JanaBD.ComLoginSign Up

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..
Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "JanaBD.Com"

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের খুঁটিনাটি

ক্রিকেট দুনিয়া 19th Jun 2017 at 11:17pm 660
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের খুঁটিনাটি

২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যেন একের পর এক চমক দিয়েই সাজানো ছিল ক্রিকেট ভক্তদের জন্য। গত ১ জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসর। আর রোববার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে পর্দা নেমেছে এই আসরের। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক এবারের আসরের কিছু খুঁটিনাটি তথ্যসমূহ।

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ : চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসরে সব দলগুলোরই যেন অন্যতম প্রতিপক্ষ ছিল বৃষ্টি! তবে বৃষ্টি একটি দলের জন্য কতোটা ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে একমাত্র অস্ট্রেলিয়াই। কেননা টুর্নামেন্টে তাদের একটি ম্যাচও পুরোটা হতে দেয়নি সর্বনাশা এ বৃষ্টি। তাই তো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৩ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল অজিদের।তবে বৃষ্টি অজিদের সর্বনাশ ডেকে আনলেও এ বৃষ্টির কারণেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের মুখ দেখেছে টাইগাররা। তাই এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংলিশদের আকাশ কাঁদার সাথে সাথে কেঁদেছে অজিদের মনের আকাশও!

ডি ভিলিয়ার্সের শূন্য : ডানে-বামে, সামনে-পেছনে সবদিকেই সমান ব্যাট চলে। তাই তো সবাই মিস্টার থ্রি সিক্সটি বলেই চেনেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। তবে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এবারে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্রমণটা একদম সুখকর হয়নি। তেমনি সুখকর হয়নি অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সেরও। কেননা তিনটি ম্যাচের একটি ম্যাচেও যে ব্যাট হাসেনি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। তবে এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই নতুন এক অভিজ্ঞতা হলো প্রোটিয়া এ অধিনায়কের। শ্রীলংকার বিপক্ষে ৪ এবং ভারতের বিপক্ষে ১২ রান নিলেও পাকিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচে রানের খাতা খুলতে না খুলতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় এ ব্যাটসম্যানকে। পাকিস্তানি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিমের প্রথম বলেই হাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয়েছিল এ ক্রিকেটারকে। আইসিসির ইভেন্টে এখন পর্যন্ত শূন্য রানে আউট হয়েছেন বেশ কয়েকবার, তবে প্রথম বলেই আউট হবার অভিজ্ঞতাটি এবারই প্রথম হল ডি ভিলিয়ার্সের।

সাকিব-মাহমুদুল্লাহর রেকর্ড জুটি : চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে গত ৫ জুন কার্ডিফে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় চিরচেনা প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। জিতলেই সেমিফাইনালে যাবার পথ অর্ধেক নিশ্চিত হবে টাইগারদের জন্য। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই কি না পথ হারাতে বসেছিল টাইগাররা! ৩৩ রান করতে না করতেই স্কোরবোর্ডে রানের পাশে চার চারটি উইকেট নেই বাংলাদেশের! তবে সঠিক সময়ে হাল ধরতে ভুল করেননি সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। দলের এ ক্রান্তিকালে এসে সাকিব-মাহমুদুল্লাহ ২২৪ রানের বিশাল এক পার্টনারশিপ গড়ে ২৬৬ রানের টার্গেটকে পিছনে ফেলে ৫ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। আর ২২৪ রানের এ জুটির ফলে যে কোনো উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড জুটি গড়বার গৌরব অর্জন করেন এ দুই ক্রিকেটার। এর আগে যে কোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল তামিম-মুশফিকের (১৭৮)। ২০১৫ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঢাকায় সেই রেকর্ডটি গড়েছিল তারা।

টাইগারদের সেমিফাইনাল খেলা : ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এগারো বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবারো খেলবার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে, সুযোগ পেয়েই কাজে লাগাতে ভুল করেনি টাইগার বাহিনী। তাই তো অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো বড় বড় দলকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তানের সাথে এবার সেমিফাইনালের আসন দখল করে মাশরাফি বাহিনীও। শুধু যে দলীয়ভাবে সেমিফাইনাল পৌঁছেছে টাইগাররা তা কিন্তু নয়, ব্যাক্তিগত পার্ফরম্যান্সেও পিছিয়ে নেই তারা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের দখলে। চার ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি অর্ধশতকের মাধ্যমে ২৯৩ রান করেছেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। তামিমের পাশাপাশি এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন সাকিব, মাহমুদুল্লাহও। তাই তো কার্ডিফ, ওভাল, বার্মিংহামে বেশ ভালোই বাঘের হুংকার শুনেছে ক্রিকেট বিশ্ব!

এশিয়া বনাম ইংল্যান্ড : চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসরে এশীয়দের আধিপত্য যেন একটু বেশিই ছিল। তাই তো, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের চার দলের মাঝে তিন দলই ছিল এশিয়া উপমহাদেশের। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের নামের পাশে একমাত্র অন্য মহাদেশের দলটি ছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তবে এশীয়দের দৌরাত্মে ইংলিশরাও টিকে থাকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত প্রথম সেমিফাইনালেই পাকিস্তানের কাছে আট উইকেটের লজ্জ্বাজনক হার দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে ইংলিশদের এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর। সেই সাথে ঘরের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ঘরে তুলবার স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতে হয় ইংলিশদের।

অহি নকুলের ফাইনাল : চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরুটা হয়েছিল সেই ১৯৯৮ সাল থেকে। আর এর মাঝে কেবল চারবার মুখোমুখি হয়েছে এশিয়ার দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচে এবারই প্রথম মুখোমুখি হয়েছে এ দুটি দল। আগের চারবারের মাঝে দুবার ভারত এবং দুবার জয় পায় পাকিস্তান। তাই, বুঝতেই পারছেন ক্রিকেটে কতোটা প্রতিদ্বন্দ্বীতা চলে এ দুটি দলের মাঝে। এবার গ্রুপপর্বের শুরুতেই পাক-ভারত লড়াইটা দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল পুরো ক্রিকেট ভক্তদের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চতুর্থ ম্যাচেই দেখা হয়ে যায় দু’দলের। তবে সে ম্যাচে নামের সুবিচার করতে পারেনি পাকিস্তান। ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ৩২০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।

তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরুটা বাজে হলেও গ্রুপপর্ব এবং সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনাল অবদি পৌঁছতে কোনো সমস্যাই হয়নি এশিয়া উপমহাদেশের এ দলটির। অন্যদিকে গ্রুপপর্বে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে পরাজিত করে ভারতও নিশ্চিত করে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালের টিকিট! ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে পেয়ে গ্রুপপর্বের সকল আক্ষেপ স্বস্তিতে পরিণত করতেই যেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলতে নামে পাকিস্তান। টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান করে পাহাড় সমান টার্গেট ছুঁড়ে দেয় ভারতকে।

রানের চাপেই যেন প্রথম ধাক্কা খায় কোহলিরা। তবে দ্বিতীয় ধাক্কা দেয় পাকিস্তানের বোলাররা। আমির, জুনায়েদ, শাদাবের বোলিং তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৫৮ রানেই অলআউট হতে হয় ভারতকে। আর এরই সঙ্গে ১৮০ রানের বিশাল জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে সরফরাজের দল। এ জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তানের পাঁচবারের দেখায় ৩-২ এ এগিয়ে এখন পাকিস্তান!

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

জানা হবে অনেক কিছু, চালু হয়েছে জানাবিডি (JanaBD) এন্ডয়েড এপস । বিস্তারিত জানুন..

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 4 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)