JanaBD.ComLoginSign Up

ওয়াশিংটন নামের ‘সুন্দর’ গল্প

খেলাধুলার বিবিধ Sat at 1:07pm 212
ওয়াশিংটন নামের ‘সুন্দর’ গল্প

গত বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময়ই নজরে এসেছিল নামটা—ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই অফ স্পিনার নিজের নামের জন্যই আলাদা মনোযোগ টেনেছিলেন বাংলাদেশের দর্শকদের।

ওয়াশিংটন নজর কেড়েছেন এবারের আইপিএলে রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়েও। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ারে ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অফ স্পিনার হিসেবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের যোগ্য উত্তরসূরির তালিকায় অনেকেই রাখতে শুরু করেছেন ওয়াশিংটনের নাম। নামের কারণে ভারতীয় ক্রিকেটেও তাঁকে নিয়ে কৌতূহল কিন্তু একেবারেই কম নয়।

ভারতীয় হয়েও তাঁর নাম ওয়াশিংটন। কেন? কারণটা জানিয়েছেন তাঁর বাবা এম সুন্দর। ছেলের নাম ওয়াশিংটন দেওয়ার নেপথ্যে আছেন একজন সেনা কর্মকর্তা।

চেন্নাইয়ের ত্রিপলিকানে তাঁদের বাড়ির কাছেই বাস করতেন সেই সেনা কর্মকর্তা। তাঁর নাম অনুসরণ করেই তিনি ছেলের নাম রেখেছেন ওয়াশিংটন।

এম সুন্দরকে খুব স্নেহ করতেন পিডি ওয়াশিংটন নামের সেই সেনা কর্মকর্তা। সুন্দর নিজেও একজন ক্রিকেটার ছিলেন।

পিডি ওয়াশিংটন এম সুন্দরের ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে উঠতে দারুণ সহায়তা করেছিলেন। রীতিমতো পুত্রস্নেহ মিশে ছিল সেই সহায়তায়। ক্রিকেট সরঞ্জামাদি থেকে শুরু করে চলার টাকা-পয়সা পিডি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অনেক কিছুই পেয়েছেন এম সুন্দর।

১৯৯৯ সালে মারা যান সেনা কর্মকর্তা পিডি ওয়াশিংটন। এর কিছুদিন পরেই জন্ম হয় এম সুন্দরের ছেলের। পিডির প্রতি এতটাই কৃতজ্ঞ যে তাঁর ছেলের নাম দিয়ে দিলেন ওয়াশিংটন, ওয়াশিংটন সুন্দর।

পিডির কথা বলতে গিয়ে বেশ আপ্লুত এম সুন্দর, ‘পিডি ওয়াশিংটনের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তিনি ক্রিকেট খেলা খুব পছন্দ করতেন।

চেন্নাইয়ের মেরিনা মাঠে তিনি প্রায়ই আমার খেলা দেখতে আসতেন। তিনি আমার খেলাও পছন্দ করতেন। আমি গরিব ছিলাম। তিনি আমাকে টাকা-পয়সা দিতেন। আমার জামা-জুতো কিনে দিতেন। আমার স্কুলের বেতন দিতেন। সাইকেলে করে আমাকে মাঠে নিয়ে যেতেন।

আমাকে অনুপ্রাণিত করতেন।’ আমি যখন রঞ্জি ট্রফিতে তামিলনাড়ুর প্রাথমিক দলে সুযোগ পেলাম, পিডি ছিলেন এই দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ।’

এম সুন্দরের কৃতজ্ঞতার পরিমাণ এতটাই যে তাঁর আরও একটি ছেলে থাকলেও তার নাম এই ওয়াশিংটনই দিতেন, ‘আমার ছেলের জন্ম–মুহূর্তটা খুব কঠিন ছিল। আমার স্ত্রীর কিছু সমস্যা হয়েছিল। হিন্দুরীতি অনুযায়ী আমি ছেলের কানে ঈশ্বরের নাম নিয়েছিলাম। কিন্তু নাম দিয়েছিলাম ওয়াশিংটন।

আমার যদি আরও একটি ছেলে থাকত, তাহলে আমি তার নাম রাখতাম ওয়াশিংটন জুনিয়র।’

সূত্র: জিনিউজ।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)