JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ফ্রিতে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট :) Search করুন , "জানাবিডি ডট কম" পেয়ে যাবেন ।

ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডার : পর্ব-১

ক্রিকেট দুনিয়া 29th Apr 2016 at 10:11am 1,033
ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডার : পর্ব-১

পরিশ্রম, একাগ্রতা আর সাধনার খেলা ক্রিকেট। লম্বা সময় ধরে ক্রিকেটের ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবার জন্য চাই অসাধারণ ফিটনেস। আর সেই ফিটনেস ধরে রাখার দৃঢ় মানসিকতা। সাধারণত প্রচণ্ড শারিরীক চাপের কারণে ক্যারিয়ারকে খুব অল্প সময়েই গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হন পেস বোলাররা।

অন্যদিকে ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ার অপেক্ষাকৃত লম্বা হয়। বিশেষ করে যেকোন একটি ফরম্যাটের খেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলে তো ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় আরো বহুগুণ।

আর এই দুই শ্রেণির মিশেলে গড়া ‘অলরাউন্ডার’রাই সম্ভবত ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর অংশের একটি। বোলিং এবং ব্যাটিং দুই বিভাগেই দক্ষ এই বিশেষ শ্রেণি দলের সাথে মানিয়ে যেতে পারেন খুব সহজেই। যেকোন দলের ব্যাটিং ও বোলিং এর ভারসাম্য আনয়নে অলরাউন্ডারদের ভুমিকা অনন্য।

★ এক নজরে দেখে নিন দীর্ঘ সময় ধরে ২২ গজে রাজত্ব করা সেরা ১০ অলরাউন্ডারের কথা। তাদের প্রথম পাঁচ জনকে নিয়ে আজ প্রকাশিত হল প্রথম পর্ব....

১. জ্যাক ক্যালিস(দক্ষিন আফ্রিকা)
সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত এই কিংবদন্তী প্রায় দুই দশক ধরে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন আপের স্তম্ভ।অধিনায়কের আস্থার জায়গা। সেরা অস্ত্র। নিখুঁত ব্যাটিং কৌশলের সাথে উইকেটের চারপাশে অসাধারণ সব শট খেলার দক্ষতা তাকে দিয়েছে যেকোন ফরম্যাটে যেকোন মাঠে যেকোন কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেবার ক্ষমতা। আস্থার প্রতীক হয়ে উঠা ব্যাটিং এর পাশাপাশি তার মিডিয়াম পেস বোলিং এর পরিসংখ্যান ও রীতিমত ঈর্ষনীয়। বয়সের সাথে সাথে বলের গতি কমে গেলেও পঞ্চম বোলার হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ জুটি ভাঙ্গার কাজটি করে গেছেন নিয়মিতই। পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিং আর স্লিপের অসাধারণ সব ক্যাচ তাকে পরিণত করেছে পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে। টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হবার সাথে ক্যারিয়ারে ৫৬৫ উইকেট নিয়ে ১৮ বছরের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন জ্যাক ক্যালিস।

২. শহিদ আফ্রিদি(পাকিস্তান)
এক সময় মারমার কাটকাট ব্যাটিং এর প্রতিমূর্তি হয়ে যাওয়া শহিদ আফ্রিদির পারফরম্যান্স সবসময়ই অনিশ্চিতার জালে আবদ্ধ। ভয়-ডরহীন ব্যাটিং, মাঝে মধ্যেই পেস বলের গতিতে স্পিন, অসংখ্যবার অবসরে গিয়ে আবার ফিরে আসা এসব মিলিয়েই অলরাউন্ডার আফ্রিদি। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে অধারাবাহিক আফ্রিদির ব্যাট হেসেছে খুব কমই।তবে যখনই হেসেছে অবাক হয়ে দেখেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। চার ছক্কার ফুলঝুড়িতে ‘বুমবুম’ নামের খেতাব অন্তত তাই বলে। তবে তার বোলিং ফর্ম ব্যাটিং থেকে অনেকটাই আলাদা। ঘুর্ণি লেগ স্পিন, গুগলি দিয়ে অহরহই ঘায়েল করেছেন বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানদের। তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৮০০০ ওডিআই রানের পাশাপাশি ৩৯৫ উইকেট।টেস্ট ও ওডিআই থেকে অবসরে গেলেও অভিষেকের ২০ বছর পরও এখনো প্রতাপে খেলে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি।

৩. ইমরান খান(পাকিস্তান)
পাকিস্তান ক্রিকেটের পুনর্জন্ম যার হাত ধরে সূচিত তিনি আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার ইমরান খান। ৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসেও দোর্দাণ্ড প্রতাপে পাকিস্তানকে জিতিয়েছেন ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। টেস্টে ইয়ান বোথামের পর দ্রুততম ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের রেকর্ড এখনো তার দখলে। সর্বমোট ৩৬২ উইকেটের সাথে ৬ টি সেঞ্চুরিতে গড় ৩৮ এর বেশি সত্যিই ঈর্ষনীয়। সহজাত প্রতিভা, অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব দিয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন দর্শকপ্রিয়তার স্বর্ণচূড়ায়।পাকিস্তান ক্রিকেটে তার অবদান চিরস্মরনীয়। প্রায় ২০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন দাপিয়ে অবসর নেন এই পাকিস্তান কিংবদন্তী।

৪. ক্রিস কেয়ার্নস(নিউজিল্যান্ড)
নব্বই দশকের শেষ ও নতুন শতাব্দীর শুরুতে বেশ কয়েকজন ধারাবাহিক পারফর্মারের মিশেলে দারুন একটি দল পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তার মধ্য থেকে যেকোন মুহুর্তে বল কিংবা ব্যাট হাতে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার দক্ষতায় আলাদাভাবে সবার নজর কেড়েছিলেন ক্রিস কেয়ার্নস। নিখুঁত সব শটে ইচ্ছেমত বল সীমানা ছাড়া করা শটগুলো নির্মল আনন্দ যুগিয়েছে ক্রিকেটমোদীদের।২০০৪ সালে ভিভ রিচার্ডসের টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ভেঙ্গে তাক লাগিয়ে দেন ক্রিকেট বিশ্বে। ইনজুরির কারণে বলের কিছুটা গতি হারালেও শেষ পর্যন্ত একজন মিডিয়াম পেসার হিসেবে কার্যকর ছিলেন কেয়ার্নস। ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে লম্বা সময় ইনজুরিতে না কাটালে হয়তো ৬২ টেস্টের ক্যারিয়ারটি করতে পারতেন আরো দীর্ঘ। কিন্তু তাতে কি? তারপরও কেয়ার্নস থেকে যাবেন সর্বকালের সেরা কিউই কিংবদন্তীদের একজন হয়েই।

৫. স্যার গ্যারি সোবার্স(ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
বারবাডোজে জন্ম নেয়া এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তীকে অনেকেই ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলে মনে করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বপ্রথম এক ওভারে ছয় ছক্কার রেকর্ড গড়া সোবার্স ৫৭.৭৮ এর ঈর্ষনীয় গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন ৯৩ টেস্ট। প্রথমে বোলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও আস্তে আস্তে ব্যাটিংয়েও সমানভাবে দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার করা ৩৬৫ রানের ইনিংসটি তখনকার সময়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড হয়ে টিকে ছিলো অনেকদিন। ২৬টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৬বার ৫ উইকেট শিকারসহ ২৩৫ টেস্ট উইকেটই বলে দেয় কতটা বৈচিত্রময় খেলোয়াড় ছিলেন সোবার্স। বাহাতি স্পিনার সোবার্সকে মাঝে মধ্যেই দেখা যেত পেস বোলার হিসেবে ইনিংস শুরু করতে। তাছাড়া তিনি একজন দুর্দান্ত ফিল্ডারও ছিলেন। তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিচরণের বয়স ছিল ২০ বছর।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 5 - Rating 4 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)