JanaBD.ComLoginSign Up

ঘুরে অাসুন থিম্পুর কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থেকে

দেখা হয় নাই 29th Jul 17 at 10:00am 421
ঘুরে অাসুন থিম্পুর কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থেকে

ভূটান এক অপার সৌন্দর্যের লিলাভূমি। নাম শুনলেই যেতে ইচ্ছে করে। কম খরচে অনেক কিছু উপভোগ করা যায়। তাই ভ্রমণ পিপাসুদের প্রথম পছন্দ এই আপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশটি। যারা ভূটান যাবেন বলে ঠিক করেছেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গাইডলাইন।

সুবিশাল হিমালয়ের কল্যাণে উঁচু পর্বতমালা, ঘন বনজঙ্গল, সবুজ ভ্যালি ভূটানের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অর্ন্তগত। প্রকৃতির অকৃত্রিম মমতা এবং সবুজে ছাওয়া বিস্তৃত অঞ্চল পর্যটকদের কাছে মনোহরী। ভূটানের ‘ল্যাণ্ড অব দ্য পিসফুল থাণ্ডার ড্রাগনস’ শান্তিময় ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য।

ভূটানের মোহময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ট্যুরিষ্ট অ্যাট্রাকশন যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন-তারা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারেন না। সব মিলিয়ে সার্কভূক্ত ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্র ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য বয়ে আনতে পারে সুখকর এবং নতুন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

থিম্পু
প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের রাজধানীকে সে দেশের সরকার দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য করে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

ভূটানের রাজধানী থিম্পুও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বরং বলা যায় সমস্ত ভূটানের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের অবস্থানই হলো এই থিম্পুতে। থিম্পু নদীর তীরে সিলভান ভ্যালিতে অবস্থিত এথনিক ভূটানিজ কলা, স্থাপত্যশিল্প, সংস্কৃতির পীঠস্থান। থিম্পুতে আছে ইউনিক ফ্লেভার যা আপনাকে এখানে আসতে বারবার বাধ্য করবে।

থিম্পুতে কী দেখবেন
সিমতোখা জং ১৬২৭ সালে তৈরি এই জং থিম্পু ভ্যালির গেটওয়ে। থিম্পুর সবথেকে পুরনো এই জঙয়ে আছে রিগনে স্কুল ফর জঙঘা এ্যাণ্ড মোনাষ্টিক ষ্টাডিস। ফ্রেশকো এবং স্লেট কার্ভিংস সিমতোখার বিশেষ আকর্ষণ।

থিম্পু জং - (ফোট্রেস অব দ্য গ্লোরিয়াস রিলিজিয়ন)- থিম্পু জং হলো ভূটানের রাজধানী থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র।

১৬৬১ সালে এটি তৈরি। এখানে আছে সরকারি ডিপার্টমেণ্ট,দ্যা ন্যাশনাল এসেম্বলি,রাজার থ্রোন রুম এবং সেন্ট্রাণ মনাষ্টিক বডির গ্রীস্মকালীন হেডকোয়ার্টাস।

মেমোরিয়াল কর্টেন - এটি মূলত স্মৃতিস্তম্ভ। ভূটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াঙচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে এই স্তুপ তৈরি হয়েছিলো। এর ভেতরের বিভিন্ন পেইণ্টিং এবং স্ট্যাচু বৌদ্ধ
ফিলোসফির প্রতিবিম্ব।

থিম্পু পুনাখা- দোচুলা পাস হয়ে ড্রাইভ করে পৌঁছানো যায় থিম্পু শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুনাখায়।

আকাশ পরিস্কার থাকলে ৩০৫০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এই পাস থেকে আপনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক নির্দশন হিমালয়কেও দেখতে পারবেন। পুনাখা ভূটানের সবথেকে উর্বর ভ্যালি।

আরো দেখতে পাবেন ফো ছু এবং মো ছু নদী। সেই সঙ্গে পুনাখা জং।

এছাড়াও রয়েছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি,হ্যাণ্ডিক্রাফট এম্পোরিয়াম,পেন্টিং স্কুল এবং ট্রাডিশনাল মেডিক্যাল ইনষ্টিটিউট। কয়েক পা বাড়ালেই যেগুলো দেখে আসতে পারেন।

থিম্পুর বাইরে
পারো কেবল থিম্পুই নয়, প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থাপনার সাম্রাজ্য ভূটানে আরো অজস্র দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্র শহর পারোর কথা বলা আবশ্যক। পারো জুড়ে আছে নানারকম গল্পকথা। তাছাড়া এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভোলার মত নয়। বিশেষ করে বসন্ত ঋতুতে পারোর রুপ হয়ে ওঠে অতুলনীয় এবং দর্শন সুখকর।

পারোতে দেখতে পাবেন পারো জং,ন্যাশনাল মিউজিয়াম। তবে পারোর সবথেকে বড় আকর্ষণ টাইগার্স নেষ্ট।

এই মনাষ্ট্রি পারো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে একটি ক্লিফের উপর অবস্থিত। হেঁটে ওঠার পথটিও খুব সুন্দর। ভূটান ট্যুরিজম দর্শনার্থীদের গলা ভেজাতে এখানে একটি সুন্দর কফি হাউজ তৈরি করে দিয়েছে। পারোতে অবশ্য থাকার ব্যবস্থা কম। ভুটান ট্যুরিজম নিয়ন্ত্রিত একটি হোটেল অবশ্য আছে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে এই হোটেলে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। নইলে পরে একটু ঝামেলায় পড়বেন।

বুমথাং
বুমথাংকে বলা হয় ভূটানের আধ্যাত্মিক হুদয়ভূমি। কারণ,ভূটানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জং,মন্দির এবং মহল এই অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে এলে দেখতে পাবেন ওয়াংগডিচোলিং প্যালেস,জাম্বে লাখাং মন্দির,এবং সবথেকে বড় ভূটানিজ মন্দির জাকার। এর পাশাপাশিই একটু হাঁটলে দেখতে পাবেন হট এরিয়া। জার্নিটা একটু ধকলের হলেও যাবার পথটা খুবই সুন্দর। এই পথ আপনার ক্লান্তিময় জার্নিকে অনায়াসেই সুখকর করে তুলতে পারে। এই এলাকায় ব্লু শিপ,মাস্ক ডিয়ার,হিমালয়ান ভাল্লুক চোখে পড়তে পারে। সমস্ত বুমথাংয়ে একমাত্র জাকারেই ভালো রেস্তরাঁ পাবেন।

ট্রাভেল চেকলিষ্ট
কোথায় থাকবেন থিম্পুতে হোটেলের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও থাকার সমস্যা হয় না। পাইনউড হোটেল বা রিভারভিউ হোটেলে থাকতে পারবেন। বেশিরভাগ হোটেলই পাওয়া যাবে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। অধিকাংশ হোটেলই তৈরি হয়েছে ভূটানিজ ঐতিহ্যের ষ্টাইলে। এই হোটেলগুলিতে থাকলে পেয়ে যাবেন এথনিক গ্রামে থাকার ফ্লেভার।

খাওয়াদাওয়া
এখানে নিরামিষ খাবারের প্রচলন বেশি। ডর্টসি বা গরুর দুধের পনির এবং এমা ডর্টসি বা গলানো পনিরে রান্না করা লাল মরিচ এখানকার অত্যন্ত পছন্দের খাবার।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে বিমানে করে পারো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে চলে যান। পারো ঘুরে মিনিবাস করে থিম্পু পৌঁছে যাবেন। থিম্পু থেকে ভূটানের অন্যান্য শহরে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে।

কখন যাবেন
ভূটান যাবার সবথেকে ভালো সময় হলো বছরের অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস। কারণ এ সময়টায় আকাশ পরিস্কার থাকে এবং পাহাড়,নদী,বনাঞ্চল বেশ ভালো পরিস্কার দেখা যায়।

পাশাপাশি আবহাওয়াও ভালো থাকে এবং এই সময়টাতেই ভূটানের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 32 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ‘ছোট কক্সবাজার’ থেকে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ‘ছোট কক্সবাজার’ থেকে
22 Jan 2018 at 6:50pm 817
স্বর্গের ঝলক- বিরিশিরি স্বর্গের ঝলক- বিরিশিরি
26th Dec 17 at 8:51am 635
ভ্রমণ : প্রাচীনতম রেইন ফরেস্ট 'তামান নেগারা' ভ্রমণ : প্রাচীনতম রেইন ফরেস্ট 'তামান নেগারা'
7th Dec 17 at 9:21pm 646
দেখি বাংলার রূপ দেখি বাংলার রূপ
5th Dec 17 at 6:08pm 432
এটাই বিশ্বের প্রথম ভাসমান দেশ, বিস্তারিত জানলে অবাক হবেন এটাই বিশ্বের প্রথম ভাসমান দেশ, বিস্তারিত জানলে অবাক হবেন
3rd Dec 17 at 11:27pm 953
শীতে ভ্রমণপিপাসুর জন্য জ্যোৎস্নাবাড়ি শীতে ভ্রমণপিপাসুর জন্য জ্যোৎস্নাবাড়ি
26th Nov 17 at 1:10pm 319
ঘুরে আসুন তেওতা জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন তেওতা জমিদার বাড়ি থেকে
29th Oct 17 at 4:51pm 760
ভারতের অবিশ্বাস্য এবং অতিরহস্যজনক পাঁচ স্থান ভারতের অবিশ্বাস্য এবং অতিরহস্যজনক পাঁচ স্থান
29th Oct 17 at 10:14am 1,439

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন
চার হাজার টাকায় ফোরজি স্মার্টফোন আনল উইচার হাজার টাকায় ফোরজি স্মার্টফোন আনল উই
আকিকার সময় উপহার নেওয়া জায়েজ?আকিকার সময় উপহার নেওয়া জায়েজ?
রসগোল্লা বানাবেন যেভাবেরসগোল্লা বানাবেন যেভাবে
আসল পুরুষ হলেআসল পুরুষ হলে
পঞ্চাশ বার বউ মারা গেছেপঞ্চাশ বার বউ মারা গেছে
সঙ্গী অসৎ চরিত্রের কিনা বুঝবেন যে ৪টি উপায়েসঙ্গী অসৎ চরিত্রের কিনা বুঝবেন যে ৪টি উপায়ে
সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্যাটরিনার ছবিসোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্যাটরিনার ছবি
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ধোনিটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ধোনি