JanaBD.ComLoginSign Up

ভাই’র বিয়ের আসরে তার শ্বশুরকেই বিয়ে করে বসল বোন!

সাধারন অন্যরকম খবর 31st Dec 2016 at 2:37pm 1,026
ভাই’র বিয়ের আসরে তার শ্বশুরকেই বিয়ে করে বসল বোন!

দিন কয়েক ধরেই এখন একটা খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। আর সেটা হল ভাই-এর শ্বশুরকে বোনের বিয়ে করার ঘটনা। পাকিস্তানের জামপুরের এই ঘটনায় অনেকেই ছি ছি করছেন। যদিও, পরিবারটির দাবি এমন বিয়ে তাঁদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এটা কোনও গর্হিত কাজ নয়।

কিন্তু, পুলিশ এত কিছু শুনতে রাজি হয়নি। যার জেরে ভাই-এর শ্বশুরকে গ্রেফতারও করা হয়। আপাতত তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

জানা গিয়েছে, জামপুরের প্রৌঢ় ওয়াজির আহমেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাবিল নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা যুবতীর। ওয়াজির বহুদিন থেকেই সাবিলকে বিয়ে করতে চাইছিল।

কারণ, ওয়াজিরের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনও ছেলে ছিল না। প্রৌঢ়ের আশা, সাবিল তাকে পুত্রসন্তান দিতে পারবে।

কিন্তু, স্বামী পরিত্যক্ত সাবিলের শর্ত ছিল বিনিময়ে তাঁর পঙ্গু ভাই মহম্মদ রমজানের সঙ্গে ওয়াজিরকে তাঁর ১৩ বছরের মেয়ের বিয়ে দিতে হবে।

শর্তে রাজি হয়ে যাওয়া ওয়াজির তড়িঘড়ি প্রথম পক্ষের স্ত্রীর বছর ১৩-র মেয়ে সাইমার সঙ্গে সাবিলের পঙ্গু ভাইয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। ৩৬ বছরের রমজানের সঙ্গে সাইমার বয়সের ফারাক অন্তত তিন গুণ। যুবতী সাবিলকে বিয়ের নেশার বুঁদ হয়ে থাকা ওয়াজির আহমেদের এসব ভেবে দেখার অবকাশ ছিল না। আর সেই বিয়ের আসরেই সাবিল বিয়ে করেন ওয়াজিরকে।

ঘটনা জানাজানি হতেই পুলিশ ওয়াজিরকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে নাবালিকা কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু, বাবা এবং স্বামীকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে আদালতে মিথ্যা বলে সাইমা। জানায় তার বয়স ১৬ বছর। পাকিস্তানের আইনে মহিলাদের বিয়ের আইনি বয়স ১৬। ফলে, ওয়াজির জেল থেকে ছাড়া পায়।

কথা কম বলা নাবালিকা সাইমা পরে জানায়, বাবাকে জেল থেকে বের করতে মিথ্যা বলা ছাড়া কোনও গতি ছিল না।

সাইমার স্বামী মহম্মদ রমজান কথা বলতে পারেন না, ঠিক করে হাঁটতেও পারেন না। কোনওমতে শারীরিক আকার-ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, ছোট্ট সাইমাকে তিনি বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু, বোন সাবিলের চাপে তিনি বিয়েতে রাজি হন।

রমজানের বাবাও শয্যাশায়ী। মা ভিক্ষে করে আয় করেন। ফলে নিদারুণ দারিদ্রের সঙ্গে বয়সে বহু বড় স্বামীকে নিয়ে এখন অথই জলে পড়েছে সাইমা। সেইসঙ্গে তার কাঁধে চেপেছে স্বামীর বোন তথা তাঁর নিজের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিলের মেয়ে ১০ বছরের হাসিনাকে প্রতিপালনের দায়িত্ব।

সাইমার মা জন্নত, স্বামী ওয়াজিরের কাজে গর্বই অনুভব করছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের জনজাতিতে মেয়েরা যৌবনপ্রাপ্ত হলেই তাদের বিয়ে দেওয়াটা রীতি। এমনকী, নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বর-কনে আদান প্রদান করার চল বহুদিনের।

যদিও, ছোট্ট সাইমার দুরাবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এমন বিবাহকে স্বীকৃতি না দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করা হচ্ছে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 4 - Rating 2.5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)