JanaBD.ComLoginSign Up

কৃমির ওষুধ যখন খাবেন

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস 24th Jul 17 at 4:20pm 416
কৃমির ওষুধ যখন খাবেন

কৃমি আকারে খুবই ছোট। প্রায় দেখাই যায় না। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, এ রকম একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে শূন্য দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। অনেক কৃমি শরীরে থাকলে প্রতিদিনই বেশ কিছু পরিমাণ রক্ত হারিয়ে যায়।

ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। বড়রাও কম ভোগেন না।এ ছাড়া কৃমির কারণে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো অন্ত্রের বা পিত্তথলির নালিতে কৃমি আটকে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা হয়। কৃমি সংক্রমণ তাই বড় ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা।

কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা এবং কোনো কোনো কৃমিতে পায়খানার রাস্তার পাশে চুলকানি হতে পারে। কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়।

রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। হুক ওয়ার্মের একমাত্র খাদ্য হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর রক্ত। অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে।

ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শিশুর নাক, মুখ দিয়েও কৃমি পড়তে পারে। পেটে কৃমির আধিক্যে অন্ত্রনালীর পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্ত্র ফুটো করে মারাত্মক অবস্হার সৃষ্টি করতে পারে।

কৃমি দূর করতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এটি কেন হয়? নোংরা পরিবেশ, অনিরাপদ পানি পান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, খালি পায়ে হাঁটা কৃমি সংক্রমণের জন্য দায়ী।

কৃমি হলেও ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। কিন্তু অনেকে নানা ভুল ধারণার জন্য ভয়ে কৃমির ওষুধ খান না।

শিশুদেরও খাওয়াতে চান না। কিন্তু ওষুধ নিয়ম মেনে খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা যায়।

জেনে নেওয়া যাক সহজ কিছু উপায়:

১. প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল বড়ি সেবন করতে পারেন। মেবেনডাজল হলে খেতে হবে পরপর তিন দিন। সাত দিন পর আরেকটা ডোজ খাওয়া যায়। শিশুদেরও একইভাবে সিরাপ খাওয়াতে হবে। দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. চিনি খেলে বা মিষ্টি খেলে কৃমি হবে বলে যে ধারণা প্রচলিত, তা ঠিক নয়। মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার সঙ্গে কৃমির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং নোংরা হাতে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কৃমি হবে।

৩. কৃমি হলে পায়ুপথ চুলকায় বলে শিশুরা সেখানে হাত দেয়। পরে আবার সেই হাত মুখে দেয়। এভাবেই সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। তবে পায়ুপথ চুলকানো মানেই কৃমি সংক্রমণ নাও হতে পারে। কৃমি সংক্রমণের আরও উপসর্গ আছে। যেমন: ওজন না বাড়া, পেট ফাঁপা, পেট কামড়ানো, আমাশয়, অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি।

৪. গরমকালে কৃমিনাশক খাওয়া যাবে না—এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। গরম, শীত, বর্ষা যেকোনো সময়ই কৃমিনাশক খাওয়া যাবে। তবে খাওয়ার পর বা ভরা পেটে খাওয়া ভালো।

৫. কৃমিনাশক নিরাপদ ওষুধ। এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কারও কারও পেট ফাঁপা বা বমি ভাব হতে পারে। অনেক সময় কৃমিনাশক খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার যে খবর পাওয়া যায়, তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারজনিত।

৬. পানি অবশ্যই ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করবেন। শাকসবজি ও মাংস খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে ভালো করে হাত ধুতে হবে। শিশুদের খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে কীভাবে ভালো করে হাত কচলে ধুতে হয়, তা শেখানো জরুরি।

৭. বাইরের খোলা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়াই ভালো। মাঠঘাটে শিশুদের খালি পায়ে খেলতে দেবেন না।

৮. কেবল গ্রামে বা রাস্তায় থাকা শিশুদের কৃমি হয়—এই ধারণাও ভুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে-কারও কৃমি সংক্রমণ হতে পারে। তাই অপুষ্টি এড়াতে নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়াই ভালো।

পেটের কৃমি দূর করার কার্যকরী ৫ ঘরোয়া উপায়ঃ

কৃমি বিভিন্নধরনের হয়ে থাকে। তবে এরমধ্যে ফিতাকৃমি, কেঁচোকৃমি ইত্যাদি বেশি ক্ষতিকর। সাধারণত দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে কৃমি শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণ কৃমি দূর করার জন্য কৃমিনাশক ওষুধ গ্রহণ করা হয়। তবে ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। এমন কিছু উপায় নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

১। রসুন
রসুন হলো অ্যান্টি প্যারাসাইট খাবার। কাঁচা রসুনে সালফারযুক্ত অ্যামাইনো এসিড থাকে যার প্রকৃতি অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ধরণের। এছাড়াও রসুনে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাংগাল এবং অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান থাকে যা শরীরের জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। প্রতিদিন খালি পেটে তিনটি রসুনের কোয়া খান। এটি সপ্তাহে পাঁচদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া দুটি রসুন এক এবং আধা কাপ দুধে জ্বাল দিন। বলক এলে নামিয়ে ফেলুন। এবার এটি পান করুন। এটি এক সপ্তাহ পান করুন।

২। নারকেল
কৃমি দূর করতে বেশ কার্যকর একটি উপায় হলো নারকেল। সকালের নাস্তায় এক টেবিল চামচ নারকেল কুচি খান। নাস্তা খাওয়ার তিন ঘন্টা পর এক গ্লাস কুসুম গরম দুধে দুই টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করুন। এটি নিয়মিত পান করুন। তবে ক্যাস্টর অয়েল পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের এবং গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যাগ্রস্তদের জন্য প্রযোজ্য নয়। নারকেল কুচি ছাড়াও চার থেকে ছয় টেবিল চামচ বিশুদ্ধ নারকেল তেল পান করতে পারেন। এটিও কৃমি দূর করতে সাহায্য করবে।

৩। কাঁচা পেঁপে
এক টেবিল চামচ কাঁচা পেঁপের রসের সাথে মধু তিন বা চার টেবিল চামচ গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি সকালে খালি পেটে পান করুন। দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে দুই টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করুন। এটি দুই থেকে তিন দিন পান করুন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে অর্ধেক করে নিন। এছাড়া পেঁপের বীচি গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ কুসুম গরম দুধ বা পানির সাথে দুই চা চামচ পেঁপের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি খালি পেটে তিনদিন পান করুন।

৪। মিষ্টি কুমড়োর বীচি
ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিলেন্ড মেডিকেল সেন্টার কৃমি দূর করতে মিষ্টি কুমড়োর বীচি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মিষ্টি কুমড়োতে থাকা উপাদান অন্ত্রের কৃমিকে মেরে ফেলে। তিন কাপ পানিতে দুই টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়ো বীচি গুঁড়ো দিয়ে জ্বাল দিন ৩০ মিনিট। ঠান্ডা হলে এটি পান করুন। এছাড়া এক টেবিল চামচ ভাজা মিষ্টি কুমড়ো বীচি গুঁড়োর সাথে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান। এরপর নাস্তায় কলা বা কিউই খান।

৫। লবঙ্গ
লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি পারাসাইটিক, ব্যাকটিরিসাইডাল রয়েছে যা কৃমির ডিম ধ্বংস করে দেয়। এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ লবঙ্গের গুড়ো মিশিয়ে ১০-২০ মিনিট জ্বাল দিন। তারপর পান করুন। এটি দিনে তিনবার পান করুন। এক সপ্তাহ পান করুন। দেখেবন কৃমি দ্রুত মারা গেছে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 15 - Rating 5.3 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
সকালে খালি পেটে পানি পানের ৭ উপকারিতা সকালে খালি পেটে পানি পানের ৭ উপকারিতা
15 Feb 2018 at 4:09pm 416
মাথাব্যথা নিরাময়ে ঘরোয়া উপাদান মাথাব্যথা নিরাময়ে ঘরোয়া উপাদান
13 Feb 2018 at 3:59pm 401
যে ১০ ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয় যে ১০ ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়
10 Feb 2018 at 11:25am 569
গরমকালে রোগবালাইয়ের থেকে রেহাই পেতে... গরমকালে রোগবালাইয়ের থেকে রেহাই পেতে...
08 Feb 2018 at 5:37pm 252
যেসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেশি খেলে জটিল শারীরিক সমস্যা হতে পারে যেসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেশি খেলে জটিল শারীরিক সমস্যা হতে পারে
07 Feb 2018 at 10:51am 313
যেসব প্রাকৃতিক খাবারে বাড়ে দৈহিক শক্তি যেসব প্রাকৃতিক খাবারে বাড়ে দৈহিক শক্তি
07 Feb 2018 at 9:54am 507
যে ১০টি খাদ্য সংমিশ্রণ মারাত্মক স্বাস্থ্যগত বিপদ ডেকে আনতে পারে যে ১০টি খাদ্য সংমিশ্রণ মারাত্মক স্বাস্থ্যগত বিপদ ডেকে আনতে পারে
06 Feb 2018 at 2:02pm 434
জেনে নিন কিডনি রোগের লক্ষণ জেনে নিন কিডনি রোগের লক্ষণ
06 Feb 2018 at 11:21am 311

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন
মজার যত ধাঁধা - ১৩তম পর্বমজার যত ধাঁধা - ১৩তম পর্ব
মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিকমাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিক
এটা তোর এটা আমারএটা তোর এটা আমার
৬০ হাজার টাকা বেতনে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে চাকরি৬০ হাজার টাকা বেতনে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে চাকরি
অফিসে প্রেমের ক্ষেত্রে যেসব কথা বলবেন নাঅফিসে প্রেমের ক্ষেত্রে যেসব কথা বলবেন না
নেইমার-কাভানির গোলে পিএসজির বড় জয়নেইমার-কাভানির গোলে পিএসজির বড় জয়
৬ হাজারের মাইলফলকের সামনে রিয়াল৬ হাজারের মাইলফলকের সামনে রিয়াল
বিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য ১০ রেকর্ডবিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য ১০ রেকর্ড