JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ফ্রিতে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট :) Search করুন , "জানাবিডি ডট কম" পেয়ে যাবেন ।

অশ্বরোগের উপসর্গ ও করণীয়!

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস 18th May 2016 at 7:19am 324
অশ্বরোগের উপসর্গ ও করণীয়!

সব বয়সের মানুষেরই মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যা হলে হেলাফেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মানুষের পায়খানার রাস্তা দিয়ে আলাদাভাবে বা পায়খানার সঙ্গে মিশে রক্ত যাওয়াকে আমরা মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়া বুঝি। কারণগুলো সাধারণত বয়সভিত্তিক হয়। শিশুদের যে কারণে মলদ্বার দিয়ে রক্ত যেতে পারে তা হলো, রেকটাল পলিপ বা কোলনিক পলিপ।

মধ্যবয়সীদের মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে অশ্বরোগ বা হেমোরয়েড। এ ছাড়া মলদ্বার ফেটে যাওয়া বা এনাল ফিশার রয়েছে। এর পাশাপাশি রক্ত যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে রেকটাম ও কোলনিক ক্যানসার। মধ্যবয়সে এই রোগগুলো বেশি হয়ে থাকে।

এ ছাড়া বৃহদন্ত্রে যদি প্রদাহ হয়ে থাকে অথবা বৃহদন্ত্রে যদি কোনো সংক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলেও মধ্যবয়সে মলদ্বার দিয়ে রক্ত যেতে পারে।

একটু বয়স্ক লোকদের মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়ার অন্যতম কারণের মধ্যে কোলরেকটাল ক্যানসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া বৃহদন্ত্রে যদি কারো রক্তস্বল্পতা বা রক্ত চলাচল কমে যায়, তখন মলদ্বার দিয়ে রক্ত যেতে পারে। এ ছাড়া ডাইভারটিকুলাইটিস বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ রয়েছে, যা বয়স্ক লোকদের হয়ে থাকে; এসব কারণেও সাধারণত মলদ্বার দিয়ে রক্ত যায়।

মলদ্বার দিয়ে যে কারণে রক্ত যাক না কেন, এটা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। রোগীদের এটা প্রথমেই বুঝতে হবে।

আমরা সাধারণত মলত্যাগের পর লক্ষ্য করা উচিত যে, মলদ্বার দিয়ে রক্ত গেল কি না। রক্ত গেলে এটাকে স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে, হাতের কাছের স্থানীয় চিকিৎসকদের না দেখিয়ে, সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

উপসর্গগুলো কি কি
পায়খানা যাওয়ার যে অভ্যাস ছিল, সেটি পরিবর্তন হয়ে গেছে কি না। জ্বর হয় কি না অথবা কারো শরীরে রক্তস্বল্পতা বা পানিস্বল্পতা হচ্ছে কি না। ওজন কমে যাচ্ছে কি না। খাওয়া-দাওয়ার অরুচি তৈরি হচ্ছে কি না।

পেটে চাপ দিয়ে দেখলে কোনো জায়গায় চাকার অনুভূতি হয় কি না। এই উপসর্গগুলো যদি রোগী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। এটাকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বা অল্প বয়সের ক্ষেত্রে বিশেষত, বয়ঃসন্ধি বয়সের ক্ষেত্রে পায়খানার অভ্যাস তৈরি করা দরকার। এ জন্য নিয়মিত টয়লেট অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।

এটা না হওয়ার কারণে এনাল ফিশার বা হেমোরয়েড বেশি পরিমাণে হচ্ছে। এ অভ্যাস তৈরি না হওয়ার পেছনে মা-বাবার ভূমিকা আছে এবং বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলেমেয়েদেরও ভূমিকা রয়েছে।

এর কারণ, পরিমাণমতো পানি না খাওয়া; পরিমাণমতো শাকসবজি না খাওয়া। তারা ফাস্টফুড বেশি খায়। এ ছাড়া আমরা যারা শহরে বাস করি, তাদের বেশির ভাগ সময় বাসার বাইরে থাকতে হয়।

সেখানে টয়লেটের যথেষ্ট পরিমাণ সুবিধা নেই। যে টয়লেটগুলো আছে, সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মল আটকে রাখতে হয়, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষার সমস্যা হয়। এ সময় সে যখন চাপ দিয়ে মলত্যাগ করতে চায়, তখনই মলদ্বার ফেটে যায়।

এটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশু ও বয়ঃসন্ধি বয়সের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে। যখন মলদ্বার ফেটে যাবে, তখনই সেখানে প্রচণ্ড ব্যথা হবে। যখন ব্যথা হবে, তখন সে আর টয়লেটে যেতে চাইবে না। তখন একটা ভয় তৈরি হয়। এই সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।


এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো-
পরিমাণমতো পানি খাওয়া, নির্দিষ্ট পরিমাণ সবজি খাওয়া, প্রতিদিনই অন্তত একবার টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করা।

টয়লেটে যাওয়ার সময়টিও নির্দিষ্ট করা আছে। সকালে নাশতা করার আধা ঘণ্টা পরে টয়লেটে গিয়ে ১০ মিনিট সময় কাটিয়ে আসতে হবে। তাহলে তার অভ্যাস নিয়মিত তৈরি হবে। আর যার নিয়মিত অভ্যাস তৈরি হবে, তার এই রোগগুলো হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, মলদ্বার দিয়ে রক্ত গেলে কারণটা আমাদের জানা থাকতে হবে। সেটা যে কারণেই হোক না কেন, রোগটা অবশ্যই নির্ণয় করতে হবে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Manager
Like - Dislike Votes 6 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)