JanaBD.ComLoginSign Up

Bangla Love Sms

“লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ” আসলে কি?

ইসলামিক জ্ঞান 24th Apr 17 at 4:10pm 1,115
“লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ” আসলে কি?

বছরের যে ক’টি রাত ফজিলতপূর্ণ এর একটি লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ। রাসুল (সা.) জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনাগুলোর একটি মিরাজ। ২৬ রজব দিবাগত রাতে রাসুল (সা.) আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। ঐতিহাসিক সেই সফরকেই মিরাজ বলা হয়। মিরাজ আরবি শব্দ, শাব্দিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন, আকাশপথে ভ্রমণ করা, সোপান ইত্যাদি।

রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে উম্মে হানির ঘর থেকে জাগ্রত অবস্থায় বোরাকে করে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা, সেখান থেকে প্র্রথম আকাশ হয়ে সপ্তাকাশ, সেখান থেকে বায়তুল মামুর, সিদরাতুল মুনতাহা, আরশে আজিম পৌঁছে আল্লাহর দিদার লাভ করা—এসবই মেরাজের অন্তর্ভুক্ত।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি তার বান্দাকে তার নির্দশনগুলো দেখানোর জন্য রাতকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত।

যার পরিবেশ পবিত্র, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা (বনি ইসরাইল, আয়াত-১)।

ঐতিহাসিকদের মতে, ৫২ বছর বয়সে হিজরতের এক বছর আগে রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মিরাজের ঘটনা ঘটে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরাজের রাতে রাসুল (সা.) উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাত্ হজরত জিবরাইল (আ.) এসে রাসুলকে মসজিদুল হারামে নিয়ে যান। যেখানে তার বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা ধুয়ে পরিষ্কার করে শক্তিশালী করেন।

এ ঘটনাকে ‘শাক্কুস সদর’ বলে। নবীর (সা.) জীবনে অন্তত তিনবার এমনটা হয়েছে। তারপর সেখান থেকে তিনি ‘বোরাক’ নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে এসে সব নবীর ইমাম হয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করতে থাকেন।

রাস্তায় মুসাসহ (আ.) বেশ কয়েকজন নবী-রাসুলের সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়। সপ্তম আসমানের পর হজরত রাসুলুল্লাহকে (সা.) বায়তুল মামুর পরিদর্শন করানো হয়। বায়তুল মামুরে দৈনিক ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন। ফেরেশতাদের সংখ্যা এত বেশি যে, যারা একবার এই বায়তুল মামুরে প্রবেশ করেন কেয়ামত পর্যন্ত তাদের সেখানে প্রবেশ করার পালা আসে না।

সেখানে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বচক্ষে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেন। এরপর হজরত রাসুলুল্লাহের (সা.) সামনে একপাত্র মদ, একপাত্র দুধ এবং একপাত্র মধু আনা হয়। তিনি এর মধ্য থেকে দুধের পাত্রটি গ্রহণ করেন। তখন হজরত জিবরাইল (আ.) বললেন, এটা ফিত্রত বা স্বভাব ধর্মের নিদর্শন। আপনি এবং আপনার উম্মত এই স্বভাবধর্ম ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন।

বায়তুল মামুরে হজরত জিবরাইলকে (আ.) রেখে তিনি ‘রফরফ’ নামক আরেকটি আসমানি বাহনে চড়ে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, মেরাজের রাতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহতায়ালার এতটা কাছাকাছি গিয়েছিলেন যে, দুজনের মধ্যখানে মাত্র এক ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। এখানে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বারবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উম্মতে মোহাম্মদীর ওপর ফরজ করেন, যা ইসলামের পাঁচটি রুকনের অন্যতম রুকন বা ভিত্তি।

যেহেতু মিরাজের রাতে নামাজের নির্দেশ হয়েছে, এজন্য নামাজকে ‘মিরাজুল মুমিনিন’ মুমিনের মিরাজ বলা হয়।

রাসুলের (সা.) মিরাজ সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণাদি রয়েছে। এজন্য কোনো মুসলমানের পক্ষে তা অস্বীকার করা কিংবা এ ব্যাপারে সংশয় দেখানো উচিত নয়। এমনকি একজন খাঁটি মুসলমানের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মেরাজের সত্যতা প্রমাণের অপেক্ষা না করে এ বিষয়ে মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানি কর্তব্য। রাসুল (সা.)-এর মিরাজে যাওয়ার কথা একজন অবিশ্বাসীর মুখে শুনে হজরত আবু বকর (রা.) তত্ক্ষণাত্ বিশ্বাস করেছিলেন বলেই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দিয়েছিলেন।

মিরাজ নবী জীবনের নিছক একটি ঘটনাই নয়, এর তাত্পর্য ও শিক্ষা অনেক বিস্তৃত। যখন নবী করিম (সা.) জাগতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হন, তার প্রিয়তমা স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ও বিপদে আশ্রয়দাতা চাচা আবু তালিবের আকস্মিক ইন্তেকাল হয়, অন্যদিকে কাফেরদের অত্যাচার তাকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহতাআলা তার বন্ধুকে নিজের সান্নিধ্যে ডেকে এনে সান্ত্বনা দিয়ে সমাজ সংস্কারের একটি পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

ইসলামের প্রধানতম স্তম্ভ নামাজ ফরজ করা হয় ওই রাতে। তাছাড়া ওই রাতে রাসুলকে (সা.) স্বচক্ষে এমন কিছু বিষয় দেখানো হয়, যা একটি আদর্শিক সমাজ গঠনে পরবর্তী জীবনে কাজে লাগে।

ওই রাতে নবীদের ইমাম বানিয়ে আল্লাহতায়ালা মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর (সা.) শ্রেষ্ঠত্বের বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করেন। শুধু নবীকেই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়নি, এই নবীর উম্মতদেরও শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয় শবে মিরাজে। এজন্য মিরাজের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোই একজন আদর্শ উম্মত তথা মুসলমানের কাজ।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 48 - Rating 4.8 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
কোন রাতের দোয়া আল্লাহপাক ফিরিয়ে দেন না? কোন রাতের দোয়া আল্লাহপাক ফিরিয়ে দেন না?
18 Apr 2018 at 9:54am 743
যে ৩ ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না যে ৩ ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না
13 Apr 2018 at 10:33am 1,554
যে নামাজ বান্দাকে আল্লাহর একান্ত আপন করে দেয় যে নামাজ বান্দাকে আল্লাহর একান্ত আপন করে দেয়
12 Apr 2018 at 5:46pm 727
জান্নাতি মানুষের চেহারা যেমন হবে জান্নাতি মানুষের চেহারা যেমন হবে
12 Apr 2018 at 5:43pm 819
মৃত্যুর পর যে কারণে বড়ই পাতা দিয়ে শেষ গোসল করানো হয়! মৃত্যুর পর যে কারণে বড়ই পাতা দিয়ে শেষ গোসল করানো হয়!
22 Mar 2018 at 12:00pm 1,491
আল্লাহ যে ৪ কাজে বান্দাকে অভিশম্পাত করেন আল্লাহ যে ৪ কাজে বান্দাকে অভিশম্পাত করেন
13 Jan 2018 at 2:56pm 2,702
যে ১০ কারণে আল্লাহ দোয়ায় সাড়া দেন না যে ১০ কারণে আল্লাহ দোয়ায় সাড়া দেন না
02 Jan 2018 at 1:28am 4,118
আল-আকসা মসজিদ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আল-আকসা মসজিদ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
7th Dec 17 at 2:13pm 1,093

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন
ইংরেজি শিক্ষার আসর - ৬৩তম পর্বইংরেজি শিক্ষার আসর - ৬৩তম পর্ব
সাধারন জ্ঞানের আসর - ১৭৪তম পর্বসাধারন জ্ঞানের আসর - ১৭৪তম পর্ব
ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে মাশরাফির ফেরার সম্ভাবনা!ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে মাশরাফির ফেরার সম্ভাবনা!
চুপিচুপি অভিষেকের ফোন চেক করেন ঐশ্বরিয়া?চুপিচুপি অভিষেকের ফোন চেক করেন ঐশ্বরিয়া?
বাংলাদেশে হুয়াওয়ের নতুন সুপারস্টার স্মার্টফোন নোভা থ্রিইবাংলাদেশে হুয়াওয়ের নতুন সুপারস্টার স্মার্টফোন নোভা থ্রিই
হুয়াওয়ের অনার ১০ ফোনে থাকছে দুর্দান্ত সব ফিচারহুয়াওয়ের অনার ১০ ফোনে থাকছে দুর্দান্ত সব ফিচার
২০ বছর ধরে পেটে লাইটার! অতঃপর...২০ বছর ধরে পেটে লাইটার! অতঃপর...
মোবাইল ফোন নিয়ে অবাক করা ৬ তথ্যমোবাইল ফোন নিয়ে অবাক করা ৬ তথ্য