JanaBD.ComLoginSign Up
জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জেনে নিন নফল রোযার নিয়ম ও গুরুত্ব

ইসলামিক শিক্ষা May 19 at 11:41am 352
জেনে নিন নফল রোযার নিয়ম ও গুরুত্ব

রমযান মাসে রোযা পালন করা ফরয। কোনো কারণ ছাড়া রমযানের ফরয রোযা ভেঙে ফেললে তার কাযা ও কাফফারা রোযা পালন করা ফরয। রমযানে ফরয রোযা না রাখলে বা কোনো কারণবশতঃ ছেড়ে দিলে তার কাযা আদায় করা ফরয।

এ ছাড়া মানত রোযা পালন করা এবং নফল রোযা রেখে ছেড়ে দিলে বা ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় নফল রোযা ভেঙে ফেললে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।

ফরয রোযা ছাড়া অন্যান্য রোযাকে নফল রোযা বলা হয়; নফল মানে অতিরিক্ত, ফরয বা ওয়াজিব নয়। এই নফল রোযা মূলত দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পালনকৃত, এরূপ রোযা সুন্নাত। দ্বিতীয় প্রকার হলো অনির্ধারিত, এগুলো মুস্তাহাব। এই উভয় প্রকার রোযাকে সাধারণভাবে নফল রোযা বলা হয়ে থাকে।

নফল রোযার গুরুত্ব
রোযার ফযিলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর যাকাত আছে, শরীরের যাকাত রোযা।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘রোযা ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুদৃঢ় দুর্গ।’ (নাসায়ী)

ইবনে খুজাইমা ও হাকিম আবু ইমাম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি আমাদের কিছু আমল করার উপদেশ দান করুন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোযা অবলম্বন করো, এর সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ তাঁরা পুনরায় বললেন, আমাদের কোনো আমল বলে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোযা অবলম্বন করো, এর সমতুল্য কোনো আমল নেই।’ তাঁরা পুনরায় একই আবেদন করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পুনরায় একই আদেশ করলেন। (সুনানু নাসায়ী)

মুআজ ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমযান মাস ছাড়া অন্য সময় আল্লাহ তা‘আলার জন্য একটি রোযা রাখবে; দ্রুতগামী ঘোড়া ১০০ বছরে যত দূর রাস্তা অতিক্রম করতে পারে, দোজখ তার কাছ থেকে তত দূরে অবস্থান করবে।’ (তিরমিযী ও নাসায়ী)

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার জন্য একটি রোযা রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা তার মুখমণ্ডল দোজখের আগুন থেকে ৭০০ বছরের রাস্তা দূরে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আবু দারদা (রা.) ও আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার জন্য পালনকৃত একটি রোযার ফলে জাহান্নাম (ওই রোযাদার ব্যক্তি থেকে) আসমান-জমিনের দূরত্বে অবস্থান করবে।’ (তিরমিযী ও তাবরানী)

উমার (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোযখ রোযাদার ব্যক্তি থেকে ১০০ বছরের দূরত্বে থাকবে।’ (তাবারানী)

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ এক দিন নফল রোযা রাখে, তবে তার যে সওয়াব হবে, পৃথিবীর সমান স্বর্ণ দান করলেও তার সমান হবে না।’ (তাবারানী ও আবু ইয়ালি)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোযাদার ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। (বায়হাকি)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, রোযা আমারই জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব; রোযা আমারই জন্য আমি নিজেই তার প্রতিদান।’ (বুখারী ও মুসলিম)

রমযান মাসের রোযা ও অন্যান্য রোযার নিয়তের তারতম্য
রমযান মাসের রোযা ও অন্যান্য রোযার নিয়তের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। রমযান মাসের ফরয রোযার নিয়ত মধ্য দিবসের পূর্ব পর্যন্ত তথা দুপুর ১২টার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে করা যায়। রমযান মাসের ফরয রোযা ভিন্ন অন্যান্য রোযার নিয়ত ‘সুবহে সাদিক’-এর আগে তথা সেহরীর সময়ের মধ্যে বা তার আগেই করতে হয়। কারণ, রমযান মাসের ফরয রোযার সময় নির্ধারিত এবং তা বাধ্যতামূলক; আর অন্যান্য রোযার কোনো নির্ধারিত সময় নেই এবং এগুলো রমযান মাসের ফরয রোযার মতো বাধ্যতামূলক অপরিহার্য কর্তব্য নয়।

রোযার আদব
রোযার সাতটি আদব রয়েছে, যা রোযা কবুলে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এক. চোখের হেফাজত; দুই. জবানের হেফাজত; তিন. কানের হেফাজত; চার. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের হেফাজত; পাঁচ. অল্প সেহরী; ছয়. স্বল্প ইফতার; সাত. আল্লাহর প্রতি অনুরাগ।

মেহমান ও মেজবানের সম্মানে নফল রোযা ছেড়ে দেওয়া
নফল রোযা দুই প্রকার; প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা নবী করীম (সা.) কর্তৃক পালনকৃত। এই প্রকার রোযা সুন্নাত; দ্বিতীয় প্রকার হলো অনির্ধারিত, এগুলো মুস্তাহাব। এই উভয় প্রকার রোযাকে সাধারণভাবে নফল রোযা বলা হয়ে থাকে।

নফল রোযা পালন অবস্থায় যদি অতিথি আপ্যায়ন করাতে হয় বা আপ্যায়ন গ্রহণ করতে হয়, তাহলে নফল রোযা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ হবে এবং পরবর্তী সময়ে এই রোযা কাযা আদায় করা ওয়াজিব হবে। এতে তিন গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। প্রথমত, নফল রোযা রাখার সওয়াব; দ্বিতীয়ত, মেহমান (গেস্ট) বা মেজবান (হোস্ট)-এর সম্মান রক্ষার সওয়াব; তৃতীয়ত, নফল রোযা ভাঙার পরিবর্তে ওয়াজিব কাযা রোযা আদায় করার সওয়াব।

উম্মে হানী (রা.) বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমা (রা.) এলেন। তিনি নবী (সা.)-এর বাম পাশে বসলেন এবং উম্মে হানী (রা.) নবীজীর (সা.) ডান পাশে বসলেন। এমতাবস্থায় ওয়ালিদাহ একটি পানপাত্র নিয়ে এল। নবীজী (সা.) তা থেকে পান করলেন, তারপর উম্মে হানী (রা.) পান করলেন। এরপর উম্মে হানী (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমি রোযা ছিলাম, এখন ইফতার (ভঙ্গ) করলাম। নবীজী (সা.) বললেন, তুমি কি কাযা রোযা করছিলে? উম্মে হানী (রা.) বললেন, না। তিনি বললেন, যদি তুমি নফল রোযা রাখো তবে তা ভাঙায় কোনো দোষ নেই। (আবু দাউদ, তিরমিযী ও দারামী)

আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি ও হাফসা রোযা ছিলাম; আমাদের সামনে খাবার পেশ করা হলো, আমাদেরও খেতে ইচ্ছে হলো; আমরা আহার করলাম। হাফসা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমরা রোযা ছিলাম, আমাদের সামনে খানা পেশ করা হলো, আমাদেরও খাওয়ার আগ্রহ ছিল; তাই আমরা খেলাম। নবীজী (সা.) বললেন, তোমরা এই রোযা অন্য দিন কাযা করে নেবে। (তিরমিযী)

রোযা রাখার নিষিদ্ধ দিবসসমূহ
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরবানির ঈদের দিন ও রোযার ঈদের দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)

নুবায়শা হুজালি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আইয়ামে তাশরিক (জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ) হলো খাওয়া, পান করা ও আল্লাহর স্মরণ করার জন্য।’ (মুসলিম)

জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতে অবস্থানকারীরা রোযা রাখবেন না; অন্যরা রোযা রাখতে পারবেন।

বছরে পাঁচ দিন রোযা রাখা নিষেধ তথা নাজায়েয ও হারাম। সেই দিনগুলো হচ্ছে— রোযার ঈদের দিন, কোরবানির ঈদের দিন ও তৎপরবর্তী তিন দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা এ দিবসগুলোতে রোযা রাখবে না। কারণ, এই দিনগুলো শুধুই পান, আহার ও খেল-তামাশার (আনন্দ উপভোগের) জন্য।

সতর্কতা
নফল রোযা রেখে ইফতার যেন মাগরিবের নামাযের জামাত ছুটে যাওয়ার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

রমযান মাসে সবাই ফরয রোযা পালন করেন। সে সময়টিতে সবার জামাতে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে মাগরিবের নামাযের জামাত কিছুটা বিলম্বে আরম্ভ করা হয়। কিন্তু রমযান ছাড়া অন্য সময় যেহেতু মাগরিবের নামাযের জামাত বিলম্বিত হবে না; তাই মসজিদে পানি দিয়ে ইফতার করে জামাতে শামিল হওয়া বাঞ্ছনীয়।

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

জানাবিডি এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করে নিন

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 14 - Rating 5.7 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
নিজের মৃত্যুর জন্য কি দোয়া করা যাবে? নিজের মৃত্যুর জন্য কি দোয়া করা যাবে?
Yesterday at 2:43pm 241
মানুষের ওপর জিনের প্রভাব আছে কি? মানুষের ওপর জিনের প্রভাব আছে কি?
Yesterday at 9:18am 287
টেলিভিশন থাকলে কি ঘরে ফেরেশতা ঢুকবে? টেলিভিশন থাকলে কি ঘরে ফেরেশতা ঢুকবে?
Thu at 11:32pm 456
গর্ভপাত করানো কি নাজায়েজ? গর্ভপাত করানো কি নাজায়েজ?
Thu at 4:01pm 507
কিছু হারাম কাজ, যেগুলো এতদিন হালাল বলে জানতেন আপনি কিছু হারাম কাজ, যেগুলো এতদিন হালাল বলে জানতেন আপনি
Thu at 10:04am 718
দীর্ঘক্ষণ যারা অজু রাখতে পারেন না, নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কী? দীর্ঘক্ষণ যারা অজু রাখতে পারেন না, নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কী?
Thu at 9:58am 207
কালেমা পড়ে গুনাহ করার পরও কি জান্নাতে যাওয়া যাবে? কালেমা পড়ে গুনাহ করার পরও কি জান্নাতে যাওয়া যাবে?
Wed at 6:16pm 360
টাকার বিনিময়ে ইমামতি করা ব্যক্তির পেছনে নামাজ হবে কি? টাকার বিনিময়ে ইমামতি করা ব্যক্তির পেছনে নামাজ হবে কি?
Wed at 4:22pm 445

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন

চুল পড়া রোধে পেয়ারা পাতা
তিব্বতে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প
বিয়ে করলেন সেরেনা উইলিয়ামস
বিপিএলে ছক্কা হাঁকানো ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকা!
বিপিএলের পয়েন্ট তালিকায় কার অবস্থান কোথায়? দেখে নিন!
ফেসবুকে অটো ভিডিও প্লে বন্ধ করবেন যেভাবে
জয়কে রাখার লোক ঢাকায় খুঁজে পাইনি : অপু বিশ্বাস
গেইল-ম্যাককালাম নামছেন আজ