JanaBD.ComLoginSign Up

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "JanaBD.Com"

যেসব বড় উল্কাপিণ্ড পড়া সত্ত্বেও পৃথিবী বেঁচে আছে

বিজ্ঞান জগৎ 5th Mar 2017 at 10:09am 943
যেসব বড় উল্কাপিণ্ড পড়া সত্ত্বেও পৃথিবী বেঁচে আছে

প্রায়ই উল্কা যখন পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তার অধিকংশই পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই বায়ুমণ্ডলে সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং বাষ্প হয়ে যায়। আর এগুলোকেই আমরা উল্কাপিণ্ড বলে থাকি।

কিন্তু কিছু কিছু উল্কা ভাগ্যক্রমে তাদের সম্পূর্ণ যাত্রা সমাপ্ত করে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। আর যেগুলো পৃথিবীতে পৌঁছায় সেগুলো কোনো ক্ষয় না হয়েই হাজার বছর টিকে থাকতে পারে।

অন্যদিকে বৃহত্তর গ্রহাণু বেশ ভয়ংকর, যা প্রায় ৬৩ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে এবং ডাইনোসর এর বিলুপ্তি ঘটায়। ২০১৩ সালে খুব অল্পের জন্য এমন একটি গ্রহাণু ‘২০১২ ডিএ১৪’ পৃথিবীর ওপর আছড়ে পরেনি।

এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু বড় উল্কাপিণ্ডের তথ্য তুলে ধরা হল, যেগুলো পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়া সত্ত্বেও, বহাল তবিয়তে টিকে আছে পৃথিবী।


উইলমিট উল্কা এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া সবচেয়ে বড় উল্কা। যা ৭.৮ বর্গমিটার আকৃতির এবং ওজন প্রায় ১৫.৫ টন

উল্কাটি লোহা এবং নিকেলের তৈরি। এটি ১৯০৬ সাল থেকে আমেরিকান ন্যাচারাল হিস্টোরি জাদুঘরে সংরক্ষিত। এটার সঙ্গে একটি মজার গল্প সংযুক্ত আছে। এটা ১৯০২ সালে এলিস হিউজেস আবিষ্কার করেন। যিনি প্রথম বুঝতে পারেন এটা সাধারণ লোহা নয়। তিনি ওরেগন লৌহ ও ইস্পাত কোম্পানি থেকে এটি নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এই জন্য প্রায় ৩ মাস ধরে তিনি মাত্র এক মাইলের চার ভাগের একভাগ তা দূরে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ধরা পরে যান। ওপরের ছবিটি নিউ ইয়র্কের আমেরিকান ন্যাচারাল হিস্টোরি জাদুঘর থেকে ১৯১১ সালে তোলা।

অ্যাম্বোজি, যা ১৯৩০ সালে তানজানিয়ায় আবিষ্কৃত হয়। এটা প্রায় ৩ মিটার লম্বা এবং এর ওজন আনুমানিক ২৫ টন। এবং উইলমিট এর তুলনায় প্রায় দুইগুণ।

তানজানিয়ার মানুষ যারা এটাকে প্রথম পেয়েছিল তারা এটাকে পবিত্র পাথর হিসেবে মানত। কোনো জ্বালামুখ পাওয়া যায়নি, যার অর্থ এটি সম্ভবত একটি পাথরের চাঁই এর মতো পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপর পড়েছিল। যখন এটা আবিষ্কৃত হয়েছিল তখন এটা মাটিতে আংশিক চাপা দেয়া অবস্থায় ছিল।


তৃতীয় বৃহত্তম উল্কাটি হল কেপ ইয়র্ক, যা প্রায় ১০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়ে

কেপ ইয়র্ক উল্কা, গ্রীনল্যান্ড থেকে ১৯৯৩ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং যার ওজন প্রায় ২০ টন। এটা ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এ ভূতাত্ত্বিক মিউজিয়াম, কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।


বাকুব্রিটো উল্কা, মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় উল্কা। যার ওজন প্রায় কেপ ইয়র্ক উল্কার সমান

ভূবিজ্ঞানী গিলবার্ট এলিস বেইলি উল্কাটি ১৯৬৩ সালে সিনালোয়া ডি লেভিয়া শহরের কাছে রাঞ্চিত গ্রামে আবিষ্কার করেন। উল্কাটি লোহার তৈরি। যার ওজন প্রায় ২০ টন। এটি ৪.২৫ মিটার লম্বা, ২ মিটার চওড়া। এবং উচ্চতা ১.৭৫ মিটার। এটা সেন্ট্রো ডি সেনিসাস ডি সিনালোয়ায় প্রদর্শিত হচ্ছে।


এল চকো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম উল্কা এল চকো, যার ওজন বাকুব্রিটো উল্কার দ্বিগুণ

ক্যাম্পো দেল ছিয়েলো নামক একগুচ্ছ উল্কা আর্জেন্টিনায় একই নামের স্থানে ৬০ বর্গ কিলোমিটার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। এর অন্যতম একটি টুকরা হচ্ছে এল চকো, যা প্রায় ৩৭ টন ওজনের। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম উল্কা। ১৯৬৯ সালে এটিকে মাটির ৫ মিটার নিচ থেকে উদ্ধার করা করা হয় একটি মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে। যদিও পার্শ্ববর্তী গর্ত আগে থেকেই স্থানীয়দের কাছে ভালোভাবে পরিচিত ছিল। ১৯৯০ সালে রবার্ট হাগ এল চাকো চুরি করা পরিকল্পনা করে, কিন্তু তিনি আর্জেন্টিনার একজন স্থানীয় পুলিশ অফিসারের কাছে ধরা পরেন।

২০১৬ সালে এই স্থান থেকে আরেকটি টুকরো চুরি করা হয়, ধারণা করা হয় তা ‘এল চাকো’ এর সঙ্গেই পতিত হয়েছিল।

কিন্তু সবচেয়ে বড় উল্কা হল, হোবা। যার আকার বিশাল। এটা নামিবিয়ায় অবস্থিত। এটাকে কখনো সরানো যায়নি।

এল চাকো এর আকারের দিগুণ হচ্ছে, হোবা। এটার ওজন ৬০ টন। বাইরের বাইরের প্রাকৃতিক এই লোহা পিন্ডের আকৃতি ৬.৫ বর্গ মিটার। এটা প্রায় ৮০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে। তখন থেকে ওটা ওখানেই আছে। কখনো সরানো যায়নি এটার বিশালতার জন্য। এটার কোনো ক্ষয় ও হয়নি।

একটি থিওরি বলে যে, উল্কার আকারের জন্যই মূলত এর পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ খুব কম হয়।

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 150 - Rating 5.3 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)