JanaBD.ComLoginSign Up
জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

আরও বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে উন্মুখ সৌম্য

ক্রিকেট দুনিয়া 7th Jan 2017 at 4:39pm 610
আরও বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে উন্মুখ সৌম্য

ঘড়ির কাটা সাড়ে ১০টা টপকেছে কেবল। মাউন্ট মুঙ্গানুয়ের ‘বে ওভাল লাগো প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডের সবচেয়ে বাঁ-দিকের নেটে ব্যাট করছেন এক বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ঠিক উল্টো দিকে কালো পর্দার সাইট স্ক্রিনের মতো কিছু একটা স্থাপনা আছে। তার নিচে বসে একান্তে সেই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং পাখির চোখে পরখ করছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। কাছে যেতেই বোঝা গেল আর কেউ নন ব্যাটসম্যানটি সৌম্য সরকার। খুব মন দিয়ে নেটে ব্যাটিং করলেন।

ব্যাটিং শেষে ড্রেসিং রুমে ঢুকে পড়া। সেখানে খানিক বিশ্রাম নিয়ে বে ওভালের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সাথে দেখা হওয়া মাত্র সৌজন্যতা বিনিময়। দু-চার কথা আলাপ। দারুণ রান খরা যাচ্ছিল। কাল সেই খরার মাঝে এক পশলা বৃষ্টির মতো ৩৯ রানের মাঝারি এক ইনিংস সাজাতে পেরেছেন। তাতে যে সৌম্য বর্তে গেছেন। জাতে উঠে গেছেন, এমন নয়। ওই ইনিংসে বাংলাদেশ জেতেনি।

সৌম্যও হিরো হননি। তবে দুটি কাজ হয়েছে। প্রথম কাজ হলো সাব্বির রহমান রুম্মনের সাথে সৌম্যর পার্টনারশিপটিই খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া অবস্থা থেকে মাশরাফির দলকে টেনে উপরে তুলেছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও যে ব্ল্যাক ক্যাপ্সদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারেন, টাইগারদেরও সামর্থ্য আছে, এক কিউই বোলারকে তুলোধুলো করে এক ওভারে ২১ রান তোলার সে সত্য জানা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, সাব্বির-সৌম্য জুটিতেই আশার সঞ্চার। জয়ের স্বপ্ন তৈরি। এটা গেল দলের দৃষ্টিকোণের ব্যাখ্যা। আর সৌম্যর দিক থেকে ওই ৩৯টি রান মহামূল্যবান। মোটেই ব্যাট কথা বলছিল না। প্রবল রান খরা যাচ্ছিল। এ সময় ২৬ বলে দুই ছক্কা ও তিন বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংসটি যেন ধুসর মরুতে এক পাহাড়ি ঝর্ণা। মাঝে চেহারায় একটা না পাড়ার হতাশা ফুটে উঠেছিল। আজ তার বদলে খানিক ঔজ্জ্বল্য।

কিছু হয়তো হয়নি। আপনি দল জেতাতে পারেননি। কাছাকাছিও যাওয়া সম্ভব হয়নি। তারপরও একটা ভালো জুটি গড়ে উঠেছিল। তাতে সম্ভাবনাও জেগেছিল, যা হয়েছে সেটাকে কীভাবে দেখছেন? সৌম্যর ছোট কিন্তু পরিষ্কার জবাব, ‘অনেক দিন পর কিছুটা রানের দেখা। সন্তুষ্টি না থাকুক, একটু স্বস্তির পরশতো অবশ্যই আছে।

তারপরও খানিক আক্ষেপও কাজ করছে। ভালোই লাগছিল ব্যাটে। যেখানে খেলতে চাচ্ছিলাম। পারছিলাম। আস্থা ও আত্মবিশ্বাস দুই-ই ছিল। মনে হচ্ছিল যেতে পারবো আরও সামনে। কিন্তু তা আর হলো কই? একটা পর্যায়ে গিয়ে ঠিক ফিরে আসতে হলো। আরও লম্বা খেলতে পারলে আসলে ভালো লাগতো। মনকে প্রবোধ দিতে পারতাম কিছু একটা করেছি। যা খেলেছি, যে রান হয়েছে সেটাতো আর দলের তেমন কোনো কাজে আসেনি। আমি দলের জন্য খেলতে চাই। দলকে কিছু দিতে চাই। দল সার্ভিস পেলেই না ভালো খেলার স্বার্থকতা।’

সমালোচকরা যাই বলুন না কেন, সৌম্যর দলকে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে। খুব বেশি পেছনে ফিরে যেতে হবে না। ২০১৫ সালে সৌম্যর তিনটি বড় ইনিংস আছে। অমন সাহসী, সাবলীল আক্রমণাত্মক ফ্রি স্ট্রোক প্লে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের খুব কম ব্যাটসম্যানের আছে।

প্রথমটি ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল পাকিস্তানের সঙ্গে। শেরেবাংলায় টিম বাংলাদেশের সামনে আজহার আলীর দল টার্গেট দিল ২৫১। সৌম্য একাই খেলে ফেললেন ১২৭ রানের হার না মানা ইনিংস। মাত্র ১১০ বলে ছয় ছয়টি বিশাল ছক্কা আর ১৩ বাউন্ডারিতে সাজানো ওই ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ জিতল খেলার ৬৩ বল আগে।

এর মাত্র দুই মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আবার সৌম্যর ব্যাটে ঝড়। প্রথম ২০১৫ সালের ১২ জুলাই। শেরেবাংলায় প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ৭৯ বলে (১৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়) ৮৮ রানের অপরাজিত ও ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা। ঠিক তিনদিন পরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৭৫ বলে ৯০ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস উপহার দিয়ে আবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ওই তিন ম্যাচে দুটি সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যে কোনো বোলিং শক্তির বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক ইনিংস সাজানোর ক্ষমতা আছে সৌম্যর। আর তার ব্যাট থেকে যখন দীর্ঘ ইনিংস বেড় হয় তখন দল জেতে এবং সৌম্যই ম্যাচ সেরা হন। এমন পারফরমারের ব্যাট মানেই খোলা তরবারি। সেই সৌম্যর দেখা মিলেও মিললো না শুক্রবারও। কে জানে রোববার মিলতেও পারে।

তথ্যসূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 13 - Rating 4.6 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)