JanaBD.ComLoginSign Up

Internet.Org দিয়ে ব্রাউজ করুন আমাদের সাইট ফ্রী , "জানাবিডি ডট কম"

টাঙ্গুয়ার হাওড়; অপার জলরাশিতে মিশে যেতে পারেন আপনিও

দেখা হয় নাই 30th May 2016 at 4:11pm 315
টাঙ্গুয়ার হাওড়; অপার জলরাশিতে মিশে যেতে পারেন আপনিও

টাঙ্গুয়ার হাওড় বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওড় বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওড়টি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত।

কিভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে গাড়ী নিয়ে গিয়ে বিশেষ কোন সুবিধে হবেনা। তার চেয়ে বরং বাসে করে সোজা চলে যাবেন সুনামগঞ্জ। ভাটির দেশ সুনামগঞ্জ! সুনামগঞ্জ শহরের ঘাট থেকে ২ দিনের জন্য একটা ইঞ্জিন বোট ভাড়া করতে হবে। ভাড়া প্রতিদিনের জন্য কম-বেশী ৩০০০/- টাকা। ভাল দেখে নৌকা নেবেন। আশ-পাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে হলে ছই- এর উপর সারাদিন কাটাতে হবে। ছই-এর উপরটা টিন সীট দিয়ে মোড়ানো, সাইডে বসবার ব্যবস্থা আছে এমন নৌকা হলে ভালো। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের প্রকৃত মজা নিতে হলে এই নৌকাতেই রাত্রি যাপন করায় উত্তম।

সুনামগঞ্জ থেকে সকাল সকাল নৌকা ছাড়া ভালো। সুরমা নদী দিয়ে যাত্রা শুরু হবে তারপর এই নদী সেই নদী, এই খাল সেই খাল পাড়ি দিয়ে আপনাদের নৌকা চলবে টাঙ্গুয়ার হাওড় অভিমুখে। পথে বিশ্বম্বরপুর এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর পড়বে। তাহিরপুর উপজেলা সদরে রাত্রে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেবন।

তাহিরপুরে রাত্রি যাপন করলে টাঙ্গুয়ার হাওড় দেখে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসতে হবে তাহিরপুরে। তবে সঙ্গী কোন মহিলা অভিযাত্রী না থাকলে রাত্রি যাপনের জন্য আপনাদের নৌকা-তো রয়েছেই। তাহিরপুরে এক কাপ চা খেয়ে সোজা চলে যান টাঙ্গুয়ার হাওড়।

বর্ষার টাঙ্গুয়া:
বর্ষায় গেলে নৌকাই একমাত্র বাহন। উত্তর দিকে মেঘালয় রাজ্যের খাড়া পাহাড় আর তিন দিকে থৈ থৈ পানি। মাঠ-ঘাট সব পানি আর পানি। ভাটির দেশের প্রকৃত রূপ। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা আর কিশোরগঞ্জ- এই তিন জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই অদ্ভূত জলরাশি। এই জলরাশির ভিতরেই মেঘালয়ের পাদদেশে টাঙ্গুয়ার হাওড়। বর্ষায় আলাদা করে টাঙ্গুয়ার হাওড় বলে কিছু থাকেনা সব একাকার। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পৌঁছালেই দেখবেন গভীর কালচে পানি অনেক দূর পর্যন্ত কোন গাছ-গাছালীর উপরাংশ পানির উপরে দেখা যাচ্ছেনা। তখনই বুঝবেন আপনি যথাস্থানে পৌঁছে গেছেন।

এই পথে গেলে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রাম 'বাগলী'। খাতা খাতা কলমে নাম 'বীরেন্দ্রনগর'। ওখানে বিডিআর এর একটা বিওপি রয়েছে। ছোট্ট একটা বাজার রয়েছে। ইলেকট্রিসিটি রয়েছে। বাগলী বিডিআর ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে এখানেই রাত্রী যাপন শ্রেয়। নিরাপত্তা সমস্যা এমনিতেও নেই, তারপরও আপনি নিশ্চিত হতে পারলেন।

শীতের টাঙ্গুয়া:
শীতকালে আপনি সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিঃমিঃ দূরে ইট বিছানো এবং কাঁচা রাস্তা ধরে টেকের ঘাট (টেকেরহাট নয়) পর্যন্ত মটর সাইকেলে যেতে পারবেন। তারপর সেই নৌকা আপনাকে নিতেই হবে। টেকেরঘাট দিয়ে ইন্ডিয়া থেকে কয়লা, পাথর আমদানী হয়। সেখানে রাতে থাকার জায়গা পেতে পারেন। খাবার হোটেলও পাবেন। নৌকা নিয়ে সারাদিন টাঙ্গুয়ার হাওড় বেড়িয়ে আবার সন্ধ্যায় টেকেরঘাটে ফিরে আসতে পারেন। তবে সুনামগঞ্জ থেকে নৌকা ভাড়া নেওয়ায় ভালো।

শীতে গেলে মূল টাঙ্গুয়ার হাওড় অংশটুকু ছাড়া চারিদিকে থৈ থৈ পানি পাবেন না। পাবেন নদী, সবুজ ধানক্ষেত আর সেই ধানক্ষেতে বাতাসের দোল খেলা। নদী এবং খালে-বিলে পানি থাকবে, আর থাকবে শীতের পরিজায়ী অতিথি পাখি। অতিথি পাখিদের ছবি তোলার জন্য অনেক ফটোগ্রাফার এবং পাখি প্রেমিকরা এই সময় টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেড়াতে আসেন। আর শীতের দিনে মাছও পাবেন প্রচুর।

ঢাকায় ফেরা:
ফেরার পথে আবার সুনামগঞ্জ হয়ে না ফিরে টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে নৌকা যোগে চলে যেতে পারেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা বা মোহনগঞ্জ। নতুন একটা রুট ঘুরে আসা হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে নেত্রকানা শহর, নেত্রকানা থেকে বাসে ঢাকা। সময়ও লাগবে কম।

এখানে বলে রাখা ভাল, সুনামগঞ্জ থেকে নৌকা ভাড়া করবার সময় মাঝিকে এই রুটে ফেরার বিষয়টি আগেই মিটিয়ে নেবেন।

পরামর্শ:

ক) আর্মি বা বিডিআর-এর কোন রেফারেন্স থাকলে বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) বিডিআর বিওপি-তে আতিথেয়তা পেয়ে যেতে পারেন। তাহলে আর কোন চিন্তাই নাই। থাকার বিছানা-পত্র আর রান্নার ঝামেলা মিটেই গেল। তবে আপনাকে থাকতে হবে আপনাদের নৌকাতেই।

খ) যাবার সময় সুনামগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় টুকি-টাকি কিনে নেবেন।

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 14 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)