JanaBD.ComLoginSign Up

হেরেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অ্যাথলেটিকো!

ফুটবল দুনিয়া 4th May 2016 at 7:31am 345
হেরেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অ্যাথলেটিকো!

বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হারলেও মূল্যবান অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে ফাইনালের টিকেট পেয়েছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।

প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে জিতে ৪২ বছর আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে সেমি-ফাইনালের ফিরতি পর্বে বায়ার্ন মিউনিখকে হারাতে না পারলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছে গেছে স্পেনের ক্লাবটি।

দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ের ফল ২-২, ভিসেন্তে কালদেরনে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল অ্যাথলেটিকো।

এই ম্যাচের আগে অ্যাথলেটিকো শেষ গোল খেয়েছিল ৬০২ মিনিট আগে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শেষ ১১টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ৪১টি গোল করে বায়ার্ন। মঙ্গলবার রাতের ম্যাচটির চিত্রও ছিল প্রায় এই পরিসংখ্যানের মতো। অতিথিদের জমাট রক্ষণের বিপক্ষে জার্মান ক্লাবটির দুর্দান্ত আক্রমণভাগের লড়াই।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে এই বায়ার্নের কাছে শিরোপা হারিয়েছিল অ্যাথলেটিকো। পরে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ফের ফাইনালে উঠলেও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় তারা।

আগামী ২৮মে মিলানের সান সিরোয় ফাইনালে ইউরোপ সেরা হওয়ার তৃতীয় সুযোগটা পাবে মাদ্রিদের দলটি। প্রতিপক্ষ তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল না ম্যানচেস্টার সিটি জানা যাবে বুধবার রাতে।

প্রথম লেগে হেরে আসায় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে গোল পেতে মরিয়া বায়ার্ন। অ্যাথলেটিকোর পরিকল্পনা ঠিক তার উল্টো, নিজেদের রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠে তরেস-গ্রিজমানরা।

৩১তম মিনিটে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় বায়ার্ন, ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে চাভি আলোনসোর নেওয়া ফ্রি-কিকে বল জোসে মারিয়া হিমেনেসের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩৩ মিনিট পর অ্যাথলেটিকোর জালে বল জড়ালো।

তিন মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো স্বাগতিকরা, ডি বক্সের মধ্যে হাভি মার্তিনেসকে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হিমেনেস ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন, কিন্তু টমাস মুলারের দুর্বল স্পটকিক সহজেই ঠেকিয়ে দেন ওবলাক।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই রকম প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে ৫৪তম মিনিটে অ্যাথলেটিকো পেয়ে যায় মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোল। মাঝ মাঠের আগে থেকে ফের্নান্দো তরেসের লম্বা পাস ধরে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে ডি বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন অঁতোয়ান গ্রিজমান।

এই গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরার পাশাপাশি ফাইনালে ওঠার পথে অনেকখানি এগিয়ে যায় সিমিওনের দল। কারণ এই অবস্থায় দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়া মাদ্রিদের ক্লাবকে পিছনে ফেলতে কমপক্ষে আরও দুটি গোল করতে হতো বায়ার্নকে।

তবে এত সহজে হাল ছাড়ার দল নয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৭৫তম মিনিটে বায়ার্নকে আবারও ম্যাচে এগিয়ে দেন লেভানদোভস্কি। চিলির মিডফিল্ডার ভিদালের হেড থেকে বল পেয়ে পাল্টা হেডে লক্ষ্যভেদ করে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে ২-২ সমতা আনেন পোল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লেভানদোভস্কির এটা নবম গোল। ১৬ গোল করে তালিকায় শীর্ষে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

৮৪তম মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারতো অ্যাথলেটিকো। স্প্যানিশ স্ট্রাইকার তরেসকে বায়ার্নের মার্তিনেস ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তরেস নিজেই।

পেনাল্টি মিসের হতাশায় শেষ পর্যন্ত অ্যাথলেটিকোর ফাইনালে ওঠার আনন্দে ভাটা পড়েনি। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ৪২ বছরের হিসাব পুরোপুরি চুকানোর আনন্দ।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 6 - Rating 6.7 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)