JanaBD.ComLoginSign Up

ছেলেকে নিয়ে নিজের আক্ষেপের কথা জানালেন মুস্তাফিজের বাবা!

খেলাধুলার বিবিধ 2nd Jun 2016 at 12:49am 201
ছেলেকে নিয়ে নিজের আক্ষেপের কথা জানালেন মুস্তাফিজের বাবা!

গতকাল রাত ১১টার দিকে মুস্তাফিজ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়ায় নিজের গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন। বাবা আলহাজ্ব আবুল কাশেম গাজী অনেকটা আক্ষেপের সঙ্গে বললেন, ও অনেকটা রোগা হয়ে গেছে। ওজনও ৩ কেজি কমে গেছে। বিদেশে গিয়ে দেশের খাবার খেতে না পেরে স্বাস্থ্যের এ দশা হয়েছে।

সামনে রোজা তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন মুস্তাফিজের বাবা। প্রথম রোজার দিন এলাকার আট মসজিদে ইফতারি দিতে হবে। বাবার চাওয়া, প্রথম রোজায় মুস্তাফিজ বাড়িতে থাকুক। গত বছর ঈদে মুস্তাফিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। এবার সবার সাথে বাড়িতে ঈদ করতে চান তিনি।

আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হলেন মুস্তাফিজ। এরপর সংবাদমাধ্যমকে মুস্তাফিজ বললেন, দেশে থাকলে মায়ের কাছে বারবার ফিরতে ইচ্ছা করে। আর বিদেশে থাকলে দেশে ফিরতে ইচ্ছা করে। প্রথম রোজা পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চান উল্লেখ করে বললেন, ‘বিসিবির ওপর সব নির্ভর করছে’। কখন, কোথায় থাকব সেটি এখনো জানা নেই।

মুস্তাফিজ জানান, সকালে মুস্তাফিজের পছন্দ ভাত আর আলু ভর্তা। অন্য তরকারিও থাকতে পারে। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার, মায়ের হাতের খিচুড়ি ও দেশি মুরগির মাংস।

ভারতে আইপিএল ভালো কেটেছে জানিয়ে মুস্তাফিজ জানালেন, তার জন্য বিদেশিরা বাংলা ভাষা শিখেছে। এটি খুব ভালো লেগেছে। ভাষা তার খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। আকার-ইঙ্গিতে কথা বলেছেন।

মুস্তাফিজের মা মাহমুদা খাতুন বললেন, পিঠা ওর খুব প্রিয়। ট্যাংরা মাছ আর বেগুনও খুব প্রিয়। খিচুড়ি আর দেশি মুরগির মাংস তো আছেই। তবে এবার ছেলেটা খুব কাহিল হয়ে গেছে। এর আগে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকেনি তো! বাড়ি এলে তো ভালো লাগে, ছোট ছেলে বলেই জড়িয়ে ধরলেন মুস্তাফিজকে।

এর আগে জাতীয় দলের এই তরুণ পেসারকে গতকাল বিমান বন্দরে পৌঁছানো মাত্রই পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খালু আনিসুর রহমান। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সাথে কিছুটা সময় দিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সাতক্ষীরায় পৌছান এই কাটার মাস্টার। শহরের কামালনগর এলাকায় খালু ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের বাড়িতে পৌঁছে কিছুটা সময় কাটানোর পর রওনা হন কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে।

রাত ১১টায় তার বাড়ীতে মায়ের কাছে পোঁছে যান মুস্তাফিজ। বাড়ীতে পৌঁছেই মা মাহমুদা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন মুস্তাফিজ। সেখানেও অপেক্ষায় ছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকার শতশত মানুষ। ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে গল্প করে ভোর ৪টার দিকে ঘুমাতে যান তিনি।

বুধবার ভোর থেকেই বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাড়ীতে ভিড় করতে থাকে মুস্তাফিজ ভক্তরা। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা বাড়ীতে হাজির। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে মুস্তাফিজকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা কালিগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শেখ শামীম রেজা বলেন, ‘মুস্তাফিজ আমাদের ব্যাংকের একজন সম্মানিত গ্রাহক। আমরা গর্বিত মুস্তাফিজকে পেয়ে।’

বাল্যবন্ধু আরিফুল ইসলাম আরিফ সকাল ৭টায় মুস্তাফিজকে শুভেচ্ছা ও খোশগল্প করার জন্য হাজির হন। তাছাড়া বন্ধু হাফিজ, যতিন্দ্র রয়েছেন মুস্তাফিজের বাড়ীতেই।

দুর দুরান্ত থেকে মোটর সাইকেল-বাইসাইকেল যোগে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মিলে এসেছেন মুস্তাফিজকে শুভেচ্ছা জানাতে। এর মধ্যে মাহবুব বলেন, ‘আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি মুস্তাফিজ ভাইয়ের সাথে দেখা করবো বলে কিন্তু এখনও ঘুমিয়ে আছে। ঘুম থেকে উঠলে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাসায় ফিরবো।’ ক্লান্ত মুস্তাফিজ বেলা ১১টায় ঘুম থেকে উঠে সকলের সাথে স্বাক্ষাত করেন। মুস্তাফিজের স্বাক্ষাৎ পেয়ে তুষ্ট হৃদয়ে বাড়ি ফেরে সব ভক্তরা।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 8 - Rating 6.3 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি

পাঠকের মন্তব্য (0)