা ঘটনাটা জানতে পারে পুলিশ। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় দীপক ও মণীষাকে। বেগুসরাই থানার ওসি রমাকান্ত শর্মা এই বিষয়ে জানান, ‘আমরা জানতে পেরেছি, হত্যার সময়ে মণীষা ঘরেই ছিলেন। তার সামনেই সোনুকে খুন করেন দীপক। কিন্তু মণীষা কোনও রকম ভাবে দীপককে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে আমাদের কাছে খবর নেই। ফলে খুনে পরোক্ষ মদতদানের দায়ে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

কিন্তু ঘরের মধ্যে একটি মৃতদেহ কবরস্থ করা হল, অথচ কেউ কোনও রকম পচা গন্ধ পেলেন না কেন! রমাকান্ত শর্মা এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘মালতী দেবী আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলে সকাল-বিকেল তার ঘরে ঢুকে তীব্র সুগন্ধযুক্ত পারফিউম ছড়িয়ে যেতেন। পচা গন্ধ চাপা দেওয়ার জন্য এই কৌশলই নিয়েছিলেন দীপক।’

রমাকান্ত জানিয়েছেন, পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য দীপক ও মণীষাকে এখনও জেরা করে চলেছে পুলিশ।

এবেলা

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 11 - Rating 1.8 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)